ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয় ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা মিরপুরে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৩ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? জামালপুরে মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাদকের আখড়া মুন্সীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও তার মাকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১ এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ ফরিদপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল
Nagad desktop

সংস্কার আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে দেশ সংকটে পড়বে: তারেক রহমান

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:১৩ পিএম
সংস্কার আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে দেশ সংকটে পড়বে: তারেক রহমান
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ারি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

সংস্কার প্রস্তাবের আলাপ-আলোচনা যত বেশি দীর্ঘায়িত হবে দেশ তত বেশি সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া দেরি হয়, যদি সংস্কারের আলোচনা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করতে থাকি তাহলে বিতাড়িত স্বৈরাচার আবারও দেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসার সুযোগ পেয়ে যাবে।

রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শ্যামপুরের কদমতলীর বালুর মাঠে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ারি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ কর্মশালার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। এতে মহানগর দক্ষিনের ২৪টি থানার বিএনপিসহ ১১টি অঙ্গ-সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেয়। 

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের সব মানুষ দল-মত শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাই একত্রিত হয়ে এদেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে। কাজেই সমাজের যেসব বিজ্ঞ ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ সংস্কারের কথা বলছেন, আপনাদের সবার কাছে রাজনৈতিক দলের অবস্থান থেকে আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, সংস্কার সংস্কার বক্তব্য রেখে এই আলাপ দয়া করে দীর্ঘায়িত করবেন না। কারণ আপনারা সংস্কারের আলাপ যত দীর্ঘায়িত করবেন, দেশ তত বেশি সংকটের মুখে পড়বে, আপনারা সংস্কার আলাপ যত দীর্ঘায়িত করবেন, দেশে তত ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবগেুলো যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে সবচাইতে আগে নির্বাচনই প্রয়োজন। নির্বাচনের মাধ্যমে যাদেরকে জনগণ দায়িত্ব দেবে সংস্কারের কাজ তারাই শুরু করতে পারবে, তাদেরকেই শুরু করতে হবে। আমরা যদি সংস্কার কাজ শুরু করতে চাই সেটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই সংস্কার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে। কারণ যারা নির্বাচিত হয়ে আসবে তারা জনগণের কাছে ওয়াদা করবে যে, তারা সুযোগ পেলে বাস্তবায়ন করবে এই সব সংস্কার।

তারেক রহমান বলেন, সংস্কারকে যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে, দেশকে ও দেশের মানুষকে তত দ্রুত আমরা বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারব। বিএনপি যে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশনগুলো যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে উপায় একটাই, জনগণের নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই। 

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমি মনে করি, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, এটা সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। কোনো কোনো ব্যক্তি বলেন যে, নির্বাচন হলেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? আমি বলব, সব সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তু নির্বাচন হলে জনগণের ভোটের মাধ্যমে যেই দল যেই ব্যক্তি বা যারা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে তখন সমস্যার যে জট, সেগুলো আস্তে আস্তে খোলা যাবে।  

নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আসুন আজকের এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি যে, বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিলে আমরা প্রত্যেকে যে যার অবস্থান থেকে যেই সংস্কারের ওয়াদা জনগণের সামনে দিয়েছি, আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান থেকে সেই ওয়াদা সর্বোচ্চ পূরণে চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ। 

রাজধানীর যানজট, পরিবেশ দুষণ, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কয়েকজন নেতা-কর্মীর প্রশ্নের জবাবও দেন তারেক রহমান। ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরও বক্তব্য বিএনপির বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন প্রমুখ। 

শফিকুল ইসলাম/মাহফুজ  

 

নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান সাংবাদিকদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা কোনো অনিয়মের তথ্য থাকলে তা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে নিজের বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমি চাই, এলাকার কোথায় কী হচ্ছে, কী হচ্ছে না, উন্নয়ন হচ্ছে কি না-এসব বিষয় নিয়ে আপনারা লিখুন। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য থাকলে সেটিও তুলে ধরুন। আমার বিরুদ্ধেও যদি কিছু থাকে, তাও লিখবেন'।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'সাংবাদিকদের জন্য একটি ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান'।

মতবিনিময় সভায় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া সংসদ সদস্যের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এর আগে উপজেলা পরিষদ মাঠে কুটিরশিল্প পণ্যের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুশফিকুর রহমান। পরে তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, বিএনপি নেতা খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন, নাছির উদ্দিন হাজারী, আবুল মুনসুর মিশন, মো. বাহার মিয়া ও শওকত হোসেন খান সোহাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

জুটন বনিক/থিও

সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রকাশ্যে এক নারীকে পেটানোর ভিডিও ভাইরালের পর মো. শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতাকে দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকতের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

এর আগে দুপুরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) নামের এক নারীকে বেদম পেটান ওই যুবদল নেতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

বহিষ্কৃত মো. শফিকুল ইসলাম মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন খবরের কাগজকে বলেন, 'সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এক নারীকে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

ইকবাল হোসেন/থিও

প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে সেই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। পরবর্তীতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাজেট ঘোষণার পর বাজারের অবস্থা এবং মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট। মানুষের সন্তুষ্টিতে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও খুশি। 

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্রীয় বাজেটের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা যেকোনো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো ক্ষমতায় আসার পর কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা সরকারের সাফল্য ও জবাবদিহির অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতে বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেলেও এবার হয়েছে তার ব্যতিক্রম। এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত এই বাজেটকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এই বাজেটের মধ্য দিয়েই।

বাজেট ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, কৃষক, শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের পরিবার, নারী ও তরুণদের কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাজেটে তার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া হয়েছিল, এই দুই কর্মসূচিকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা দেওয়া হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে মানবসম্পদ উন্নয়নকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তার প্রতিফলন দেখা গেছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দে। শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশের সমান। সরকারের দাবি, এই অর্থ দিয়ে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম আধুনিকায়ন এবং ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেকারত্ব হ্রাস এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছিল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। বাজেটে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একাধিক উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার স্টার্টআপ ফান্ড, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, আইটি পার্ক সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ জোর দিয়েছে। বাজেটে তরুণদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী দশকের অর্থনীতিকে সামনে রেখে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ এবং ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ গড়ে তোলাই এই বাজেটের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। 

একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, খাল পুনর্খনন, স্থানীয় বাজার উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ শহর ও গ্রামের আয়বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে, যা নির্বাচনি ইশতেহারের পূর্ণ প্রতিফলন।

বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই বিএনপি তার ইশতেহারে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি টেকসই ভিত্তি পাবে বলে মনে করে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে হবে না। এটি জনগণের সামগ্রিক উন্নয়নের বাজেট। নির্বাচনের আগে বিএনপি যেসব অঙ্গীকার করেছিল, এই বাজেট সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।’

দলটির নেতারা মনে করেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতির যে স্থবিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, এই বাজেট তা কাটিয়ে ওঠার একটি কাঠামোগত রূপরেখা।

তার মানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই বাজেটের মাধ্যমে তিনটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে–জনগণের কাছে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থিতিশীলতার বার্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এখন শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি বিএনপি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম বড় পরীক্ষাও। আগামী মাস ও বছরগুলোই বলে দেবে, এই বাজেট সত্যিই ‘প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের’ সফল যাত্রা শুরু করতে পারে কি না, নাকি এটি রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই মিছিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতা-কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রিফাত/

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আনন্দ মিছিলে জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদাত মানু, মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুর রহমান জামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান হোসেনসহ জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

নেতারা বলেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করবে এবং দলের আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আনন্দ মিছিলে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

সুমন/রিফাত/