ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

ইরান যুদ্ধ বদলে দিচ্ছে সৌদি কৌশল

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১১:০৩ এএম
ইরান যুদ্ধ বদলে দিচ্ছে সৌদি কৌশল
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এখন এক বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ব্রিটেনের প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধ সৌদি আরবের জন্য সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি যেমন বেড়েছে, তেমনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও সৌদি আরবের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এমনকি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার পেছনেও এই যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। এই পরিস্থিতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আগে সৌদি আরবের নীতি ছিল ধীর ও গতানুগতিক। সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো সবার মতামত নিয়ে। নীতিগুলো বেশির ভাগ সময়ই অনুমান করা যেত। কিন্তু ক্রাউন প্রিন্স ক্ষমতায় এসে দেশের ভেতরে পরিবর্তনের সূচনা করেন এবং আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। মাঝেমধ্যে তার কিছু অভাবনীয় সিদ্ধান্ত সৌদি আরবকে বিপদেও ফেলেছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ সৌদি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের গতি আবারও কমিয়ে দিয়েছে। তারা এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবছে। তারা বুঝতে পারছে, এই যুদ্ধের ফলাফল ফলাফল যা-ই হোক না কেন, এটি আগামী ২০ বছর এই অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর

সৌদি আরবের নতুন ভাবনার মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। এটিকেই এখন তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ দেশটির বেশির ভাগ তেল ও পণ্য এই পথ দিয়েই যায়। আগে থেকেই এই পথকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হতো। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে, এটি খুব কমই ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে, হরমুজ প্রণালি সৌদি আরবের জন্য বড় দুর্বলতার জায়গা। এটি বন্ধ থাকলে বাণিজ্যের পাশাপাশি তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনাও সফল হওয়া অসম্ভব।

যেহেতু একবার এই পথ বন্ধ হয়েছে তাই ভবিষ্যতে আবারও এমন হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এটি সৌদি আরবের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য বড় হুমকি। বারবার বা দীর্ঘ সময় ধরে এই পথে বাধা সৃষ্টি হলে আয় কমবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হবে। দেশটি স্থিতিশীল বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারবে না। অথচ ভিশন ২০৩০ সফল করতে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপদ সমুদ্রপথ জরুরি।

এ কারণে সৌদি আরব এখন তাদের ‘অর্থনৈতিক ভূগোল’ বা বাণিজ্যের পথগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে। তারা হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে লোহিত সাগরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। লোহিত সাগরের তীরের বন্দর, শিল্প এলাকা ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন তাদের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। দেশটির দুই দিকে দুটি উপকূল থাকায় প্রতিবেশীদের তুলনায় সৌদি আরব ভৌগোলিক সুবিধায় এগিয়ে। তারা এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলের প্রধান রপ্তানি ও লজিস্টিক হাব (কেন্দ্র) হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেদের এগিয়ে নিতে চায়।

এই পরিবর্তনের ফলে দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোকে তেল রপ্তানির দিক বদলাতে হবে। প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যা যুদ্ধের আগের রপ্তানির সমান। বর্তমানে তারা পূর্ব দিক থেকে পাইপলাইনে দিনে প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পশ্চিমে নিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে রপ্তানি হচ্ছে। যদিও বর্তমানে রপ্তানি কম, তবু সৌদি আরব তার উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ তাদের প্রতিবেশীদের তেল রপ্তানি এখনো পারস্য উপসাগরেই আটকে আছে। বর্তমানে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলার, যা যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ফলে তাদের অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে সৌদি আরব যদি নিজেকে এই অঞ্চলের একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র (হাব) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে এমন অবকাঠামো দরকার, যাতে লোহিত সাগর থেকে দেশের বড় শহরগুলোতে সহজেs পণ্যসহ, বিশেষ করে তেল আনা-নেওয়া করা যায়। যদিও এতে সময় বেশি লাগবে এবং খরচও বাড়বে। কিন্তু হরমুজ সমস্যার কারণে সৌদি আরবের সামনে অন্য বিকল্প খুব কম।

লোহিত সাগরের পথটিও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ইরানের মিত্র হুথি বিদ্রোহীরা এই পথে প্রায়ই জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। ফলে হরমুজ থেকে সরে লোহিত সাগরে গেলেও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি এড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

ইউএই-এর সঙ্গে নতুন টানাপড়েন

লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় সৌদি আরব সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চায় না। তারা যুদ্ধ আরও বাড়ানোর বিরুদ্ধেও অবস্থান নিচ্ছে। কারণ শক্তিশালী হামলা হলে তাদের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে হুথিরা আরও সক্রিয় হতে পারে। তখন বিকল্প রপ্তানি পথও হুমকির মুখে পড়বে।

