ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএফইউজে ও ডিইউজে।
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত ইতিবাচক ব্যাপার। আমরা আশা করব নির্বাচন কমিশন এই কাজটা দ্রুততার সঙ্গে শেষ করে নির্বাচনের একটা পরিবেশ তৈরি করবে। আমরা দাবি করছি যে, এই নির্বাচনে যেন সবার কাছে অবাধ-নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়।’
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক নির্ধারণের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশ-জাতি বড় সমস্যায় আছে। আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। এই পোশাক রপ্তানিতে যদি ৩৫ শতাংশ শুল্ক আসে তাহলে পোশাক শিল্প মাটিতে শুয়ে পড়বে। দাঁড়াতে পারবে না। আমাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার কতটুক এ বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন জানি না। যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন ছিল। তবে সময় এখন চলে যায়নি। এখনো সময় আছে, এ বিষয়গুলো বিবেচনা করার। আমাদের শিল্প যেনে বেঁচে থাকে, কর্মসংস্থান যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এই বিষয়টা সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা সংসদ নির্বাচন করতে চাই। যদি সংসদ নির্বাচন না হয়, তাহলে দেশে একটি অন্ধকারের শক্তি আবার ক্ষমতায় আসবে। নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত হয় তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি একটি নির্বাচন হবে, এবং সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি নিজেরাই প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি না করি, তাহলে তাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। যারা অন্যায় করেছে তাদের কুকীর্তি এবং গত ১৫ বছরে তাদের কর্ম ও কথার প্রমাণ, তাদের পক্ষে নতুন কোনো রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করা অসম্ভব করে তুলেছে। যেসব যুবক এই সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে অংশ নিয়েছে, যারা গড়ে আরও ৫০ বছর বেঁচে থাকবে, তারা তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতের ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম প্রমুখ।
শফিকুল ইসলাম/সুমন/