রাজনৈতিক কিংবা আর্থসামাজিক দিক থেকে স্বাধীনতা শব্দের অর্থ এক কথায় সব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া নয়। স্বাধীনতা অর্জনের অর্থ হচ্ছে- বৃহত্তর সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে বিরাজমান সব সমস্যার একে একে সমাধান খুঁজে বের করার চাবিকাঠি হাতের মুঠোয় পাওয়া। সেটা শ্রেণি সংগ্রামগত বৈপ্লবিক পথ ধরে যেমন হতে পারে, তেমনি আবার কিছুটা বিতর্কিত হলেও শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক মতামতের ওপর ভিত্তি করেও হতে পারে। সাধারণত বিতর্ক সৃষ্টি হয়ে থাকে সমাজে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থের প্রশ্নে। রাজা-প্রজা কিংবা মালিক ও শ্রমিকের স্বার্থ এক হতে পারে না। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রেও শাসক ও শাসিতের মধ্যে শ্রেণিস্বার্থগতভাবে বিশাল ব্যবধান থাকতে পারে। তবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের ভিত্তিতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কিংবা আর্থসামাজিক সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ ও আমেরিকার কোনো কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রেও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ব্যাপক আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার জন্য রক্তক্ষয়ী শ্রেণি সংগ্রামের প্রয়োজন পড়েনি। কিংবদন্তিতুল্য গ্রিক দার্শনিক প্লেটো একসময় বলেছিলেন, ‘মানুষের চরিত্র অনুযায়ীই রাষ্ট্র গড়ে ওঠে’।
বৃহত্তরভাবে একটি রাষ্ট্র পরিচিত হয়ে থাকে তার নাগরিকদের চিন্তা-চেতনা, আচার-ব্যবহার ও চরিত্র অনুযায়ী। তাছাড়া, একটি রাষ্ট্র ব্যর্থও হয় তার নাগরিকদের নৈতিক কিংবা চারিত্রিক স্খলন, দুর্নীতি ও অপকর্মের কারণে। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মূল্যবোধ যেখানে পদদলিত হয়, সেখানে একটি আদর্শ সমাজ কিংবা ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে উঠতে পারে না। মানুষই একটি সমাজ বা রাষ্ট্র গড়ার কারিগর। তাদের পরিচয়েই মূলত কোনো নির্দিষ্ট সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচিত হয়ে থাকে। তা ছাড়া সমাজ বা রাষ্ট্রের আর কোনো পরিচয় নেই। সে কথা প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে অতীতে যেমন গ্রহণযোগ্য ছিল, তেমনি রয়েছে এখনো। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী অর্থাৎ স্বাধীনতা-উত্তর বিগত ৫৫ বছর ধরে এ দেশের একটি নিবেদিতপ্রাণ জনগোষ্ঠী দুর্নীতি ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, মূলত রাজনীতিকদের কিংবা রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই তা আজও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই সংগ্রামী ছাত্র-জনতার দুর্বার গণ-আন্দোলন কিংবা গণ-অভ্যুত্থানের মুখে কয়েকবারই এ দেশে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু জনগণের ভাগ্য বদলায়নি। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের মানুষের একটি তথাকথিত রাজনৈতিক পরিচিতি অর্জিত হলেও আর্থসামাজিক দিক থেকে, যেমন: অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তথাকথিত রাজনৈতিক স্বাধীনতা এ দেশে একশ্রেণির মানুষের মধ্যে লুটপাট, শোষণ-বঞ্চনা ও আর্থসামাজিক দুর্বৃত্তায়নের পথ প্রশস্ত করেছে অকল্পনীয়ভাবে।
শ্রমজীবী মানুষের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি আর্থসামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বহুদিনের। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামল থেকে পাকিস্তানি সামরিক স্বৈরশাসকদের অপশাসন ও স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যে একদলীয় শাসন-শোষণ ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে পূর্বাপর সোচ্চার ছিলেন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের আপসহীন নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি এ অঞ্চলের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির পথ নিশ্চিত করার জন্য আমৃত্যু লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন। তার মৃত্যুর অব্যবহিত আগে, এ দেশে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের কারণে জনগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও এ দেশে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনাকারী সৈনিক জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করলে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি ও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার জন্য তৎপর হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। রাজনীতিকে তিনি গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে আর্থসামাজিক মুক্তি ও সমৃদ্ধির পথ হিসেবে নির্ধারণ করেন। তিনি কৃষির ক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লব ও শিল্পের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ গড়ে তুলতে যখন তৎপর হয়ে ওঠেন, ঠিক তখনই তাকে এক অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল। সেই রক্তমাখা পথ ধরে এক রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতার মধ্যে এগিয়ে এসেছিলেন শহিদ জিয়ার অকুতোভয় ও আপসহীন সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং শ্রমজীবী মানুষের আর্থসামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন অনেকটা পথ এগিয়ে গেছেন ঠিক তখনই কিছু বিদেশি শক্তির ক্রীড়নক একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এক-এগারোর মতো একটি গণবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে তুলে নেয়। তাতে এ দেশে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিকে ধ্বংস করে প্রগতিশীল ধ্যান-ধারণার কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কিংবা প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি প্রহসনে রূপান্তরিত হতে শুরু করেছিল। তখন থেকে দীর্ঘ দেড় দশক এ দেশে প্রকৃত অর্থে মানুষের গণতান্ত্রিক কিংবা মানবাধিকার বলে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। একটি গোষ্ঠীর ফ্যাসিবাদী শাসনে বিপন্ন হয়েছিল এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অধিকার। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এক জবাবদিহিহীন লুটপাটের রাজত্ব ও বিদেশি শক্তির তাঁবেদারি। সে অবস্থায় সুদূর লন্ডনে প্রবাসজীবন থেকে ২৩ জুলাই ২০২৩-এ বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে একটি ৩১ দফা কর্মসূচি জাতির সামনে হাজির করেন। যুগান্তকারী সে কর্মসূচি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক পরিকাঠামোর অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানী ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছিল এক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান, যা এ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত এক চরম ফ্যাসিবাদী সরকারকে ২০২৪-এর জুলাই মাসে উৎখাত করেছিল। সে বছরেরই ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদ নামে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে একটি বিশদ প্রস্তাব দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে পেশ করে, যা সে সরকারের বিদায়ের আগে অর্থাৎ তাদের ঘোষিত সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় গৃহীত হয়েছিল। নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও, বিএনপি নেতারা অন্তর্বর্তী সরকার পেশকৃত সংস্কার প্রস্তাব অর্থাৎ জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন।
তারেক রহমান বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর ২০২৬ সালে পরিচালিত একটি অনুসন্ধান অনুযায়ী কৃষি খাতের উন্নয়ন, কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন, চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মধ্যে একটি বিশেষ সহায়তা কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন বর্গাচাষির মধ্যে এ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের শাসনভার গ্রহণের শুরু থেকেই দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি বীজ, সার ও কীটনাশক দ্রব্যাদি অল্প বা বিশেষ মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়েছেন। এটি অবশ্যই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তা ছাড়া, সরকার তাদের এ উদ্যোগকে আরও বহুমুখীকরণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের কৃষি খাত ও কৃষককুলকে চরম অব্যবস্থা ও দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করা দেশের বিশাল কৃষককুলকে বিভিন্ন আর্থসামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে আসা। ব্রিটেনসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন রাষ্ট্রে কৃষক, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তা ছাড়া, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন কল্যাণরাষ্ট্রে (ওয়েল ফেয়ার স্টেট) কর্মহীন নাগরিকদের প্রয়োজন অনুপাতে বেকার ভাতা, বিনামূল্যে চিকিৎসা, বাসস্থান ও তাদের সন্তানদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি তাদের আর্থসামাজিক অধিকারও সাধ্য অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়েছে। তারেক রহমানের প্রায় দেড় দশক ব্রিটেনে অবস্থানের কারণে সে ব্যবস্থার সঙ্গে তার একটি ঘনিষ্ঠ পরিচয় ঘটেছে বলে জানা গেছে। অনেকটা সে অনুযায়ী তারেক রহমান উপস্থাপিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফায় বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাই কল্যাণরাষ্ট্রের মতো ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এবং ‘সর্বজনীন চিকিৎসা’ ব্যবস্থা কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক ও প্রতিবোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত নারী ও পুরুষ পল্লি স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যবস্থা করা এবং সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি যুগোপযোগী, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন এবং নগরায়ণ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর (একমুখী) ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষাক্ষেত্রে পর্বতপ্রমাণ বৈষম্য থাকার খুব একটা অবকাশ থাকবে না। পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তা কাটিয়ে উঠতে হবে। এ ক্ষেত্রে তারেক রহমানের রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফায় একটি আত্মনির্ভরশীল জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া, শিল্পক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সে ক্ষেত্রে জুলাই সনদে উল্লিখিত সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে বিএনপির ৩১ দফার রাষ্ট্র মেরামত কাঠামোয় ব্যবধান আকাশ-পাতাল তেমন বিশেষ কিছু থাকবে না। বিএনপির রাষ্ট্র মেরামত প্রস্তাবনায় পর্যায়ক্রমিকভাবে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার উদ্যোগ দেখা যায়, যা অত্যন্ত প্রগতিশীল ও পরিকল্পিত ধ্যান-ধারণার বহিঃপ্রকাশ বলে অনেকে মনে করেন।
জুলাই সনদের সঙ্গে বিএনপির উপস্থাপিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে প্রণীত ৩১ দফার পার্থক্য যতটুকু রয়েছে, রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে আনা দুঃসাধ্য হবে না বলে আইন ও সংবিধানবিষয়ক অভিজ্ঞ মহল মনে করে। কিছু কিছু মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নাগরিক পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে দেশের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র: সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখে জাতীয় প্রবৃদ্ধির সুফল বণ্টনের মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য দূর করতে হবে। তা ছাড়া, একটি বিশেষ মহলকে দেওয়া বিশেষ সুযোগ-সুবিধার লাগাম যদি অবিলম্বে টেনে ধরা না যায়, তা হলে দেশের অন্যদের অবস্থা পরিবর্তনের বিশেষ কোনো সম্ভাবনা নেই। একাত্তরে অর্জিত দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা আমাদের কতটুকু গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার দিয়েছে তা বলা সহজ না হলেও এ কথা ঠিক যে, তাতে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্নটি এখন দিনে দিনে আরও জটিল হয়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্রে সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন, শিল্পোৎপাদন ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয় বা উপার্জন বাড়ার সুযোগের দিকে যেমন নজর রাখতে হবে, তেমনি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। দেশে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বন্ধ করতে হবে একশ্রেণির অসাধু পুঁজিপতি বা শিল্পপতিদের বিদেশে অর্থ পাচারের জাল-জালিয়াতি। তার পরিবর্তে সে অর্থ দেশে বিনিয়োগ করেই নিজেদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে এবং পাশাপাশি সৃষ্টি করতে হবে জনশক্তির জন্য কর্মসংস্থান।
লেখক: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা
[email protected]

.jpg)