ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

সুবিধা বহাল থাকছে সরকারি চাকরিজীবীদের

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:১৬ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০২:১৯ পিএম
সুবিধা বহাল থাকছে সরকারি চাকরিজীবীদের

আগামী অর্থবছরেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৫ শতাংশ হারে সাধারণ ইনক্রিমেন্টের পাশাপাশি মূল বেতনের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ (ন্যূনতম ১ হাজার টাকা) প্রণোদনাও বহাল থাকছে। এ সুবিধা সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও পাবেন।

আগামী বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তারা চলতি বাজেটে দেওয়া সুবিধা আগামী অর্থবছরে স্থগিত রাখার প্রস্তাব করেন। তবে এ প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরের মহলের নির্দেশে আমলে আনা হয়নি। 

সাবেক তত্ত্বধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মো. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার আর্থিক সংকটে রয়েছে। অনেক খাতের খরচ কাটছাঁট করা হচ্ছে। অর্থ সংগ্রহে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য এই চাকরিজীবীদের সুবিধা স্থগিত করলে ভালো হবে। তবে সরকার কোনো সুবিধা দিয়ে তা প্রত্যাহার করলে বা স্থগিত করলে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ডলারসংকট দেখা দেয়। আর এতে বছর দুয়েক ধরে দেশের বাজারে পণ্যসংকট দেখা দেয়। বাজারে প্রায় সবকিছুর দাম বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দিতেই সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা দেওয়া হয়। 
রপ্তানি প্রণোদনাসহ বিভিন্ন খাতের প্রণোদনার হার প্রতিবছরের বাজেটে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘোষিত সরকারি চাকরিজীবীদের এই প্রণোদনা সরকার বাতিল না করা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। 

চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৫ শতাংশ হারে সাধারণ ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে প্রণোদনা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই-বাছাই করে মূল বেতনের অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়। 

সূত্র জানায়, আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ থাকতে পারে ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতায় বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ আছে ৭৭ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। বেতন-ভাতার পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা ও গ্রাচ্যুইটিতে বরাদ্দের অর্থ যোগ করলে আগামী অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ ছিল ৮০ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ কমিয়ে ৭৭ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় প্রকৃত ব্যয় ছিল ৬৩ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) এ খাতে প্রকৃত ব্যয় ছিল ৬২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।

সরকারি কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন কমিশন অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এ বেতন কমিশন প্রণীত হয়েছিল। 

এ কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছিল, আর নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হবে না। প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বাড়ানো হবে। এ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী চললেও চলতি বছর দ্রব্যমূল্য অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার সুবিধা বাড়ানো হয়। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি হিসাব অনুযায়ী, দেশে সরকারি কর্মচারী ১৪ লাখ। বিভিন্ন করপোরেশন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে হিসাব করলে প্রায় ২২ লাখ। সরকারি চাকরিতে ২০টি ধাপ (গ্রেড) রয়েছে। প্রথম ধাপে বেতন-ভাতা পান সচিবরা।

সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০২:০৯ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০২:১১ পিএম
সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত
ছবি : খবরের কাগজ

রিমালের ধকল কাটতে না কাটতেই সমুদ্র বন্দরগুলোকে আবারও সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেট দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সূত্র জানায়, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: হতে পারে ১০ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০১:১৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: হতে পারে ১০ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামীকাল শুক্রবার নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট শুক্রবার (২১ জুন) দুপুর ২টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১-২২ জুন নয়াদিল্লিতে অবস্থান করবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই নিকট প্রতিবেশীর সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা রয়েছে। এর মধ্যে যেসব চুক্তি বা সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেগুলোর কয়েকটি আবারও নবায়ন হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক সামনে রেখে সফরের বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে দুইপক্ষ কাজ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে বেশি গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তার বিষয়। মায়ানমার পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট, ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য মনিপুরে সংকট, এ অঞ্চলে চীনের প্রভাবসহ সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হবে।

