আজ ৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে লক্ষ্মীপুর শহরের বাগবাড়ি এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সর্বশেষ ঘাঁটিটি দখলে নেন মুক্তিযোদ্ধারা। এর মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর হানাদারমুক্ত হয়।
এদিকে হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে সকালে বাগবাড়ি শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময়, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং মসজিদ ও মন্দিরে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পুরো সময় লক্ষ্মীপুরে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এ দেশীয় দোসররা হত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগ চালায়। লক্ষ্মীপুর শহরের মাদাম ব্রিজ, বাগবাড়ি, দালাল বাজার গার্লস হাইস্কুল, মডেল হাইস্কুল, মদিন উল্যা চৌধুরী (বটু চৌধুরী) বাড়ি, পিয়ারাপুর বাজার, মান্দারী মসজিদ, প্রতাপগঞ্জ হাইস্কুল, রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসা, এল এম হাইস্কুল, ডাকাতিয়া নদীর ঘাট, রামগতির চর কলাকোপা মাদ্রাসা, ওয়াপদা বিল্ডিং, আলেকজান্ডার সিড গোডাউন, কমলনগরের হাজিরহাট মসজিদ, করইতলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, রামগঞ্জ গোডাউন এলাকা, রামগঞ্জ সরকারি হাইস্কুল, জিন্নাহ হল (জিয়া মার্কেট) ও ডাক বাংলো ছিল হানাদার এবং রাজাকার ক্যাম্প ও গণহত্যার স্থান। যুদ্ধের ৯ মাসে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে ৩৭টি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধারা। এর মধ্যে প্রতাপগঞ্জ হাইস্কুল, মান্দারী মসজিদ, মাদাম ঘাট, বাগবাড়ি, দালাল বাজার, কাজীর দিঘীর পাড়, কাফিলাতলী, পানপাড়া, মিরগঞ্জ, পদ্মা বাজার, মঠের পুল এবং রামগঞ্জের হাইস্কুল সড়ক ও আঙ্গারপাড়া, চর কলাকোপার দক্ষিণে জমিদার হাট সংলগ্ন এলাকায়, করুণানগর, হাজির হাট, আলেকজান্ডার এবং রামগতি থানা ও ওয়াপদা বিল্ডিং এলাকা, রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসা ও এল এল হাইস্কুল এলাকায় অধিকাংশ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ সময় ৩৫ মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন। এ ছাড়া মুক্তিবাহিনীর হাতে শত শত হানাদার ও রাজাকার নিহত হয়। জেলায় শহিদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১১৪।
আরও জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা যুদ্ধ হানাদারের জন্য আতঙ্কের কারণ ছিল। ৪ ডিসেম্বর ভোরে শহরের বাগবাড়িতে হানাদার বাহিনীর সর্বশেষ ও প্রধান ঘাঁটিতে মুক্তিযোদ্ধারা ত্রিমুখী আক্রমণ চালান। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন রফিকুল হায়দার চৌধুরীর মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ, অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামানের গ্রুপ ও মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আব্দুল মতিনের গ্রুপ। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের খবর পেয়ে আগেই হানাদার বাহিনীর সদস্যরা ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে ওই ঘাঁটিতে থাকা দুই শতাধিক রাজাকার আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
জেলায় শহিদ ৩৫ বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- মনসুর আহমেদ, রবীন্দ্র কুমার সাহা, আলী আজম, লোকমান মিয়া, জয়নাল আবেদিন, মোহাম্মদ হোসেন, আবদুল বাকির, জহিরুল ইসলাম, আহাম্মদ উল্লাহ, আবদুল মতিন, মাজহারুল মনির সবুজ, চাঁদ মিয়া, নায়েক আবুল হাশেম, মো. মোস্তফা মিয়া, নুর মোহাম্মদ, রুহুল আমিন, আবুল খায়ের, আবদুল হাই, মমিন উল্যা, আবু ছায়েদ, আব্দুল হালিম বাসু, এসএম কামাল, মিরাজ উল্ল্যা, মো. আতিক উলাহ, মো. মোস্তফা, ইসমাইল মিয়া, আবদুল্লাহ, আবুল খায়ের ভুতা, সাহাদুলা মেম্বার, আবুল কালাম, মোস্তাফিজুর রহমান, বেনু মজুমদার, আলী মোহাম্মদ, শহীদ নজরুল ইসলাম ও আবদুল রশিদ।