ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন এমপি আমির হামজা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয় ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা মিরপুরে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৩ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? জামালপুরে মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাদকের আখড়া মুন্সীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও তার মাকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১ এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ ফরিদপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার
Nagad desktop

নতুন সড়ক নির্মাণের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী রক্ষা জরুরি: রিজওয়ানা হাসান

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫২ পিএম
আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০৬ পিএম
নতুন সড়ক নির্মাণের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী রক্ষা জরুরি: রিজওয়ানা হাসান
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবি: খবরের কাগজ

নতুন সড়ক নির্মাণের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী রক্ষায় বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
 
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অর্থায়ন কৌশল প্রণয়ণ’ শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী এবং জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘নদীভাঙন এলাকা, লবণাক্ত অঞ্চল এবং খরাপ্রবণ এলাকা থেকে শত শত আবেদন আসে, কিন্তু অল্প কিছু সমর্থন সম্ভব হয়। জলবায়ু অর্থায়ন সংস্কারে স্থানীয় জনগণের চাহিদা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন।’ 

তিনি বলেন, ‘দ্রুত তহবিল বিতরণ, সঠিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সুরক্ষায় সক্ষম তহবিল কাঠামোই এখন জরুরি। জলবায়ু বাজেটের আকারও হতাশা জনক। দেশীয় পরিস্থিতিতে তিনি অসম বাজেট বরাদ্দের বিষয়টিও তুলে ধরেন।’  

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সর্বনিম্ন বাজেট বরাদ্দ পায়, অথচ বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। অভিযোজন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পর্যায়ের স্থিতিস্থাপকতা পর্যাপ্ত অর্থায়ন পায় না।’

তিনি বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক খাতে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খরচকে জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে দেখানো হলে দায়বদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও কার্যকর জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকার বিষয়েও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।’

তিনি বলেন, ‘শুধু অর্থ দিলেই হবে না, সংস্থাগুলোর পরিকল্পনাগত দক্ষতা, কর্মী সক্ষমতা এবং দ্রুত বাস্তবায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে। সচেতনতামূলক সামগ্রী প্রকাশ করতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। প্রক্রিয়াই যদি লক্ষ্য হয়ে যায়, তবে ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হবেই।’
তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। কয়েকটি দেশ প্রতিশ্রুতি পালন করলেও অনেকে জলবায়ু আলোচনাকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি মূলত নতুন ও অতিরিক্ত সহায়তার নীতির ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতি শিথিল হয়েছে। জলবায়ু সংকটে দায়ী অনেক উন্নত দেশ এখনও বৈজ্ঞানিক সত্য অস্বীকার করে। এই অস্বীকার জলবায়ু অর্থায়নকে জটিল ও অন্যায্য করে তোলে। নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জলবায়ু উন্নয়ন অংশীদারত্বের (বিসিডিপি) কথাও বলেন।’ 

তিনি বলেন, ‘বিসিডিপিকে কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশীয় অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রকল্প উন্নয়ন এবং তদারকি, এই চার ওয়ার্কিং গ্রুপের মধ্য দিয়ে কৌশলগত দিকনির্দেশনা তৈরি হওয়া উচিত। 

তিনি জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া পুনর্গঠিত হয়েছে। এখন বেসরকারি সংস্থাগুলো প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে আবেদন করতে পারবে। এতে একদিকে সরকারি সংস্থা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা পাবে, অন্যদিকে নাগরিক সমাজ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারবে। 

সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ ইন্টারন্যাশনালের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায়ও প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ উপদেষ্টা। 

ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বন সংরক্ষণে দুটি যুগান্তকারী আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। এসব আইন প্রাকৃতিক বনে নতুন করে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করেছে এবং বন নির্ভর জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শিগগিরই জলাভূমি সংরক্ষণ আইনও পাস হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমান বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে উপদেষ্টা বলেন, ‘সভাস্থল সাভারকে ইতোমধ্যে পরিবেশগতভাবে অক্ষয়িত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বহু বছর ধরে বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে। এটি এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়, তবে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে৷ এ ধরনের অবনমিত অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে পুনর্বাসনের কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এলাকায় দূষণকারী ইটভাটা ও অন্যান্য ইউনিট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানান্তর করা হচ্ছে। শ্রমিকরা কর্মহীন হবেন না, তারা নতুন নির্ধারিত স্থানে কৃষি-সম্পৃক্ত কাজে যুক্ত হবেন।’

১১ দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৬২ দেশের ৮৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন কঠিন
মানবাধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত “সবার জন্য ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার” শীর্ষক অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিলেন উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশের ক্ষেত্রে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পেরেছি। বন ও পরিবেশ অধিকার রক্ষাতেও অগ্রগতি হয়েছে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেশকে কীভাবে পরিচালনা করবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে অন্তত মত প্রকাশের যে পরিসর তৈরি হয়েছে, তাতে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া আগের মতো সহজ থাকবে না। এখন বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোতে সংস্কার চলছে। তবে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সময়, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।’

তিনি বলেন, ‘একটি অর্থবহ নির্বাচন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। আমরা বিশ্বাস করি সমাজের সব স্তরের মানুষ এতে অংশ নেবেন।’

জয়ন্ত/নাঈম

জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে নারায়ণগঞ্জে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জনাব সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: ছবি খবরের কাগজ

জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি জানান, বিশেষ করে নারীদের উন্নয়ন চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণসহ অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি রোগী পরিবহনে   হেলিকপ্টার ব্যবস্থাপনা সংযুক্ত করা হচ্ছে।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল থেকে ১০টি জেলার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি জানান, সরকার হাম মোকাবেলা দেশে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয়েছে৷ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ইতোমধ্যে মোবাইল হাসপাতালে প্রস্তুতও রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এ পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে ২০টি হাসপাতাল হবে। এর মধ্যে নারীদের জন্য দুটি দেড় হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। বাকি ১৮টি হাসপাতাল হবে এক হাজার শয্যার। এসব হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস, স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার চিকিৎসা, পঙ্গুত্ব পুনর্বাসন, মাতৃসেবা ও সাধারণ চিকিৎসার সুবিধা থাকবে।

তিনি জানান, প্রতিটি হাসপাতালে অত্যাধুনিক পাঁচটি করে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য চারটি হেলিকপ্টার সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮০ হাজার হবেন নারী।

তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বিল্লাল হোসাইন/আজহার

সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার
বেনজীর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

রবিবার (১৪ জুন) পুলিশ সদরদপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা দুপুরে গণমাধ্যমকে তথ্য নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে,  ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন । এ সময় তাকে বিদেশে অবস্থানরত উল্লেখ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয় । এরই প্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরে বেনজীর আহমেদ বিদেশে অবস্থান করছিলেন। গত বছরের ৪ মে তিনি তার স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন । এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায়ও সম্পদ খোঁজার প্রক্রিয়া চলছিল ।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিলে আইজিপির দায়িত্ব পান। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় ।

অন্তরা/

প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার
ছবি: খবরের কাগজ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট রুখতে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে সরকার। এখন থেকে ঢাকায় বসে নয়, শিক্ষক বদলির সিদ্ধান্ত হবে স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত পৃথক কমিটির মাধ্যমে। আর এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে থাকবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে এক সেমিনারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই নতুন বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার কথা জানান।

শিক্ষা খাত বিশ্লেষণবিষয়ক এই কর্মশালার আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলো। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, অতীতে শিক্ষক বদলি একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শিক্ষকদের এই ভোগান্তি কমাতে এবং বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এই বড় সংস্কার করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর বৈঠক করে বদলির আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করবে।

বদলি হবে যেভাবে

উপজেলা পর্যায়:

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নেতৃত্বে ৪ সদস্যের কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। এরপর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বদলির আদেশ জারি করবেন।

জেলা, বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন:

এই পর্যায়গুলোতে ৫ থেকে ৬ সদস্যের কমিটি থাকবে। সিটি কর্পোরেশন, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের কমিটিতে যথাক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বদলির আদেশ জারি করবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই বদলি প্রক্রিয়াকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি তার বক্তব্যে মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরেন।

কর্মশালায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়ন্ত সাহা/আমান

২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম
২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আগামী এক বছর দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। চলতি বছরের ২৫ মে থেকে শুরু হয়েছে এই উৎসব চলবে, তা চলমান থাকবে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘নজরুল বর্ষ’পালনের ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিগত ১৭ বছরে বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান সেভাবে উপস্থাপিত হয়নি। বর্তমান সরকার কবির সাহিত্যকর্ম ও দর্শনকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়েও নজরুলের সৃষ্টি সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে বক্তব্যে স্মরণ করা হয়।

নজরুল বর্ষের মূল কর্মপরিকল্পনা

১. জাতীয় পর্যায়ে নজরুল বর্ষ পালনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন।
২. নজরুল বর্ষের জন্য বিশেষ লোগো, পোস্টার এবং ক্যালেন্ডার প্রণয়ন।
৩. স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ।
৪. ১৮-২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত ও বিশেষ উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন। এই আয়োজনের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে ইতিমধ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
৫. কবির সাহিত্যকর্ম, সংগীত ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
৬. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরুলের সৃষ্টিকর্মকে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জয়ন্ত সাহা/অন্তরা/

সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ‘সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই। '

‘আমরা প্রায়শই শুনতাম, বাংলাদেশকে আমরা সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলবো, বাংলাদেশকে আমরা কানাডা বানিয়ে ফেলবো, বাংলাদেশকে অমুক বানিয়ে ফেলব। আমি বাংলাদেশকে অন্য কিছু বানাতে চাই না। বাংলাদেশকে আমি একটু বেটার বানাতে চাই। সেই কাজটি সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, আমাদের সবাইকে মিলে করতে হবে।'

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারে স্থানীয় একটি অভিজাত হোটেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

কক্সবাজার শহরকে ‘পরিচ্ছন্ন নগরী’ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার শহরে প্রবেশের সময় একটা বিরাট বড় সাইনবোর্ড দেখেছি, ওখানে লেখা আছে ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সী বিচ, স্যান্ডি সী বিচ’। আপনারা সকলে মিলে কক্সবাজারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই কক্সবাজারকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে আপনাদের সবাইকে কিন্তু এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন একটি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।'

তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, কক্সবাজারকে আপনারা সুশৃঙ্খল একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, যেখানে সবগুলো যান শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে, সুন্দরভাবে পার্কিং করবে, সুন্দরভাবে চলাচল করবে, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলাচল করবে। যেখানে মানুষ হাঁটার সময় নিরাপদ বোধ করবে।'

বিগত ১৭ বছর কেন কক্সবাজারের কোনো উন্নয়ন হয়নি-প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ফেরার পর গত সাড়ে চার মাসে আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি এবং বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, যে কাজগুলোর কথা বলা হচ্ছে, এই কাজগুলো ১৭ বছর হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি।'

কক্সবাজার বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তর করা, কক্সবাজারে মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্যগণ ও বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে, প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখেন। রাত সোয়া ১২ টার দিকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।