ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় সিবিউন দিউ, সঞ্জয় চিসিম এবং ফয়সালকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত পারাপারে সহায়তাকারী সিবিউন ও সঞ্জয়কে তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিরা কারাগার থেকে আদালতে হাজির ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মতিঝিল আঞ্চলিক টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে পৃথক দুইটি আবেদন দাখিল করেছিলেন।
সিবিউন ও সঞ্জয়কে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে লোক পারাপারকারী চক্রের হোতা ফিলিপের অবস্থান শনাক্ত করা, হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে তার যোগাযোগ, হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা ও অর্থদাতাদের তথ্য সংগ্রহ, এবং অন্য সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে তাদের পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
নরসিংদী থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ফয়সালের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়ার তথ্য অনুযায়ী, আসামির দেখানো স্থান থেকে পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে। এ অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহকারী, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ, ইন্ধনদাতা শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ফয়সালকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সহকারী পিপি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
গত ১৮ ডিসেম্বর সিবিউন ও সঞ্জয়কে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল। এরপর ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে ২৬ ডিসেম্বর তারা কারাগারে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, ১৬ ডিসেম্বর নরসিংদী সদর মডেল থানা এলাকার তরুয়ার বিলে অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে আটক করে র্যাব-১১। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পানি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন: ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী (উজ্জ্বল), ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন ও সঞ্জয়, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং নরসিংদীর ফয়সাল।
ফয়সালের বাবা-মা, স্ত্রী, বান্ধবী ও শ্যালক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিনজন ছাড়াও রাজু রিমান্ডে আছেন। অন্যান্যরা বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ হাদির মাথায় গুলি করা হয়। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মরদেহ ১৯ ডিসেম্বর দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর বিকেল ৩:৩০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের শরিফ হাদির হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। হাদির মৃত্যু হলে মামলায় দণ্ডবিধি ৩০২ ধারা সংযোজিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২১ ডিসেম্বর ফয়সালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তার আটটি ব্যাংক একাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া, ২২ ডিসেম্বর শহিদ শরিফ হাদির ডিএনএ নমুনা প্রোফাইলিং সিআইডি-তে সংরক্ষণের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, হত্যার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও তার সহকারী আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়েছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে।
উজ্জ্বল/রিফাত/