রোহিঙ্গাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য মায়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২০ জুন) বিশ্ব শরণার্থী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণীতে বিশ্বের সব শরণার্থীদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনসহ তাদের প্রতি পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে অন্তবর্তী সরকারকে গতিশীল কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে মানবিক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে মায়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব শরণার্থী দিবস, প্রতি বছর ২০ জুন জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস। এটি বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের উদযাপন, সম্মান এবং অমানবিক অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পালন করা হয়। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। পৃথিবীর দেশে দেশে উদ্বাস্তু সমস্যা আজও ভয়াবহ ও অমানবিক। জাতিগত সহিংসতা ও রাজনৈতিক আদর্শগত কারণে সমাজবদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতাই এর প্রধান কারণ।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এই দিবসটির প্রতি পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন এবং বিশ্বব্যাপী নিজ দেশে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত মানুষদের মর্যাদা ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রতি সক্রিয় সমর্থন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছে। এই দিবস পালনের লক্ষ্য হলো সেইসব শরণার্থীদের শক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া, যারা দেশের সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আশ্রয় খুঁজে পেতে এবং উন্নত জীবনযাপনের আশায় অন্য দেশে যেয়ে থাকেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশিদেরও করুণ অভিজ্ঞতা আজও আমাদের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।’
বাংলাদেশের জনগণ তাদের সাধ্যমতো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফসহ কয়েকটি স্থানে স্থাপিত হয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শরণার্থী শিবির, যেখানে রয়েছে ১৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তারা নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজ দেশের আবাস ছেড়ে দীর্ঘ আট বছর ধরে বাংলাদেশে শরণার্থী হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে বাংলাদেশ। এই সমস্যাকে এখন সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে রোহিঙ্গা সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর। রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা, তাদের নিয়ে বাংলাদেশ কী কী ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে, মায়ানমার কীভাবে তাদের বাস্তচ্যুত করেছে, প্রত্যাবাসনের নামে মায়ানমার কীভাবে বারবার কথার বরখেলাপ করছে ইত্যাদি বিষয়াদি বর্তমান সরকারকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে।’