সংবিধানের গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার চরিত্র বজায় রাখতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাসদের নেতারা। সংবিধান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও ৭ মার্চের ভাষণ অপসারণ তারা সমর্থন করবেন না বলে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন মহান মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করা না হয়।
শনিবার (১২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐক্য কমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশ জাসদ নেতারা বৈঠক করেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষে ছিলেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, মনির হায়দার। বাংলাদেশ জাসদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, কার্যকরি সভাপতি ইন্দু নন্দন দত্ত, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মুশতাক হোসেন, এ টি এম মহব্বত আলী, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, করিম সিকদার, রফিকুল ইসলাম খোকন, রোকনুজ্জামান; সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আলী সাজু, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক এ এফ এম ইসমাইল চৌধুরী। বাংলাদেশ জাসদ নেতাদের সঙ্গে সরকারের ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ঐকমত্য কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ভূমিকা বক্তব্য দেন নাজমুল হক প্রধান এবং সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ড. মুশতাক হোসেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাসদের নেতারা বলেন, সংবিধানের মূলনীতি বদলের প্রস্তাবনা নিয়ে তাদের দ্বিমত রয়েছে।
তারা বলেন, ‘সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের প্রস্তাব না রাখা, অন্যান্য ধর্মীয় উপাদান বিযুক্ত করার প্রস্তাবনা না রেখে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি নাকচ করে যে ভাষাতেই সেগুলো প্রতিস্থাপন করা হোক না কেন, তা সংবিধান ও রাষ্ট্রের সেক্যুলার ও গণতান্ত্রিক চরিত্রকে নাকচ করে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে সংবিধান তুলনীয় নয়। তাই সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও এর বাংলা অনুবাদ রাখাটা সমীচীন নয়।’
সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪এর গণঅভ্যুত্থানকে সমান গুরুত্ব দেবার চেষ্টার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার প্রস্তাবনাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।
জাসদ নেতারা বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের উল্লেখের অবশ্যই ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে, সেই সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে ১৯৯০এর গণঅভ্যুত্থানও তাৎপর্যপূর্ণ। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানকেও সংবিধানে মর্যাদার সঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন। সংবিধান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও ৭ মার্চের ভাষণ অপসারণ আমরা সমর্থন করি না। দেশের নাম বাংলাতে পরিবর্তনকে আমরা অনাবশ্যক মনে করি।’
সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল বহাল রাখার প্রস্তাবনা দেন তিনি।
জয়ন্ত সাহা/এমএ/