চাঁদাবাজি, হত্যার হুমকি, মাছের ঘের দখল ও নেতা-কর্মীদের নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য খায়রুজ্জামান শিপনের (শিপন কাজী) বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে বিএনপি। দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে ‘বাগেরহাট বিএনপি নেতা শিপন কাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ইতোমধ্যে প্রতিবেদনটি আমলে নিয়েছে বিএনপির তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রধান বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স। চলতি সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নিচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে এমরান সালেহ প্রিন্স খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাগেরহাটের বিএনপির নেতা শিপন কাজীর বিরুদ্ধে একটা তদন্ত হচ্ছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত। জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও তাদের মতামত নিচ্ছি। দ্রুতই তদন্ত শেষ করে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে রিপোর্ট জমা দেব।’
শিপন কাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকরাম হোসেন তালিমের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান এমরান সালেহ প্রিন্স।
আকরাম হোসেন তালিম বলেন, ‘শিপনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। তদন্তের জন্য আমাকে ডেকেছিলেন। আমরা আমাদের কথা বলে আসছি। এরন আগে শিপন কাজীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী তানিয়া ইসলাম একটা অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বরাবর রুহুল কবির রিজভীর কাছে দিয়েছিলেন। তখন তদন্তের জন্য আমাকে আর গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তানিয়া ও স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য নিয়ে একটা শক্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিবেদন আমলে নিলে তখনই বহিষ্কার হয়ে যেত।’
তিনি বলেন, ‘লুটপাটের জন্য শিপন কাজীর বিশাল বাহিনী আছে। তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগই উঠুক সে ম্যানেজ করে ফেলে সব। এসব লুটপাট ও দখলের পেছনে শিপন কাজী পেছন থেকে মদদ দেন। শুধু ৫ আগস্টের পর না, আগেও সে এইসব কাজ করেছেন। এই কথাই তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছি।’
বাগেরহাটের জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালাম বলেন, ‘তদন্তের জন্য আমাদের ডাকা হয়েছিল। আমাদের কাছে যেসব তথ্য চেয়েছে আমরা দিয়েছি। এখন তদন্ত কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।’
এরআগে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দখল ও চাঁদাবাজির জন্য নিজস্ব বলয় গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য খায়রুজ্জামান শিপনের (শিপন কাজী) বিরুদ্ধে।
বাগেরহাট-৪ আসনে মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা তার কথাই শেষ কথা। শত শত বিঘা মাছের ঘের দখলের অভিযোগ উঠেছে শিপন কাজী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, প্রশাসন, সরকারি অফিস-সবই শিপনের নিয়ন্ত্রণে। তার রোষাণলে পড়ে এলাকা ছাড়া হয়েছেন বিএনপির ত্যাগী অনেক নেতা-কর্মী। এই আসনে কোথায় কী হবে সবই ঠিক করে দেন শিপন কাজী। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেই প্রতিপক্ষকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে মোবাইলে প্রাণনাশের হুমকি এবং হামলা-মামলা ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এসব অভিযোগ জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও শিপন কাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লিখিত চিঠি দিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী। অভিযোগের ভিত্তিতে শিপন কাজীকে দ্বিতীয় দফায় শোকজ করেছে দলটি।
শফিকুল ইসলাম/সুমন/