সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ বাতিল করা হলেও বেসরকারি স্কুল-কিন্ডারগার্ডেনে থেমে নেই এসব বিষয় পড়ানোর উদ্যোগ। এ দুই বিষয়ের শিক্ষক পদ বাতিলের পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। প্রাথমিকে যারা শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষা বিষয়ে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তাদের সন্তানরা তো ঠিকই বেসরকারি স্কুলে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা পড়ছে। তাহলে কেন এই বৈষম্যের বীজ?
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাঙলাদেশ লেখক শিবির ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের আয়োজনে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ বাতিলের প্রতিবাদে ও তা পুনর্বহালের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে শিক্ষক-লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে লেখক ও শিক্ষক চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্তে আমি ব্যথিত। প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায়ে বা মন্ত্রিপরিষদে নেওয়া হয়নি। অত্যন্ত সুকৌশলে সচিব পরিষদে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রে দুর্নীতি ও অদক্ষতার বিষয়টি বেশ সমালোচিত। তবে একটি বিষয়ে তাদের দক্ষতার কমতি নেই, যেখানে কোনো কিছু ঠেকাতে হবে, তারা সেখানে সুকৌশলে ঠেকিয়ে দেন।’
তিনি বলেন, ‘এটি সামগ্রিকভাবে সরকারের দায়। যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে তারা তো দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এখানে তো সমাজের উঁচু শ্রেণির লোকদের সন্তানরা পড়ে না। কিন্তু ইংরেজি মিডিয়ামসহ কিন্ডারগার্টেনে তো এসব পড়ানো হচ্ছে, এগুলো বন্ধ করার ক্ষমতা কি তাদের আছে?’
লেখক ও প্রকাশক আফজালুল বাসার বলেন, ‘প্রাথমিকে আমাদের দেশের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানরা পড়েন। আর ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ে ধনী শ্রেণির সন্তানরা। তাদের জন্য মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবার সব আয়োজনই রয়েছে। অথচ প্রাথমিকে এই বিষয় বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় সমাজের উঁচু শ্রেণি আমাদের হতদরিদ্র ছেলেমেয়েদের বঞ্চিত করতে চায়।’
শিক্ষাকে আনন্দময় করার দাবি জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে কথাসাহিত্যিক পাভেল চৌধুরী বলেন, ‘একজন মানুষের জীবনে একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রাথমিক শিক্ষা। এখন প্রশ্ন হলো- ওই শিক্ষা কষ্টের হবে, না-কি আনন্দময় হবে! শিক্ষাকে যদি আমরা আনন্দময় করতে চাই, তাহলে সংগীত দরকার, শরীরচর্চা দরকার। এর একটি বাদ দিলে শিক্ষা গ্রহণের পরিপূর্ণতা আসে না।’
সমাবেশে প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকের পদ পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। একই দাবি জানিয়ে অন্যদের মধ্যে বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি কাজী ইকবাল, চিত্র পরিচালক ও সংস্কৃতিকর্মী আকরাম খান, ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়, অ্যাডভোকেট মনেয়ার হোসেন, উজ্জ্বল বালোসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।