আগামীর বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে আয়োজিত ‘আমার প্রথম ভোট ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিভাগ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
আমীর খসরু বলেন, ‘আগামীর জেন-জির কথা মাথায় রেখে আমরা সব পরিকল্পনা সাজিয়েছি। যারা গ্রামে আছেন তারা অনলাইনভিত্তিক ট্রেনিং (প্রশিক্ষণ) করবেন, আইটি রিলেটেড ব্যাবসা করবেন অনলাইনভিত্তিক, ব্যাবসা রূপান্তরে প্রত্যেকটি এলাকাতে একটি করে কল সেন্টার হবে। যাতে ছেলে-মেয়েরা গিয়ে কাজ করতে পারে।’
সাধারণ মানুষ একটা কাজ করে খেতে পারে। যারা আইএ, বিএ পাশ করেছে তাদের চাকরি পাওয়া কঠিন। এরা না পারে নিচু কাজ করতে, না পায় চাকরি। কিন্তু এদের সবাই আইটি রিলেটেড ব্যবসায় ঢুকতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে যে জিনিস তৈরি করবেন, সেটা অনলাইনভিত্তিকও হতে পারে। আলিবাবা, এমাজনের মতো অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারবেন। বাড়িতে তৈরি আচারের কোয়ালিটি ভালো হলে, সেটা অনলাইনে বিক্রি করতে পারবেন। সবাইকে কর্মসংস্থানের মধ্যে আনতে হবে।’
আমাদের চিন্তা অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করা, শুধু রাজনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করলে হবে না। আমরা যদি অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করতে না পারি তাহলে বাংলাদেশের মানুষ দেশীয় উন্নয়নের যে সুফল সেটা পাবে না।
আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা চাই- গণতন্ত্রায়ণের মাধ্যমে আমাদের যুবসমাজ থেকে শুরু করে সবাই যেন এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে, অবদান রাখতে পারে। এখানে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে মহিলারা এবং নতুন প্রজন্ম (জেন-জি)। নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন জেন-জি দেখছে, এটা বিএনপি বুঝতে পেরেছে, তারেক রহমান সাহেব বুঝতে পেরেছেন। এটার উপর ভিত্তি করে আমরা পরিকল্পনা প্রায় শেষ করে ফেলেছি। গ্রামের যে মহিলা-পুরুষরা বাড়িতে বসে পাটের কাজ করেন, কামার-কুমাররা যা বানায়- এগুলোকে আমরা সমর্থন করব, ব্র্যান্ডিং করব, ঋণ দেব। এগুলোকে আলিবাবা, এমাজনের মতো অনলাইনে বিক্রি করার ব্যবস্থা করব। আগে যেটা ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো এখন সেটা ব্র্যান্ডিং করে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। এতে অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখা যাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান হবে। সুতরাং জেন-জির জন্য প্রচুর ভাবছি আমরা।’
পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আগামীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনা আছে, কিন্তু সবাইকে যার যার যোগ্যতার ভিত্তিতে সেখানে সম্পৃক্ত হতে হবে। নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার আপনাদেরকেই করতে হবে। এই কথাগুলো অর্থাৎ বিএনপির পরিকল্পনা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বর্তমান প্রজন্মকে নিয়ে হয়ত আর কারও পরিকল্পনা নেই কিন্তু বিএনপির পরিকল্পনা, কারণ বিএনপি আগে সফলভাবে দেশ চালিয়েছে। বিএনপি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ সংস্কার সব বিএনপি করেছে। যা অন্য কোনো দল করেনি। আগামীর সংস্কারও বিএনপি করবে ইনশাআল্লাহ।’
সংস্কারের মাধ্যমে যে পরিবর্তন হবে এর জন্য সাধারণ ব্যবসায়ী, এনজিও সবাইকে আমরা পার্টনার হিসেবে নিচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো ও প্রাইভেট সেক্টরগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। কাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ হবে এগুলো সব সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুতরাং বিএনপি এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা পরিপূর্ণভাবে তৈরি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা। সঞ্চালনায় ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম. রাজীবুল আসলাম তালুকদার (বিন্দু)। সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ বক্তা ছিলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটি বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বিচারপতি ফয়সালা মাহমুদ ফয়জী ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইস্রাফিল খসরু ও ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক।
আকবর/নাঈম