জুলাই, আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশদাতা তথা প্রকৃত অপরাধীদের করতে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে লেখক-শিক্ষক-সংস্কৃতি কর্মীদের সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
সোমবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ স্বাক্ষরিত বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানে হয়।
এতে বলা হয়েছে, "আমরা মনে করি, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার জন্য এই মামলা হামলা গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের প্রতিও চরম অবমাননা।"
জুলাই, আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পরে ঢালাও হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ এসব মামলায় দেশের খ্যাতনামা তারকা, প্রথম সারির লেখকদেরও আসামি করা হয়েছে৷
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "পরিচিত অপরাধীদের দেশ ছাড়তে দিয়ে বিপরীতে হত্যার মিথ্যা গণ মামলায় অসংখ্য মানুষকে জড়ানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক নেত্রী লাকী আকতারসহ আরো অনেককেই হাস্যকর মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এই হয়রানি নৃশংস জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচারের জনদাবির প্রতি চরম প্রতারণা।'
বিবৃতিতে অভিনয় শিল্পী ইরেশ যাকের, সাংবাদিক জান্নাতুল ফেরদৌস জিসানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানায় অধিকার কমিটি।
গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দেশ ছেড়ে পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েঋে বলে মন্তব্য করেন কমিটির সদস্যরা৷
তারা বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত ৯ মাসে জুলাই হত্যাকান্ডের তদন্তে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়নি। চিহ্নিত রাঘব বোয়ালরা এখনও আইনের আওতার বাইরে। অনেককে বিদেশে চলে যেতে দেয়া হয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও রহস্যজনক ভূমিকা জনমনে গভীর হতাশা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করছে।
বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি চার দফা দাবি জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- জুলাই হত্যাকান্ডের তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে ও অবিলম্বে জুলাই হত্যাকান্ডের তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
লেখক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, নির্মাতা, রাজনৈতিক কর্মীসহ সব হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে৷
জয়ন্ত/সিফাত/