ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি! বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০ ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক লালমনিরহাটে ৩ সীমান্ত পয়েন্টে পুশইন ব্যর্থ, লোকজন ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন চন্দনাইশে দ্রুতগামী অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা নওগাঁ সীমান্তে ১৭ ব্যক্তিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিল বিএসএফ গাইবান্ধায় দুই ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাইজদীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে পুলিশে দিল ছাত্রদল রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন
Nagad desktop

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: তারেক রহমান
বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সারা দেশে জুয়া ও মাদক বিস্তারের অন্যতম কারণ আইনশৃঙ্খলার অবনতি। সুতরাং জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। 

বক্তব্যের শুরুতে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘হাজারও প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদার মুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’ 

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি বার্তা দিতে চাই, মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।’ 
রমজানকে মুনাফা লাভের মাসে পরিণত না করার আহ্বান 

রামজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসকে মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি, তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।’ 

তারেক রহমান বলেন, হাজারও প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সবক্ষেত্রেই অনাচার-অনিয়মের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর, ইনশাআল্লাহ।

ক্রেতা-বিক্রেতা-গ্রহীতা, এই সরকারের শক্তি বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র মাঝারি কিংবা ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীর প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা, উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এই ব্যাপারে আপনাদের যেকোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। 

নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ 

রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতার তারাবি সাহরি, এই সময়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় অফিস আদালতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস বিদ্যুৎ পানি খরচের ব্যাপারে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রসাধন প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। 
বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদেরকে দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। আমি বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি, বিএনপির সংসদীয় দলের এইসব সিদ্ধান্ত ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শেরই প্রতিফলন। 

রেল যোগাযোগ ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসা বাড়িতে থেকেও যাতে সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস আদালত ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারা দেশে রেল যোগাযোগব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল, নৌ-সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, সারা দেশে রেল যোগাযোগব্যবস্থার সহজ সুলভ এবং নিরাপদ করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে মাঠে ঘাটে অফিস আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না।’ 

যুবশক্তিকে সব রকমের সহযোগিতা করবে সরকার 

তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষজনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। আমরা নিজেদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্ব বাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত।’’ 

সরকারপ্রধান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং সচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদেরকে কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে। দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ যুবশক্তির উদ্দেশে বলতে চাই, মেধায় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সব রকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।

সরকারের প্রতি সবার অধিকার সমান

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছর ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম, দেশ এবং জনগণের জন্য ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার ‘প্ল্যান পরিকল্পনা’র অনেক কিছুই আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সব অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত ধর্ম-দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।’

শফিক/

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু মশার লার্ভা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, সেখানকার সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পরপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা জানান তিনি।

এবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের রক্তক্ষরণেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলন, ‘ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভয়াবহ। যার নাম হেমোরোজিক। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে হতে পারে রক্তক্ষরণও। সুতরাং আগে থেকেই সচেতন হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জরিপে এসেছে ডেঙ্গুর জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ২৮টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।’

জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব বলেও জানান প্রশাসক আবদুস সালাম।

আমান/

এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এআই ক্যামেরার ট্রাফিক জরিমানার নামে প্রতারক চক্রের ছড়ানো ভুয়া এসএমএস ও লিংক সম্পর্কে নগরবাসীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।

গত ২৪ মে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত বা প্রতারিত না হওয়ার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইদানিং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের ব্যাপারে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নগরবাসী এসএমএস পাচ্ছেন। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, প্রাপ্ত এসব এসএমএস সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অসত্য। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এআই বা ভিডিও মামলাসমূহ নিম্ন প্রক্রিয়ায় নিস্পত্তি করে থাকে:

১) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অমান্যকারী যানবাহনে মামলা দেওয়া হলে আপনার ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের/ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

২) কেবলমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ মোবাইল নাম্বার হতে প্রয়োজনে আপনার কাছে এসএমএস পাঠানো হবে।

৩) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক জরিমানাকৃত যানবাহনের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিং (উপায় এবং সিবিবিএল) এ পরিশোধ করা যায়।

৪) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কখনো কোনো পিনকোড, পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি ইত্যাদি জানতে চায় না। ট্রাফিক এআই বা ভিডিও মামলা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য ডেল্টা-৩, মোবাইল নং-০১৩২০ ০৪২২০৭ ও ০১৩২০ ০৪২২২৭ এবং ৯৯৯ যোগাযোগ করুন।

অমিয়/

ঢাকায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজ ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ঢাকার সঙ্গে আংকারা সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তুরস্ক ও বাংলাদেশ। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা নিয়েও ঢাকার সঙ্গে কথা হয়েছে।

তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকার একটি হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কী মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ ছাড়া গতকাল বিকেলে তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি এবং এটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে আরও বাড়াতে চাই। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে এটি বাড়ানো যায় তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন না নেওয়ায় প্রতিরক্ষা খাতে কী ধরনের সহযোগিতা বাড়ানো হবে তা তুরস্কের মন্ত্রী জানাননি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী দেশ, যার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি বিস্তৃত সহযোগিতা নেটওয়ার্ক রয়েছে। এটি গ্লোবাল সাউথের একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে অভিন্ন অবস্থান এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাংলাদেশ নিজ কাঁধে এক বিশাল মানবিক দায়িত্ব বহন করছে। দুর্ভাগ্যবশত, রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে। আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, বাংলাদেশ বছরের পর বছর ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সমগ্র মানবতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ প্রদর্শন করেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ এবং সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংহতি ও সমন্বয় করে কাজ করছি। আমরাও এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য নিবিড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন।

