ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ভারতে সাজাভোগের পর তামাবিল দিয়ে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ? আবারও কমল সোনার দাম, নতুন দর কত? ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে দেশে ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে: চট্টগ্রামের ডিসি বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল শিশু গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে প্রেমিকার আত্মহত্যা শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬ রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত বিদেশি কোচদের চোখে নতুন ইতিহাস ল্যাবএইডে ডেঙ্গুবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত আবেগের বিয়েতে ঝুঁকিতে পড়ছে মেয়েরা শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বরিশাল বিভাগে ৫ বছরে নদীগর্ভে বিলীন ১২০ বর্গ কিমি ভুট্টা চাষে বিপর্যয়, চাষিদের স্বপ্ন এখন পচে-গলে পড়ে আছে মাঠে বড় বাজেট, বড় ঘাটতি, বড় চ্যালেঞ্জ ১০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল
Nagad desktop

একসঙ্গে ইফতারেই পূর্ণতা

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৫, ১০:৫৩ এএম
আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৫, ১১:৩৪ এএম
একসঙ্গে ইফতারেই পূর্ণতা
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে তরমুজ বিক্রেতাদের ইফতার। ছবি: খবরের কাগজ

রমজান মাসের ব্যস্ত বিকেল। ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলো গাড়ির হর্ন আর মানুষের কোলাহলে মুখরিত। দিনের ক্লান্তি, যানজট আর কাজের চাপ উপেক্ষা করেই কর্মব্যস্ত মানুষজন প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইফতারের। কেউ অফিস থেকে ফিরছেন, কেউবা এখনো কাজ শেষ করেননি। সময়ের অভাবে অনেকে বাসায় ফিরতে পারেন না। ফলে রাস্তার পাশের ফুটপাতই হয়ে ওঠে তাদের ইফতার করার স্থান।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) আগারগাঁও, কলেজগেট, শ্যামলী, ফার্মগেট, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও কাওরান বাজার এলাকাতেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

এসব জায়গায় রাস্তার ধারে ফুটপাতে জমে উঠেছে ইফতারের আয়োজন। কোনো স্থায়ী ছাদ নেই, নেই আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা তবু ইফতারের আয়োজনে কোনো কমতি ছিল না।

আগারগাঁও মোড়ে ফুল মার্কেটের ফুটপাতে কয়েকজন পত্রিকা বিছিয়ে ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই ওই মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী। জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘সারা বছর তো আর এমন সুযোগ আসে না। তাই রমজান মাসে সবাই একসঙ্গে ইফতার করি। আসলে একসঙ্গে সবাই ইফতার না করলে পূর্ণতা আসে না।’

রাস্তার ধারে ফুটপাতে বসে ইফতার করছিলেন রিকশাচালক আবদুল মালেক। হাতে ছোলা, বেগুনি, পেঁয়াজু আর একটি কলা। দাম জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘এই কয়টা আইটেম ৪০ টাকা দিয়ে কিনলাম। পানি বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছি।’ তার পাশেই বসে থাকা দিনমজুর নুরুল ইসলাম জানালেন, ‘কাজ শেষে ইফতার কিনতে টাকা বেশি থাকে না। ঈদে পরিবারের কেনাকাটার জন্য কিছু অতিরিক্ত টাকা সঞ্চয় করছি।  তাই ইফতারের জন্য কম বাজেট রাখি।’

প্রতিদিন কোথায় ইফতার করা হয় জানতে চাইলে আরেক রিকশাচালক শামীম আলী জানালেন, ‘দিনভর রাস্তায় থাকি, বাসায় গিয়ে ইফতার করা সম্ভব হয় না। তাই যেখানে সন্ধ্যা হয়, সেখানেই ইফতার করি।’

তবে জিয়া উদ্যান ও সংসদ ভবনের আশপাশে দেখা গেল অন্য চিত্র। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কেউ কেউ একসঙ্গে খোলা আকাশের নিচে বসে ইফতার করছেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘রমজানে একদিন বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে ইফতার করার চেষ্টা করি। খোলা বাতাসে বসে ইফতার করলে অন্যরকম শান্তি লাগে।’

