ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের
Nagad desktop

ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের ভিড় অব্যাহত

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ এএম
ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের ভিড় অব্যাহত
ফিলিং স্টেশনে যানবাহনচালকদের দীর্ঘ লাইন। ছবি: খবরের কাগজ

সরকার দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনে যানবাহনচালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাননি। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কথা জানালেও ডিপো থেকে কম তেল পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্টেশনসংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী গতকাল সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত। তাই এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ। 

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ডিজেলের চাহিদা গড়ে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। আর অকটেন ও পেট্রল–এ দুটো আমাদের মাসে দরকার হয় প্রায় ৭০ হাজার টন। দৈনিক পেট্রল-অকটেন লাগে প্রায় ১ হাজার ২০০ টন এবং ডিজেল ১ হাজার ৪০০ টন। সংকট না থাকলেও পাম্পের চালকরা তেল পাচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন একই উত্তর দিচ্ছি–গত বছর যা সরবরাহ করেছি, এ বছরও তাই করছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে এখনো প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে। পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে, এটাও আমরা দেখছি। তবে স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো সংকট নেই।’

অবৈধ মজুত ও শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী ইতোমধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। কোম্পানির কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ কৃষকরা ডিজেল পাচ্ছেন না–এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আজকে সকালেও মন্ত্রী তিন এমডিকে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং আমি সকালবেলা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সভা করেছি। আমাদের ক্লিয়ার ইনস্ট্রাকশন হচ্ছে কৃষকদের সার ও ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ 

অন্যদিনের মতো গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় চালকদের দীর্ঘ লাইন। আসাদগেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ির লাইন ধানমন্ডি ২৮ নম্বর ছাড়িয়ে গেছে। এই পাম্পে কথা হয় চালক মো. জাকিরের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘৩ ঘণ্টা লাইনে থাকার পর এইমাত্র দেড় হাজার টাকার তেল পেলাম। এটা খুবই কষ্টকর। বেদনাদায়ক। এর অবসান হওয়া দরকার।’ 

এই পাম্পে মোটরসাইকেল আসে ইকবাল রোড হয়ে আসাদগেট দিয়ে। এ সময় মনিরুজ্জামান নামের এক চালক বলেন, ‘কোথায় লাইন শুরু করব প্রথমে বুঝতেই অনেক ঘুরতে হয়েছে। তারপর ইকবাল রোডে লাইন শুরু করি। ২ ঘণ্টার মতো লাইনে থাকার পর ৫০০ টাকার তেল পেলাম।’ 

অন্য চালকদেরও একই অভিযোগ। এখানে-সেখানে ঘুরে লাইন দিয়ে তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বয়ে যাচ্ছে। এ সময় ফিলিং স্টেশনের অপারেটররা বলেন, ‘আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তেল থাকলে দিচ্ছি। না থাকলে দিতে পারছি না। পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় চালকদের লাইন চন্দ্রিমা উদ্যান ছুঁয়ে গেছে। কিন্তু ফিলিং স্টেশন বন্ধ। এ ব্যাপারে তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার তন্ময় বারি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না। দেখা গেছে চাহিদা ৪০ হাজার লিটার, কিন্তু দিচ্ছে এর চেয়ে কম। এজন্য দিনের বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকছে পাম্প। এমন পরিস্থিতিতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ 

রাজধানীর তেজগাঁও, নীলক্ষেত, কল্যাণপুরসহ অন্য ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় অভিন্ন দৃশ্য। তেল না থাকায় সেগুলো বন্ধ ছিল। ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে যে তেল দিচ্ছে তা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রশি বা বাঁশ দিয়ে আটকে রাখতে হচ্ছে পাম্প। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে দেশে জ্বালানি তেল পেতে হাহাকার পড়ে যায়। সরকার বলছে তেলের কোনো সংকট নেই। এপ্রিল মাসেও তেলের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তার পরও ছোট হচ্ছে না চালকদের লাইন। 

সারা দেশেও দেখা গেছে জ্বালানি তেল না পাওয়ার একই চিত্র। ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দিচ্ছেন। অনেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন। গ্রেপ্তারও হচ্ছেন। পাম্পে ধাক্কাধাক্কি, হট্টগোল হচ্ছে। 

দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১১ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কাও রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্তরা/

কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সফরে গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেসরকারি বিমান ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে সকাল সাড়ে ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।  

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছে

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান।

এরপর একে একে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান পানি সম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

তার আগে সকাল পৌনে ৯টায় সরকার প্রধান গুলশানের বাসা থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

আমান/

 

কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

একদিনের সফরে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় সরকার প্রধান গুলশানের বাসা থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কক্সবাজারে যাচ্ছেন বিমানে। গুলশানের বাসা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

“বৃক্ষরোপণ, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে রাতে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।”

কক্সবাজার পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টায় পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন এবং সেখানে একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

আমান/

প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ
ছবি: সংগৃহীত

এক দিনের সফরে আজ শনিবার (১৩জুন) কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা ‘পাতলীখাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেবেন।

তার এ সফরকে ঘিরে জেলার সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা, রাজনৈতিক জনসভা এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।

সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর কক্সবাজারের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

পাতলী খালের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন। সেখানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সরকারের আগামী পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দেশব্যাপী একযোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পেকুয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

একই কর্মসূচিতে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিকেলে চকরিয়া উপজেলা বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে চকরিয়াজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মেরিন ড্রাইভ পরিদর্শন ও সুধী সমাবেশ জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। পরে সন্ধ্যায় জেলার বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সফরসূচির প্রতিটি কর্মসূচি নিরাপদ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও শেষ হয়েছে।

তারেকুর/আমান

লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা
কিডনি জটিলতায় কালিপদ দত্ত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা না পেয়ে স্বজনরা গতকাল তাকে রাজধানীর অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। ছবি: খবরের কাগজ

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে লাইসেন্স বাতিলের পর রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছেন রোগীরা।একই সঙ্গে যারা এখনো চিকিৎসাধীন, তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত হাসপাতাল খালি করার নির্দেশনা থাকলেও জটিল রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্বজনরা।

গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই ১৭৬ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল জানান, লাইসেন্স বাতিলের সময় ৪২৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এখন সেখানে প্রায় ২৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

অনিশ্চয়তায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীরা

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বর্তমানে বন্ধ থাকলেও ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য কোথাও স্থানান্তর করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্বজনরা।

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম এন্ডোস্কোপিক স্পাইন সার্জারির পর ১৫ দিন ধরে এখানে ভর্তি। তার বোনজামাই মো. আশরাফ আলী বলেন, ‘শ্যালককে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে শিফট করা হয়েছে। এখানে চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নই। তাকে অন্য কোথাও নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।’

মধুবাগের বাসিন্দা আব্দুল্লাহর নবজাতক এনআইসিইউতে ভর্তি। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় বাচ্চাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। আমরা চাই দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ করে দিলে সাধারণ রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।’

অন্যত্র ছুটছেন রোগী

গতকাল সকাল থেকেই হাসপাতালের করিডরে রোগীদের তাড়াহুড়ো দেখা গেছে। বাড্ডার বাসিন্দা সেলিনা আক্তার সন্তান প্রসবের জন্য এখানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধের খবর পেয়ে তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মালিবাগ থেকে আসা কিডনি রোগী কালিপদ দত্তকেও গতকাল দুপুরে সিরাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চিকিৎসা পাওয়ার আশায় এখনো অনেকে

হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার ওপর আস্থা রেখে এখনো অনেকেই এটি ছাড়তে চাইছেন না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমার শিশুসন্তানের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও আমি হাসপাতাল ছাড়তে চাই না।’ ফেনীর আলী হায়দার তার ৪০ দিন বয়সী শিশুকন্যার চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের ওপর ভরসা করে আছেন। তার আশা, কর্তৃপক্ষ আপিলের মাধ্যমে হাসপাতাল পরিচালনার সুযোগ পাবে।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্রুত রোগীদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ বলছে, চাইলেই সব রোগীকে এত দ্রুত স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী রবিবারের মধ্যে আমরা আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। আপিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।’

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ঈদুল আজহার আগের দিন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি ও এসি বন্ধ থাকাসহ কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জামায়াত আমিরের

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের পর আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছেন চিকিৎসাধীন রোগীরা। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালটি বন্ধের সিদ্ধান্তকে সঠিক হয়নিবলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়জন নবজাতকের মৃত্যুতে আমরা সবাই গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করি। ঘটনাটি অবশ্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার আজ হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে। এটি মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। জামায়াত আমির বলেন, তদন্তের মাধ্যমে কোনো অবহেলা, ত্রুটি কিংবা অপরাধ চিহ্নিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তা না করে যে হাসপাতালটি ‘গরিবের হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এবং মানসম্মত সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, আজ তারই লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত এর ক্ষতি জনগণেরই হলো।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে শত শত শিক্ষার্থী ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। হাসপাতাল বন্ধ হলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই ব্যক্তির অপরাধের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।