এ সময় ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অভিন্ন ইচ্ছা প্রদর্শন করতে হবে। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতির সময় নাশকতার জন্য ইসরায়েলের প্রচেষ্টা ঠেকানো অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিনে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ঠেকাতে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ভূমিকা পালন করে যাবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিসহ (পিটিএ) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক চলাকালে তুরস্কের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ড. খলিল বলেন, ‘আমরা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানাই এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এটি আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা, সমন্বয় এবং বোঝাপড়াকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।’

মন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জনগণের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, যৌথ সমৃদ্ধি, পারস্পরিক লাভজনক বিষয় এবং ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তুরস্কের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ে ভূমিকা পালন করে যাবে বাংলাদেশ।

ড. খলিল আরও বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি, হাকান ফিদান ভাইয়ের এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি আগামী দিনে সহযোগিতা গভীরতর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিতে ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে উভয় দেশ যৌথ অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তুরস্কের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা সম্পর্কে জানিয়েছি এবং সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

সফরকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা, দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত মানবিক সহায়তা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং শিবিরগুলোতে পরিচালিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালটিও ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এদিকে আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা চলমান থাকবে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শরণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাকান ফিদান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন রোহিঙ্গারা তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হলে তা বড় ধরনের গণ-অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে। তিনি বলেন, শুধু ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সিমেন্টের মতো নরম, ঠাণ্ডা ও সহনশীল। কিন্তু তারা গর্জে উঠলে ৫ আগস্ট ঘটিয়ে দিতে পারেন। শুধু ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে। গ্রাহকরা জীবন দেবেন, কিন্তু লুটেরাদের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলন কাকে বলে এবং কত প্রকার, তা দেখার জন্য প্রস্তুতি নিন। শুধু ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরাই আপনাদের তা দেখিয়ে দিতে পারবেন। সময় থাকতে এই বিপজ্জনক পথ থেকে সরে আসুন।’ তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক কারও ব্যক্তিগত বা সরকারি টাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি জনগণের অর্থ এবং কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ ঠিক রাখা আপনার দায়িত্ব। আপনার পাশে থেকে যারা তোষামোদ করছেন, তারা রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে জানেন না।’

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনাদের অনেক এমপি, কিন্তু কোথাও দেখলাম না হাম নিয়ে কথা বলতে। শুধু নতুন নতুন ইশতেহার দিচ্ছেন, বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাস্তব জীবনে কোনো ভালো কাজে তাদের দেখা যায় না।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এরশাদ ঢাকার বুকে গাজীপুরে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সহ্য করতে পারেননি। সেটি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ায় সরিয়ে নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরই তার পতন হয়েছে, যা করেন করেন, ইসলামির গায়ে হাত দেবেন না। ইসলামি নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হরতাল ডেকে তাদের বাসায় গিয়ে চা খেতেন। পুলিশকে ম্যানেজ করে ঝটিকা মিছিল করতেন। জামায়াত এ ধরনের আন্দোলন করবে না। সময় থাকতে এই বিপজ্জনক পথ পরিহার করে সঠিক পথে ফিরে আসুন। অন্যথায় আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে।’

জামায়াত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জামায়াতকে হিংসা করেন। আজ আমরা যে কাজ করলাম, সেটিও আপনাদের সহ্য হচ্ছে না। জামায়াতকে সহযোগিতা করুন। জামায়াত দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ বদলে যাবে।’

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, যুব বিভাগের সহসভাপতি ডা. মাঈনুদ্দীন, বনানী থানার আমির মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।

মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ
প্রতীকী ছবি

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে মব হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে এ ধরনের ৬৯টি ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭১ জন।

গত ৩১ মে প্রকাশিত এমএসএফের মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, মব হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।

সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মব হামলায় নিহত হন ২১ জন এবং আহত হন ৪৯ জন। মার্চে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৯ এবং আহত ৩১ জন। ফেব্রুয়ারিতে প্রাণ হারান ১৮ জন, জানুয়ারিতে ২১ জন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নিহত হন ১০ জন।

মব সহিংসতা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে কিন্তু প্রাণহানি কমেনি। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় এসেছে। গত ১০ মে পুলিশ সপ্তাহের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রয়োজন হলে মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

এমএসএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে মব হামলার ঘটনায় মানুষের নিরাপত্তাবোধ প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। 

মে মাসে নিহতদের মধ্যে ১৪ জন চুরির অভিযোগে, ৪ জন বাগবিতণ্ডার জেরে, ২ জন ডাকাতির অভিযোগে, ২ জন ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে, ২ জন বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে এবং বাকিরা অন্যান্য অভিযোগে জনরোষের শিকার হন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মব হামলায় আহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনকে পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।