ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে মনোনয়নের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সমাবেশে এসে স্ট্রোক করে তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া তানজিম আহমেদ আবিদ ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি নূরুজ্জামান সোহেলের অনুসারী। তার বাবা দক্ষিণ জেলা উলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম দেওয়ান মো. আবুল হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ মনোনয়নবঞ্চিত আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের সমর্থকরা মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে পাটবাজার এলাকায় মনোনয়নবঞ্চিত হিরণের নির্দেশে নারী সমাবেশ চলছিল। খানিকটা দূরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইকবাল হোসেনের সমাবেশ ছিল। এই সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীদের একটি অংশের সঙ্গে হিরণের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। বিকেল ৫টার দিকে হিরণের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মহিলা সমাবেশের মঞ্চ ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। পরে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে আটজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে ইকবাল হোসেনের সমাবেশে এসেছিলেন ছাত্রদল কর্মী তানজিন আহমেদ আবিদ। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় সড়কেই ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ সড়কে পড়ে অচেতন হয়ে যান। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বক্তব্য জানতে চাইলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ‘হিরণ আমার বিরুদ্ধে থাকলেও মানুষ আমার পক্ষে রয়েছে। আমার লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হিরণের জন্যই হয়েছে।’
মনোনয়নবঞ্চিত তায়েবুর রহমান হিরণ বলেন, ‘মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই আমার কর্মী-সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এজন্য ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হোসেনের নির্দেশে তার কর্মী-সমর্থকরা বিকেলে আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ কেন্দ্রে ভুল তথ্য দিয়েছে। এজন্য বহিষ্কার হয়েছি। আশা করছি, দল আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করবে এবং আমি উপযুক্ত হয়ে থাকলে মনোনয়ন দেবে।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, তানজিন আহমেদ আবিদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলেই হার্টঅ্যাটাক করে মারা গেছেন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত করলে রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অচেতন অবস্থায় তানজিন আহমেদ আবিদকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, মারা যাওয়া তানজিম আহমেদ আবিদের শরীরে প্রাথমিকভাবে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো মুহূর্তে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।