চাকরির পেছনে দীর্ঘদিন ছুটেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি মাদারীপুরের তরুণ শাহান্দার হাওলাদার। তবে হতাশ না হয়ে তিনি বেছে নেন কৃষি পেশা। ইউটিউব দেখে আধুনিক আমচাষের কৌশল শিখে গড়ে তোলেন বাণিজ্যিক আমবাগান। বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের পূর্ব মাদ্রা গ্রামের বাসিন্দা শাহান্দার হাওলাদার ২০১৫ সালে লেখাপড়া শেষ করার পর দীর্ঘদিন চাকরির চেষ্টা করেন। একের পর এক চেষ্টা করেও চাকরি না পাওয়ায় তিনি বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় ইউটিউবে আধুনিক কৃষি ও আম চাষবিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে প্রায় চার একর জমির ওপর গড়ে তোলেন একটি বাণিজ্যিক আমবাগান। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হলেও ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করেন তিনি।
বর্তমানে তার বাগানে রুপালি ও হিমসাগর জাতের উন্নতমানের আম উৎপাদিত হচ্ছে। বাগান পরিচর্যা ও অন্য কাজে প্রতিদিন প্রায় ১২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ফলে নিজের স্বাবলম্বীর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মাদারীপুর জেলায় ৩৫৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৭৮ মেট্রিক টন উৎপাদন ধরে জেলার মোট আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে বলে আশা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
মাদ্রা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক রাকিব হাসান জানান, শাহান্দার এলাকার তরুণদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে চাকরির পেছনে না ছুটেও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে সফল হওয়া সম্ভব।
আমবাগান মালিক শাহান্দার হাওলাদার বলেন, ‘চাকরি না পেয়ে একসময় অনেক হতাশ ছিলাম। পরে ইউটিউব থেকে আমচাষের বিভিন্ন বিষয় শিখে কাজ শুরু করি। প্রথম দিকে অনেক কষ্ট ছিল। তবে এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাদারীপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ শাশ্বতী ছন্দা দেবনাথ বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর মাদারীপুরে গত বছরের তুলনায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। শাহান্দার হাওলাদার আমাদের এখান থেকে পরামর্শ নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, আম চাষ অনেক লাভজনক। যারা বেকার আছেন তারা ইচ্ছা করলে আমাদের এখান থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে বাগান করতে পারেন। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে থাকে।