কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ২০ মিনিটের মতো তারা সড়কে অবস্থান করে রাস্তার উপর আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ আসার ভয়ে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে টুঙ্গিপাড়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ২টা ২০ মিনিটে তারা টুঙ্গিপাড়া শেখ রাসেল শিশু পার্কের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এছাড়া ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দোলা পেট্রোল পাম্পের সামনে মহাসড়কে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে তারা মহাসড়কে কাঠ-পাটখড়ি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ডুমদিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী বিক্ষোভ প্রদর্শন ও পাটখড়ি দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এছাড়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কর্মী চত্বরের উলটো দিকে ফসলের মাঠে মধ্যে কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে পুলিশ আসার খবরে তারা পালিয়ে যায়।
এছাড়া, সকাল পৌনে ৮টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া বাজার এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এতে মহাসড়কের দুইপাশে যানবাহন আটকা পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু। এতে মহাসড়কের পাশে রাখা গাছের গুড়ি ফেলে ২০ মিনিটের মতো মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় মহাসড়কের দুপাশে বেশ কিছু যানবাহন আটকা পড়ে। পরে খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পালিয়ে যায় তারা। পুলিশ গাছের গুঁড়ি সরিয়ে যান চলাচলের স্বাভাবিক করে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, 'কয়েকজন লোক রাস্তায় উঠে অবরোধের চেষ্টা করেছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় তারা। তবে তারা অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে পারেনি।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণার জেলা শহরে নিস্তব্ধতা নিয়ে আসে। রাস্তা-ঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে আসে। যেন এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করে জেলাবাসীর মধ্যে।
এ রায়ের বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মেহেদী/