বিকেল হতেই ফুটপাতের ছোট দোকানগুলোর ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপিসহ নানা পদের ইফতারি সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। পথচারীরা দ্রুত কিনে নেন প্রয়োজনীয় খাবার। কেউবা ফুটপাতেই একটু ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে ইফতারের বন্দোবস্ত করছেন।

ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের ইফতারসামগ্রী বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘বিক্রি ভালো হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করি কম দামে ভালো খাবার দিতে, যাতে সবাই ইফতার করতে পারেন।’ তার দোকানে ছোলা ভুনা (হাফ প্লেট ৩০ টাকা, ফুল প্লেট ৬০ টাকা), পেঁয়াজু (প্রতি পিস ৫-১০ টাকা), বেগুনি (৫-১৫ টাকা), জিলাপি (২০০-৩০০ টাকা প্রতি কেজি) পাওয়া যায়।

ফার্মগেটের খামারবাড়ি মোড়ে বিক্রি হতে দেখা গেছে হালিম, জিলাপি, জালিকাবাব, নানরুটি, শামিকাবাব, চিকেন চাপ, শিককাবাবসহ ইফতারসামগ্রী। দোকানের বাইরে বিকেল থেকে মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তারা বলছেন, ‘সন্ধ্যার কিছু সময় আগে সবকিছু গরম পাওয়া যায়, তাই সেসময় ভিড় জমে।’

ইফতারসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতা আবদুল হালিম। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই ইফতারসামগ্রী বিক্রি করি। মানুষ সাধারণত আসরের নামাজ পড়ে ইফতারসামগ্রী কিনতে আসতে শুরু করেন। ইফতারের এক ঘণ্টা আগে থেকে ভিড় জমতে শুরু করে। আর আধা ঘণ্টা আগে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। সবচেয়ে বেশি বিক্রির তালিকায় রয়েছে পেঁয়াজু, ছোলা, মুড়ি আর বেগুনি। জিলাপিও কিনেন বেশির ভাগ মানুষ। দাম তুলনামূলক নাগালের মধ্যে। তাই কেনাবেচাও ভালো।’

সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা
ছবি: খবরের কাগজ

সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (১০ জুন) আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে জানানো হয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এটি আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের বাকি অংশে বিস্তার লাভের জন্য অনুকূল অবস্থায় রয়েছে।

অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

অনার্স কোর্স থেকে বাংলা, দর্শন ও ইতিহাসের মতো মৌলিক বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ সংক্রান্ত ছড়ানো গুজবের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় অনার্স কোর্স থেকে বাংলা, দর্শন ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার মতো কোনো আলোচনা আমাদের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কোথাও হয়নি। এমনকি আমার জানামতে এমন কোনো প্রস্তাবও নেই। এগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন তথ্য।’

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান সংস্কার ও অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছি। যুগের চাহিদা এবং বৈশ্বিক বাজারের যে চাহিদা, সেই অনুযায়ী নতুন নতুন সাবজেক্ট ও কোর্স কারিকুলামে যুক্ত করা হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমির মধ্যে সংযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, বাজার চাহিদার আলোকে নতুন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা বা কারিকুলামের আধুনিকায়নের সাথে ঐতিহ্যবাহী ও মৌলিক বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কাউন্সিলে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কারিকুলাম পরিমার্জন ও শিক্ষক সংকট দূরীকরণের কাজ চলমান রয়েছে।

ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

নাঈম/

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয়

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয়
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ইসলামের দোহাই দেওয়া সব বিষয়ে মোটেও সমীচীন নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।

কারও নাম উল্লেখ না করে ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একবার দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে, তার যে যাতনা হচ্ছে সেটা তারা বুঝতে পারছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে’ আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এই নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের জনাব ফখরুল ইসলাম ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে, তকবরে লিল্লাহ দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে। এই যাতনা তো আমরা বুঝি মাননীয় স্পিকার।’

এ প্রসঙ্গে আলোচনায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকে কী কী অনিয়ম হয়েছে, তার তালিকা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।<p>

৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং পরে মালামাল বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুষ্টু লোকেরা বলে, সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে।

নাবিল গ্রুপকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার ব্যাংক লাইবিলিটি (দেনা) হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর বিরুদ্ধে তদন্ত কেন হচ্ছে না? সে জন্য তদন্ত হবে।

