মেট্রোরেলের কর্মচারীদের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন (সার্ভিস রুল) করতে বিশেষ বোর্ড সভা ডেকেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড- ডিএমটিসিএল।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে মেট্রোরেলের এমআরটি -৬ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) আহসান উল্লাহ শরিফী খবরের কাগজকে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মেট্রোরেল কর্মচারীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে দিনভর। তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ডিএমটিসিএল-এ বিশেষ বোর্ড সভা ডাকা হচ্ছে।
কখন এই বোর্ড সভা শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সভায় তো ডকুমেন্টেশনের কিছু বিষয় থাকে। সবকিছু প্রস্তুত করে খুব শিগগির এই বোর্ড সভা আহ্বান করা হবে।
বিক্ষোভরত কর্মীদের সঙ্গে ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ যোগাযোগ রাখছেন বলে জানান শরিফী।
ডিএমটিসিএলের বোর্ড সভার একজন পরিচালকও খবরের কাগজকে বলেন, তারা দু-তিনদিনের মধ্যে বিশেষ সভা করবেন। স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ করার দাবিতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড- ডিএমটিসিএল-এর কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মো. ফারুক আহমেদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করছেন। তাদের একটি জরুরি সভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় শুক্রবার থেকে টানা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন মেট্রোরেল কর্মীরা। তারা সব ধরনের যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে সার্ভিস রুল ঘোষণার আলটিমেটাম দিয়ে মেট্রোরেলের নবম থেকে বিশতম গ্রেডের কর্মচারীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা বলেছেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে সার্ভিস রুলের ঘোষণা না এলে শুক্রবার থেকে সব ধরনের যাত্রী পরিষেবা থেকে তারা বিরত থাকবেন।
বুধবার রাতে মেট্রোরেল কর্মচারীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে তাদের কর্মবিরতির কর্মসূচি শুরু হবে।
মেট্রোরেল কর্মীরা মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ঘোষণার এখতিয়ার রাখেন না বলে জানান উপ-প্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) আহসান উল্লাহ শরিফী। তিনি বলেন, মেট্রোরেল চলবে কি চলবে না, এটি সিদ্ধান্ত নেবে ডিএমটিসিএলের অপারেশনস বিভাগ। কোনো কর্মী সংক্ষুব্ধ হয়ে যদি বলেন যে মেট্রোরেল চালাবেন না, তার কথায় তো আর মেট্রোরেল বন্ধ থাকবে না।
মেট্রোরেল পরিচালনা ছাড়া অন্য সব ধরনের যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডিএমটিসিএলের কর্মচারীরা। এতে প্রায় ৪ লাখ যাত্রীকে শুক্রবার থেকে ভোগান্তি পোহাতে হবে। যাত্রীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে মেট্রোরেল কর্মীরা এমন সিদ্ধান্ত থেকে যেন সরে আসেন, সেটি এখন বোঝানো হচ্ছে।
খবরের কাগজের কাছে আসা একটি ছবিতে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ডিএমটিসিএল এমডি ফারুক আহমেদ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে মেট্রোরেল ভবনের বাইরে আসেন।
মেট্রোরেলের ১৪তম গ্রেডের একজন কর্মীর সঙ্গে তখন ফোনে কথা হচ্ছিল এই প্রতিবেদকের। সেই কর্মী জানান, সেসময় কয়েকজন কর্মচারী তার সঙ্গে কথা বলতে যান। তবে অধিকাংশ কর্মচারী ‘সার্ভিস রুল চাই, চাই’ বলে এক দফা দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
জয়ন্ত সাহা/সুমন/