স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুরা মায়ের কোলে আছে বলে মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেন, ‘কেউ কেউ দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য আপনাদের ব্যবহার করছে, আপনারা সতর্ক থাকুন। দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র বন্ধে জাতীয় ঐক্য করতে হবে। ক্ষমতা ও স্বার্থের নেশায় থাকা চলবে না।’
তিনি ওলামা সম্মেলনে আগত ওলামায়ে কিরাম ও জাতীয় রাজনৈতিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে স্বপ্নের স্বদেশ বিনির্মাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় গণ অধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, ‘ছোটোখাটো বিরোধের কারণে যাতে আমরা নতুন করে দেশ গড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হই সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিল ময়দানে আয়োজিত ওলামা ও সুধী সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নূর বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যদেরকে অবজ্ঞা করা যাবে না। সব দলের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে কাজ করতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীদের ‘নেতা নয় নীতির পরিবর্তন চাই’ এই স্লোগানকে বাস্তবায়ন করে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নতুন কিছু করতে হবে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজি আতাউর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্ট পরিবর্তন হলেও পরাজিতরা ষড়যন্ত্র করছে। তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে উঠেপড়ে লেগেছে।’
বাহাদুরপুরের পীর হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘চরমোনাই পীরের ইমামতিতে কাজ করতে আমরা একমত আছি। এ জন্য যা যা করার তা করতে রাজি আছি। এ দেশের আলেম-ওলামারা ৮৮ বা ৯৮ এর বন্যার পানিতে ভেসে আসেনি।’ সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি জানান তিনি।
কমল নগরের পীর আল্লামা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘৩, ৪ ও ৫ আগস্ট ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির শায়েখে চরমোনাইর ভূমিকায় ফেসিস্ট সরকার পালাতে বাধ্য হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য এত দ্রুত নয়। তবে নির্বাচনি ঐক্য হতে পারে।’
এতে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, হাফেজ মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ আল ফরিদী, ইসলামী বক্তা হাফিজুর রহমান সিদ্দিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী প্রমুখ।