১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন ডা. জুবাইদা রহমান। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী তিনি। দীর্ঘদিন পর তার দেশে ফেরা নিয়ে দলের নেতা-কর্মী ও জনগণের মাঝে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, আছে কৌতূহলও। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আগামীতে তিনি জড়িত হবেন কি না, এমন আলোচনাও ছড়িয়েছে বেশ ভালোভাবেই।
মঙ্গলবার (৬ মে) দেশে ফেরার পর জুবাইদা রহমান তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সন্ধ্যা ৭টার একটু আগে রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মাকে দেখতে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর মা-মেয়ের এই সাক্ষাতের সময় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জুবাইদার দেশে ফেরা নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৬ সালে ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ মেয়াদে সংকটে পড়ে বিএনপি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক রহমান। পরে জরুরি অবস্থা চলাকালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান তারেক রহমান। সে সময় শিক্ষা ছুটি নিয়ে লন্ডনে যান স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও।
পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক মাঠেও কোণঠাসা হয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগ টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকায় দেশে ফেরা হয়নি ডা. জুবাইদার। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দেশের পটপরিবর্তন হয়। পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। তারই ধারাবাহিকতায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে আগের সরকারের মামলাগুলোও একে একে আইনি পন্থায় খালাস হয়। বন্দিজীবন শেষে মুক্ত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য যান লন্ডনে। দীর্ঘদিন পর দেখা হয় পুত্র-পুত্রবধূ ও নাতনিদের সঙ্গে। খালেদা জিয়া গতকাল দেশে ফিরলেন দুই পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে। এ সময় স্বাগত জানাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঢল নামে বিমানবন্দর এলাকায়। যেখানে খালেদা-তারেকের সঙ্গে স্লোগান উঠে জুবাইদার নামেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইতিবাচক ভাবমূর্তির পাশাপাশি ‘ক্যারিশম্যাটিক’ ব্যক্তিত্বের অধিকারী জুবাইদা। দলের ভেতরে ও বাইরে তিনি সমান জনপ্রিয়। এ কারণে তার প্রতি নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশের আগ্রহ রয়েছে। দল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এমন পরিস্থিতিতে জুবাইদা রহমানের বিষয়টি নিছক কৌতূহল হতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করেন।

তবে ডা. জুবাইদা রহমান বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কি না, সে বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট। দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন আসছে। অনেকে পরিবারতন্ত্র নিয়ে কথা বলেছেন। তবে ডা. জুবাইদা রহমানের রাজনীতি নিয়ে এখনো কেউ কিছু বলেননি। সে কারণে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে। তবে ডা. জুবাইদা রহমান অনেক মেধাবী। যতটুক বুঝতে পারছি, তিনি প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে অগ্রসর হবেন।
এদিকে ধানমন্ডিতে বাবার বাসভবনে ওঠার কথা রয়েছে ডা. জুবাইদা রহমানের। তার বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান। তিনি ১৯৮৪ সালে মারা যান।
দীর্ঘদিন পর জুবাইদার ফিরে আসাকে ঘিরে ধানমন্ডির বাড়িতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গ্রামের বাড়ি সিলেটেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা জুবাইদা ফিরে আসায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, ডা. জুবাইদা আগামী দিনে তারেক রহমান ফিরে না আসা পর্যন্ত বিএনপির বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করবেন।
১৯৯৪ সালে তারেক রহমানের সঙ্গে জুবাইদার বিয়ে হয়। ২০০৮ সালে শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশ যান জুবাইদা রহমান। পরে দেশে ফিরে না আসায় আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। এই দম্পতির সন্তান জাইমা রহমানও দেশের রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরব ভূমিকা রাখছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
মা-মেয়ের আবেগঘন সাক্ষাৎ
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে গতকাল মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জুবাইদা রহমান। স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে তিনি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দুজনেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এর আগে দুপুর দেড়টায় শাশুড়ি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশে ফিরে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছান। জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি ধানমন্ডির মাহবুব ভবনে। সেখানে মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু থাকেন। অসুস্থতার কারণে তিনি সম্প্রতি স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।