এ কারণে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সৌদি আরব ও ইউএইর অবস্থান ভিন্ন। আবুধাবি বর্তমানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের খুব ঘনিষ্ঠ এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ইউএইর কর্মকর্তারা ইরানের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অংশীদারদেরও দোষ দিয়েছেন শক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর জন্য।
অন্যদিকে সৌদি আরব এখন ইসরায়েলকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। তাই আরব আমিরাতের অবস্থান তাদের কাছে অস্বস্তিকর। এই ভিন্ন অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এমনকি আরব আমিরাতের ‘ওপেক’ ত্যাগ করাকেও সৌদি আরব ভালো চোখে দেখছে না। যদিও সৌদি আরব এখনো ওপেকের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ থাকবে, তবুও ইউএই উৎপাদন বাড়ালে ভারসাম্য রাখতে ভবিষ্যতে সৌদিকে উৎপাদন কমাতে হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লোহিত সাগরে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার সৌদি আরবের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমিরাত এরই মধ্যে লোহিত সাগর ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে বন্দর ও সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে। এর মাধ্যমে তারা বাণিজ্য পথ ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে।

কৌশলগত পুনর্বিবেচনা

এই যুদ্ধকে সৌদি আরব ব্যয় পুনর্বিন্যাসের সুযোগ হিসেবে দেখছে। যুদ্ধের আগেই দেশটির মেগা প্রজেক্টগুলো পর্যালোচনা শুরু হয়েছিল। এখন যুদ্ধকে কারণ দেখিয়ে তারা বিনিয়োগ কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে। এতে ব্যর্থতার অভিযোগ এড়ানো যাচ্ছে।
এখন দেশীয় শিল্প খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি। সৌদি আরবের সার্বভৌম তহবিল (পিআইএফ) এখন বিদেশি বড় বড় প্রকল্প থেকে সরে আসছে। লিভ গলফ এবং নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন অপেরার মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগ কমানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশটি তাদের অন্যতম প্রধান ফুটবল ক্লাব ‘আল হিলাল’-এর একটি অংশের শেয়ার বিক্রিতেও সম্মত হয়েছে। অন্য তিনটি ক্লাব আল নাসর, আল আহলি ও আল ইত্তিহাদও বিক্রির তালিকায় আছে। এতে বোঝা যায়, তারা এখন খরচে আরও সতর্ক হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প কমাচ্ছে।

যুবরাজ সালমান সম্ভবত ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে বড় শিক্ষা পেয়েছেন। প্রথমত, হঠকারী সিদ্ধান্তের ফল ভালো হয় না; দ্বিতীয়ত, ‘দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়া’ বলে আসলে কিছু নেই। এ কারণেই তিনি ইরান যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে চান না। এমনকি জোরালো সমর্থনও দিচ্ছেন না। বরং সৌদি আরব এখন আবার সতর্কতা, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকে ঝুঁকছে।

লেখক: ড. নিল কুইলিয়াম জ্বালানিনীতি, ভূ-রাজনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো হিসেবে কর্মরত।

মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে একটি ট্রাক বিকল হওয়ার পর সুপেয় পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মুসলমানদের একটি উৎসবে যোগ দিয়ে মালি থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাদের কাছে থাকা পানি ফুরিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে নাইজারের আগাদেজ গভর্নরেট।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, ট্রাকের আরোহীরা একটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসব শেষে মালি থেকে নিজ দেশে ফিরছিলেন। যাত্রাপথে নাইজার ও আলজেরিয়ার মধ্যকার প্রধান ‘আসামাকা’ সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র থেকে ৮০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে পশ্চিমে ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে।

নাইজারের আগাদেজ গভর্নর এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভ্রমণকারীরা ওই সময় মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে আটকা পড়েন। চরম তাপমাত্রা এবং পানির কোনও উৎস বা সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় তাদের জন্য বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

কয়েকদিন ধরে ট্রাক চালক ও যাত্রীরা মিলে ট্রাকটি মেরামেতের চেষ্টা করেছে। কিন্তু চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ক্রমেই পানিশূন্যতা ও তৃষ্ণায় একে একে প্রাণ হারান অন্তত ৪৯ জন। ট্রাকের ভেতরে এবং এর আশেপাশে তাদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে গভর্নরের বিবৃতিতে।

ঘটনাস্থলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাঠানো উদ্ধারকারীদল মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে গণকবর দিয়েছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপমুখী যাত্রার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ট্রানজিট করিডোর হয়ে আছে সাহারা মরুভূমির এই অঞ্চল। প্রতি বছরই তীব্র গরম, পানির অভাব ও দুর্গম পরিবেশের কারণে এই পথে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’
প্রতীকী ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন গবেষকরা। এই ভ্যাকসিনটি ভাইরাসের বড় একটি গ্রুপকে ধ্বংস করতে পারে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো মহামারি প্রতিরোধে সাহায্য করবে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই দাবি করেছেন।

গবেষকরা জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এবারই প্রথম ভ্যাকসিনের মূল উপাদানটি সম্পূর্ণভাবে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এরপর সেটি মানুষের শরীরে ট্রায়াল বা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এর মধ্যে কোভিডের সব ভ্যারিয়েন্ট যেমন থাকবে, তেমনি পশুপাখির শরীরে থাকা অন্যান্য করোনাভাইরাসও থাকবে, যা ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে মহামারি ছড়াতে পারে।

এই কাজটির এখনো প্রাথমিক ধাপ চলছে। তবে গবেষক দলটি ইতোমধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ও ইবোলার জন্য আলাদা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে।

ভ্যাকসিনটি যেভাবে কাজ করে
সাধারণত প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো ভাইরাসের বর্তমান কোনো স্ট্রেন বা রূপ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। কিন্তু কেমব্রিজের গবেষকরা একটু ভিন্ন পথ বেছে নেন। বিভিন্ন নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে আগে থেকে রেকর্ড করা একগুচ্ছ করোনাভাইরাসের জেনেটিক কোড সংগ্রহ করেন তারা। 

এই জেনেটিক কোডগুলোকে বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এরপর এআই একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ ডিজাইন করে। অ্যান্টিজেন হলো ভ্যাকসিনের সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়। এআইয়ের ডিজাইন করা এই সুপার-অ্যান্টিজেন মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে এমনভাবে তৈরি করে, যাতে পুরো ভাইরাস পরিবার মিউটেশন বা রূপবদল করলেও শরীর তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। এমনকি পশু থেকে মানুষের শরীরে নতুন কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও এটি কাজ করবে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হীনি বলেন, ‘এটিই প্রথম এআইয়ের ডিজাইন করা কোনো অ্যান্টিজেন মানুষের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।’ প্রযুক্তিটির সাফল্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বিবিসি নিউজকে বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা, যা শুধু আজকের ভাইরাস থেকেই আমাদের বাঁচাবে না, বরং ভবিষ্যতে যে ভাইরাসগুলো পরবর্তী মহামারি বা রোগ ছড়াতে পারে, সেগুলো থেকেও সুরক্ষা দেবে। মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতিতে এটি একটি মৌলিক পরিবর্তন।’

ট্রায়ালের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ভ্যাকসিনটি নিরাপদ কি না, তা যাচাই করতে ৩৯ জন মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষা চালানো হয়। এরপর প্রায় ২০০ জনের ওপর দ্বিতীয় আরেকটি গবেষণা করা হবে, যা থেকে বোঝা যাবে এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কতটা ভালোভাবে প্রস্তুত করছে।

‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব এখনো ‘পরিমিত’ বা মাঝারি। তবে তা সত্ত্বেও এটি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের অধ্যাপক সল ফস্ট, যিনি এই ট্রায়ালের কিছু অংশ পরিচালনা করেছেন, তিনি বলেন, ‘ভাইরাস যখন দ্রুত রূপ পরিবর্তন করে, তখন সম্ভাব্য মহামারির জন্য ভ্যাকসিন ডিজাইনে এই প্রযুক্তিটি অনেক বেশি কার্যকর।’

কেমব্রিজের দলটি এখন একটি সর্বজনীন ‘সিজনাল ফ্লু’ ভ্যাকসিনের ওপর এনিম্যাল ট্রায়াল বা পশুর ওপর গবেষণা চালাচ্ছে, যা প্রতিবছর পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া তারা ‘এইচ৫এন১’ বার্ড ফ্লু ও ইবোলার মতো রক্তক্ষরণকারী জ্বরের ভ্যাকসিনের ওপরও কাজ করছে। কঙ্গোতে বর্তমানে ইবোলার এমন একটি প্রজাতির প্রাদুর্ভাব চলছে, যার কোনো ভ্যাকসিন নেই।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড এই গবেষণার প্রশংসা করে বলেন, এআই প্রযুক্তি ভ্যাকসিন গবেষণায় আমূল পরিবর্তন আনবে। এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন হবে তা আগে থেকেই অনুমান করতে পারবে। ফলে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ দ্রুত হবে ও মানুষের জীবন বাঁচবে।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান মন্ত্রী লর্ড ভ্যালেন্স একে ব্রিটিশ বিজ্ঞানের আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম মানব ট্রায়ালে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় এই কাজ ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে মানুষের কল্যাণে দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।’
সূত্র: বিবিসি

কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম
ফিরহাদ হাকিম | ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ফিরহাদ হাকিম।

শুক্রবার (৫ জুন) কলকাতা পৌরসভায় সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ফিরহাদ। কলকাতা পৌরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

ফিরহাদ কলকাতা পৌরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে এই ওয়ার্ড থেকেই তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে ফিরহাদ পৌরভোটে লড়েননি। ২০১৫ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব বিশ্বাস। ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর কলকাতার মেয়র হওয়ার পর ওই ওয়ার্ড থেকেই উপনির্বাচনে জিতে আসেন ফিরহাদ। ২০২১ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস ছয়েক আগেই পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লালবাড়িতে (কলকাতার পৌরসভার লালরঙা ভবন) তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

এসএন/

তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঘটে গেল এক বিরাট রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দুই শিবিরে বিভক্ত। দলের বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে প্রধান বিরোধী দলের নেতার স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র তিন দিন আগেই মমতা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তার একমাত্র নেত্রী। দল ভাঙার কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। তার এই লড়াই মূলত দলের ভেতরে থাকা ‘এক ব্যক্তির’ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন আগের মতোই তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকেন।

স্বভাবতই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, কে সেই রহস্যময় ব্যক্তি, যার কারণে আজ তৃণমূল কংগ্রেসে এই নজিরবিহীন ভাঙন ধরল? বাংলার রাজনৈতিক মহল এবং খোদ দলের অন্দরের মানুষ ভালো করেই জানেন, এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু কেন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই একজন মাত্র মানুষের বিরুদ্ধে এভাবে এককাট্টা হলেন? বিষয়টি বুঝতে হলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কাঠামো ও তার বিবর্তনকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের একক পরিশ্রমে বাংলায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের দুর্ভেদ্য দুর্গের পতন ঘটান, তার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। দ্রুত তাকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের এমপি এবং বর্তমানে দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ার সুবাদে দলে অভিষেকের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিনে দিনে আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। তাকে অলিখিতভাবে দলের প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হতে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার বহু পুরোনো ও বিশ্বস্ত সহকর্মীদের চেয়ে অভিষেককে বেশি ভরসা করতে শুরু করেন। এর ফলে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং সংগঠনের রাশ পুরোপুরি অভিষেকের মুঠোয় চলে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভালো ফলের পর অভিষেকের এই দাপট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যে দলটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে গড়ে তুলেছিলেন, তা ভেতর থেকে এভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছিল অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেরই পাননি।

তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার মতে, দলের অভিজ্ঞ নেতারা অভিষেকের এই আগ্রাসী এবং করপোরেট ধাঁচের দল চালনা পদ্ধতি একদমই মেনে নিতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আবেগের বন্ধন। অন্যদিকে অভিষেক তৃণমূলের চিরাচরিত ‘নিচ থেকে ওপরে’ ওঠার রাজনীতির বদলে ‘ওপর থেকে নিচে’ নিয়ন্ত্রণ চাপানোর নীতি চালু করে। রাজনীতিতে যুক্ত হয় ডেটাচালিত কৌশল এবং ক্ষমতার জবরদস্তিমূলক আধিপত্য। ফলে দল থেকে দিদির সেই পরিচিত মানবিক স্পর্শ হারিয়ে যায়, আর তার জায়গা নেয় শুষ্ক পরিসংখ্যান ও দর-কষাকষির সংস্কৃতি। দলের একজন প্রবীণ নেতা মমতা ও অভিষেকের এই কার্যপদ্ধতির তুলনা করতে গিয়ে চমৎকার একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন হলেন রবীন্দ্রসংগীত, আর অন্যজন হলেন ডিজে মিউজিক।’

অভিষেকের এই আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একধরনের দূরত্ব ও অহংকার। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায়, সাধারণ কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিধায়কদের পক্ষেও অভিষেকের সঙ্গে দেখা করা ছিল একপ্রকার অসম্ভব। বহু নেতাকে তার বিলাসবহুল বাড়ির বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো, এরপর হয়তো বার্তা আসত যে সাক্ষাৎ সম্ভব নয়। অথচ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা ছিল অনেক সহজ।

আজ যখন বিধানসভা নির্বাচনের এক মাসের মাথায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে, তখন দলের ভেতরের সব আঙুল উঠছে একজনের দিকেই—তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীরা এখনো প্রকাশ্যেই বলছেন যে দিদিই তাদের নেত্রী এবং তারা দিদির নির্দেশেই চলতে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য সংস্কৃতি তারা আর কোনোমতেই বরদাশত করবেন না। সূত্র: এনডিটিভি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে দুজন সিরীয় ও দুজন বাংলাদেশি।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-কে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এনএনএ জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়া জেলার আব্বা ও আল-দুওয়াইর শহরের মধ্যবর্তী ওয়াতা আব্বার আল-মাশাল এলাকায় দুই দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।