ইসলামী ব্যাংকের হেড অফিসের (প্রধান কার্যালয়) অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে একটি গ্রুপকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সোশ্যাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে করিয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তকবির দিয়ে ব্যাংক দখল করার পর যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাঁদের সংখ্যা হচ্ছে ৯ হাজার। কোনো আইন–কানুন না দেখিয়ে তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ছয় হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাই একটি রাজনৈতিক মতাবলম্বী। ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যারা যেই ক্যাটাগরি থেকে প্রমোশন পেয়ে যে ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা নয়, তিনটা করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনিয়মগুলো তো হয়েছে মাননীয় স্পিকার। ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তোবা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।’

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারধারীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা তারা কীভাবে খরিদ করেছে দ্যাট ইজ ডিফারেন্ট ডিবেট (সেটা আলাদা বিতর্ক)। সেটা দুদকের তদন্ত হতে পারে, মামলা হতে পারে। বাট শেয়ারহোল্ডার ইজ শেয়ারহোল্ডার (তবে শেয়ারধারীরা শেয়ারধারী)।

এসএন/

পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয়

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয়
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২-এ ২ দশমিক ৪৯ মেগাওয়াট পিক (MWp) ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) সিস্টেম চালুর পর এক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা কমেছে। গত মে মাসের সাড়ে ৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল চলতি জুন মাসে নেমে এসেছে মাত্র ৭৫ হাজার টাকায়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২-এ উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে দিনের বেলায় সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সার্ভিস এরিয়ার নিজস্ব চাহিদা পূরণ করার পর অতিরিক্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। রাতে বা মেঘলা দিনে গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুতের সঙ্গে দিনের বেলায় সরবরাহকৃত বিদ্যুতের হিসাব সমন্বয় করা হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্ভিস এরিয়া-২-এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে চলতি জুন (২০২৬) মাসে মূল বিদ্যুৎ বিল শূন্য টাকা এসেছে। শুধুমাত্র ডিমান্ড চার্জ বাবদ ৭৫ হাজার ৭১৪ টাকা বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। অথচ এর আগের মাস মে-তে বিদ্যুৎ বিল ছিল ৫ লাখ ২১ হাজার ৬৪ টাকা।

মে মাসে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ৩৪ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে ৫৪ হাজার ইউনিট। ফলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অনুকূলে ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রয়েছে।

সেতু বিভাগ জানিয়েছে, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১, সার্ভিস এরিয়া-২ এবং সার্ভিস এরিয়া-৩ মিলিয়ে মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৬ দশমিক ০৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে সার্ভিস এরিয়া-১ এবং সার্ভিস এরিয়া-৩-এ নেট মিটারিং কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, পদ্মা সেতুর মতো জাতীয় স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই প্রয়োগ কেবল বিদ্যুৎ বিলের খরচই কমাচ্ছে না, বরং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি মেডিকেল-ডেন্টাল ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য একটি যৌক্তিক ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিপিএস-এর পরীক্ষা ফি কমানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আন্দোলনরত ইন্টার্ন ও পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি পরিপত্র ও অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখার সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে জানানো হয়, ৮ জুনের মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কমিটি
এদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অপর এক অফিস আদেশে জানানো হয়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজসমূহের এন্ট্রি লেভেলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য একটি যৌক্তিক, সমন্বিত ও সম্মানজনক বেতন কাঠামোর খসড়া তৈরি করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আহ্বায়ক এবং এই অধিদপ্তরের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা), স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল)-কে।

সিনিয়র সহকারী সচিব সঞ্জীব দাশ স্বাক্ষরিত এই আদেশে কমিটিকে আগামী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান বেতন-ভাতা পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ খসড়া প্রতিবেদন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার ফি যৌক্তিকীকরণের নির্দেশ
একই দিনে মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক আরেকটি চিঠিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর আওতাধীন বিভিন্ন কোর্সের পরীক্ষার ফি দ্রুততম সময়ের মধ্যে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উক্ত চিঠিতে বলা হয়, ৮ জুনের যৌথ বিবৃতির আলোকে বিসিপিএস এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিসিপিএসের অনারারি সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে ইন্টার্ন ও পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই যৌথ সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলো। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন