কনটেইনার জট কমাতে চার গুণ স্টোর রেন্ট (কনটেইনার রাখার জন্য প্রযোজ্য ভাড়া) এক মাসের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বন্দরের পরিবহন বিভাগের পরিচালক এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
এতে বলা হয়, চলতি বছরের ১০ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দর এবং ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে ও পানগাঁও আইসিটিতে চার গুণ হারে স্টোর রেন্ট আরোপ করা হয়। তবে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান ও বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম গতিশীল রাখার স্বার্থে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানিকৃত এফসিএল কনটেইনারের (যখন একজন আমদানিকারক পুরো কনটেইনারটি বুক করেন) ওপর চলমান চার গুণ স্টোর রেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। তবে খালি কন্টেইনারের ক্ষেত্রে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে না। বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের দ্রুত কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জানা গেছে, জাহাজ থেকে নামানোর পর আমদানি পণ্যের কনটেইনার চার দিন বন্দর ইয়ার্ডে বিনা ভাড়ায় রাখার সুযোগ পান আমদানিকারকরা। এরপর থেকে ইয়ার্ডে কনটেইনার রাখতে গেলে আমদানিকারককে ইয়ার্ড ভাড়া দিতে হয়, যা স্টোর রেন্ট নামে পরিচিত। নিয়ম অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে বিনা ভাড়ার অর্থাৎ চার দিন পর প্রথম সাত দিনের জন্য প্রতিদিন ২০ বর্গফুট একক কনটেইনারের জন্য ৬ ডলার ও ৪০ বর্গফুট একক কনটেইনারের জন্য ১২ ডলার, পরবর্তী সাত দিনের জন্য প্রতিদিন ২০ বর্গফুট কনটেইনারের জন্য এককপ্রতি ২৪ ডলার ও ৪০ বর্গফুট কনটেইনারের জন্য ৪৮ ডলার এবং তৃতীয় ধাপে ২১তম দিন থেকে প্রতিদিন ২০ বর্গফুট কনটেইনারের জন্য ৪৮ ডলার এবং ৪০ বর্গফুট কনটেইনারের জন্য ৯৬ ডলার করে ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু গত ১০ মার্চ থেকে আমদানিকারকরা এ ভাড়া চার গুণ বেশি পরিশোধ করে আসছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ৪১ হাজার ২৮২ টিইইউএস কনটেইনার রয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। আমদানি কনটেইনার দ্রুত খালাস ও বন্দরের জট ঠেকাতে চার গুণ বাড়তি স্টোর রেন্ট এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।