এ ছাড়া বৈঠকে গুরুত্ব পাবে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। দুই দেশেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, জ্বালানিসহ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কীভাবে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এ ঝুঁকি মোকাবিলা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা যায় সে বিষয়টি আলোচনায় থাকবে। এ কারণে ভারতের ঋণচুক্তি বাস্তবায়নে নতুন রূপরেখা চুক্তি বা বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। 

অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, জ্বালানি, নতুন প্রযুক্তিসহ নানা বিষয়ে শীর্ষ বৈঠকে আলোচনা হবে। এ ছাড়া মহাকাশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিষয়গুলো সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ও ঋণ সহায়তার মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। 

বুধবার (১৯ জুন) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে এমওইউ ও চুক্তি স্বাক্ষর শেষে দুই নেতা বিবৃতি দেবেন।

এরপর সেখানেই (হায়দরাবাদ হাউস) রয়েছে মধ্যাহ্নভোজ। হায়দরাবাদ হাউস ত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। 

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার আয়োজনও রয়েছে এই পর্বে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন নরেন্দ্র মোদি।

দুই দিনের সফর শেষে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অমিয়/

প্রাণিসম্পদের আজিজুল সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:০৪ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:০৪ পিএম
প্রাণিসম্পদের আজিজুল সাময়িক বরখাস্ত
মো. আজিজুল ইসলাম

সহকর্মীকে মারধরে রক্তাক্ত করায় অভিযুক্ত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সেই জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (লিড, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভ) মো. আজিজুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

বুধবার (১৯ জুন) এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেখানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দরের সই রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঢাকায় ডেপুটেশনে কর্মরত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আজিজুল ইসলামকে (লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভ পদ) সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি অনুযায়ী, বুধবার (১৯ জুন) থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ১৩ জুন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মলয় কুমার শূরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সহকর্মী আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ডিএমপির শাহবাগ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মলয় কুমার শূর।

দেশে ফিরেই মুখ খুলবেন আছাদুজ্জামান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১০:২৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১০:৩০ এএম
দেশে ফিরেই মুখ খুলবেন আছাদুজ্জামান
ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের পর এবার আলোচনায় এসেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। দুইজনের সম্পদ অর্জনের বিষয়টি নিয়ে গোটা দেশ যখন সরগরম তখন তার সম্পদ অর্জনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে খোদ পুলিশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বেনজীর ও আজিজকে নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে তার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এল। আছাদুজ্জামান এই মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে প্রচুর সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে। 

তিনি নিজের নামে ছাড়াও স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের নামে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সম্পদ কিনেছেন। পুলিশের এই সাবেক কর্মকর্তার সম্পদ বৈধ কি না তা নিয়ে খোঁজ শুরু করেছে মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দারা। কারণ, এর আগে বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি গণমাধ্যমে আসার পর পুলিশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এবার নতুন করে সাবেক ডিএমপি কমিশনারের সম্পদের বিষয়টি আলোচনায় এল। ইতিমধ্যে বেনজীরের সম্পদ ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বেনজীর বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। 

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, অনেক আগে থেকেই আছাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের বিষয়টি কানঘুষা থাকলেও কেউ তা অভিযোগ করার সাহস পাননি। তিনি প্রভাবশালী ডিএমপি কমিশনার ছিলেন। ২০১৪ সালের বিরোধী দলের ঢাকার আন্দোলন দমনে সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। অনেকটা দাপটের সঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। 

