ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় পরিস্থিতি এখনো কাটেনি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৭২ ঘণ্টা পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে। দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে ছয় দশক ধরে মূলত দুই দলের আধিপত্য থাকলেও এবার সেই ধারায় বড় ধাক্কা দিয়েছেন চলচ্চিত্র তারকা সি জোসেফ বিজয় বা থালাপতি বিজয়।
তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগাম (টিভিকে) প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের দুই প্রধান শক্তি দ্রাবিড় মুনেত্রা কাঝাগাম (ডিএমকে) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগাম (এআইএডিএমকে) মিলেও ১০০ আসনের কম পেয়েছে।
তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বিজয়ের দল ১০ আসন পিছিয়ে রয়েছে। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জটিলতা। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিজয় সরকার গঠনের দাবি জানাবেন এবং পরে ছোট দলগুলোর সমর্থন জোগাড় করবেন। কিন্তু গত বুধবার রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি আরলেকারের সঙ্গে বৈঠকে সে পরিকল্পনায় বাধা আসে।
সূত্র দাবি করেছে, রাজ্যপাল বিজয়ের প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হননি। গত বৃহস্পতিবার আবার বৈঠকে বিজয়কে জিজ্ঞেস করা হয়, মাত্র ১১৩ বিধায়ক নিয়ে কীভাবে তিনি সরকার চালাবেন। রাজ্যপাল নাকি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি ছাড়া তিনি শপথ নিতে পারবেন না।
এদিকে টিভিকে এই অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটির বক্তব্য, সংবিধান অনুযায়ী সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয় বিধানসভায়, রাজ্যপালের কাছে নয়। এই অবস্থানে টিভিকে সমর্থন দিয়েছে বামপন্থি দল কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট) এবং ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি। যদিও এই দলগুলো ডিএমকে জোটের অংশ, তবু তারা টিভিকের সঙ্গে সম্ভাব্য সমর্থন নিয়ে আলোচনা করছে।
ভিসিকে নেতা থল. থিরুমাভালাভান বলেন, ‘আমরা সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের অংশ। তবে টিভিকেকে সমর্থনের প্রশ্নে এক-দুই দিনের মধ্যে আলোচনা করব।’ তিনি আরও বলেন, রাজ্যপালের উচিত বিজয়কে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডিএমকেও রাজ্যপালের অবস্থানের সমালোচনা করেছে। দলটি বলেছে, জনগণের রায়কে অসম্মান করা হচ্ছে। অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসানও বিজয়ের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘১০৮ আসন জেতা দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ না জানানো মানে জনগণের রায়কে অপমান করা।’
বর্তমানে কংগ্রেসের পাঁচটি আসন টিভিকের সঙ্গে রয়েছে। বাম দল ও ছোট তামিল দলগুলোর সমর্থন পেলে বিজয়ের জোট ১১৯ আসনে পৌঁছাতে পারে। তবে বিজয় নিজে দুটি আসনে জয় পাওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে। ফলে সংখ্যা নেমে আসবে ১১৮-তে, যা ন্যূনতম সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
তাই টিভিকে বাড়তি সমর্থন খুঁজছে। সম্ভাব্য একটি উৎস হতে পারে পাত্তালি মাক্কাল কাচি (পিএমকে), যাদের চারটি আসন রয়েছে এবং যারা বিজেপির মিত্র। অন্যদিকে আরেকটি সম্ভাবনা হলো টিভিকে ও এআইএডিএমকের জোট। তবে এটিকে এখনো কম সম্ভাবনাময় ধরা হচ্ছে।
নির্বাচনি প্রচারে বিজয় মূলত ডিএমকে ও বিজেপিকে আক্রমণ করলেও এআইএডিএমকেকে তুলনামূলকভাবে কম নিশানা করেছিলেন। এতে দলটির কিছু অংশ টিভিকের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী হয়েছে বলে আলোচনা চলছে।
খবরে বলা হয়েছে, এক ডজনের বেশি এআইএডিএমকে বিধায়ক টিভিকেকে সমর্থনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং এ নিয়ে চাপ তৈরির জন্য পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান করছেন।
তবে এআইএডিএমকে নেতারা সি ভি শানমুগাম ও কে পি মুনুসামি জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, এসব খবর গুজব। বিজয়ও নাকি এআইএডিএমকের সঙ্গে জোটে খুব একটা আগ্রহী নন। কারণ দলটির সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অভিযোগ অস্বীকার করেছে যে তারা রাজ্যপালকে প্রভাবিত করছে। দলটির মুখপাত্র নারায়ণ থিরুপাতি বলেন, ‘এটি একটি বিভক্ত জনরায়। টিভিকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। যদি তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারে, তা হলে রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবেই তা মেনে নেবেন।’ সূত্র: এনটিভি