জানা গেছে, আছাদুজ্জামানের স্ত্রী আফরোজা জামানের নামে ঢাকার ইস্কাটন এবং ধানমান্ডি এলাকায় ২টি ফ্ল্যাট আছে। তারা ওই দুই ফ্ল্যাটে থাকেন না। আরও জানা গেছে, আফরোজার নামে বসুন্ধরা এলাকায় এল ব্লকের লেন-১-এ ১৬৬ এবং ১৬৭ নম্বরে ১০ কাঠা জমির ওপর ছয়তলা একটি বাড়ি রয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি আছে। ওই তিন জেলায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে আরও ১৬৬ শতক জমি আছে। তার মেয়ের নামে আরও একটি ফ্ল্যাট ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ঢাকার পাশের নতুর শহর পূর্বাচলের নিউ টাউনের ১ নম্বর সেক্টরের ৪০৬/বি রোডে ১০ কাঠা জমির খোঁজ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও রামপুরার আফতাবনগর ৩ নম্বর সেক্টরের এইচ ব্লকের ৮ নম্বর রোডে ৩৬ নম্বর প্লটে ২১ কাঠা জমির খোঁজ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও নিকুঞ্জ-১ এর ৮/এ রোডের ৬ নম্বর বাড়িটি আছাদুজ্জামানের ছোট ছেলে আসিফ মাহাদীনের নামে। 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তার সব সম্পদ বৈধ আয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা। কয়েক দিন পর তিনি দেশে ফিরে বিস্তারিত জানাবেন। 

আছাদুজ্জামান মিয়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩৩তম কমিশনার ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি ডিএমপি কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। সিভিল সার্ভিস ক্যাডারের ৮৫তম ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি পুলিশে যোগদানের পর সুনামগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরে রেলওয়ে পুলিশ সুপার ছিলেন। বগুড়ায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সিও, নোয়াখালীর পুলিশ প্রশিক্ষণ সেন্টার, খুলনা, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও হাইওয়ে রেঞ্জের- উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তার নিয়োগের ৩ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। নতুন করে তার নামে আর কোনো চুক্তি নবায়ন করেনি সরকার। ডিএমপি কমিশনার হওয়ার সময় নিয়মিত গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও তিনি এ পদ থেকে চলে যাওয়ার পর অনেকটা নীরবে-নিভৃতে নিরাপত্তা সেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান গতকাল সন্ধ্যায় খবরের কাগজকে জানান, দুদক সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সম্পদের অনুসন্ধান করবে। 

আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস দেশের কাঁধে ১০ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০১:০০ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৫৬ পিএম
দেশের কাঁধে ১০ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা
প্রতীকী ছবি

প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচর দ্বীপে বসবাস করছে। এ হিসাব গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বড় আকারে শরণার্থী আসার পর থেকে সংকটটি এখন সপ্তম বছরে পৌঁছেছে। সরকার মানবিক কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অস্থায়ীভাবে গ্রহণ করেছে। 

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা হচ্ছে বহুদিন ধরেই। তবে মায়ানমারের বর্তমান অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে বলে জাতিসংঘের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘শরণার্থীদের সঙ্গে সংহতি’।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের দৃষ্টিভঙ্গি আরও সহায়তামূলক থাকবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মায়ানমারে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানকালে শরণার্থীদের জীবনযাপনে মানবিক দিকগুলো নিশ্চিত করাসহ যখনই সম্ভব তাদের সমাধান খোঁজার জন্য কাজ করবে। 

বিশ্ব শরণার্থী দিবস হলো একটি আন্তর্জাতিক দিবস যা প্রতি বছর ২০ জুন জাতিসংঘ পালন করে। এটি সারা বিশ্ব থেকে উদ্বাস্তুদের সম্মান করার জন্য সাজানো হয়েছে। দিবসটি প্রথম চালু হয় ২০০১ সালের ২০ জুন উদ্বাস্তু অবস্থা সম্পর্কিত ১৯৫১ সালের কনভেনশনের ৫০তম বার্ষিকীর স্বীকৃতিস্বরূপ। এই দিবসের লক্ষ্য হলো শরণার্থীদের শক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া যারা তাদের দেশের সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে এসেছেন অভয়ারণ্য খুঁজে পাওয়ার এবং একটি উন্নত জীবনযাপনের আশায়।