ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে প্রতিবেশী কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মীর ফারুক (৪০) নামের এক রিকশাচালককে গণপিটুনি নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মীর ফারুক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শহরের বলিদাপাড়া এলাকায় একটি ভবনের সাবলেট বাসায় বেশ কিছুদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন মীর ফারুক। শুক্রবার দিবাগত রাতে তাদের সাথে সাবলেটে বসবাস করা প্রতিবেশীর ১১ বছরের কন্যা শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ফারুক। শনিবার সকালে শিশুটি এ ঘটনাটি তার মায়ের কাছে জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মীর ফারুককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাহফুজুর রহমান/এসএন
সৌদি আরব কারাগারে থাকা এসি বিস্ফোরণে এক যুবকের মৃত্যুর ২৮দিন পর কিশোরগঞ্জের নিজ বাড়িতে মরদেহ আনা হয়েছে। কারাগারে নিহত সৌদি প্রবাসী শাকিল (২৮) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ওমর ফারুকের ছেলে। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র,পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের সহযোগিতায় সরকারি উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাকিলের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে ভোর ৫টার দিকে মরদেহটি কিশোরগঞ্জের নিজ বাড়িতে আনা হয়।
নিহতের চাচা বকুল মেম্বার বলেন, ২০১৯ সালে অভাব-অনটনের সংসারের হাল ধরতে প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ করে ঢাকার বনানী এলাকার আলতাব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান শাকিল। সেখানে নিয়োগকর্তার সঙ্গে আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি। পরে অবৈধভাবে কাজ করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন এবং কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগার থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাকিল দেশে ফেরার জন্য জামিন করাতে প্রায় ২ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানান। পরে তার বাবা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় শাকিল শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ফোনে তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন জেলখানায় কষ্টে থাকার কথা। এছাড়াও শরীর শুকিয়ে যাওয়া এবং জেলের খাবার খেতে না পারার কথাও বলেছিলেন । জেল হাজত থেকে আইনিভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার কথাও বলেছিলেন কিন্তু শেষে ফিরতে হয়েছে লাশ হয়ে।
গত ১৫ মে কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি হলে তিনি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবার জানায়, মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ৮ হাজার সৌদি রিয়াল প্রয়োজন হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। এ অবস্থায় বিষয়টি কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফের নজরে আনা হলে তিনি প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমকে অবহিত করেন। পরে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে সরকারি সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
শাকিলের বাবা ওমর ফারুক বলেন, আমার ছেলে ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখন কীভাবে সংসার চলবে জানি না।আমার ছেলে শেষ পর্যন্ত জীবিত দেশে ফিরতে পারলো না। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।
শাকিলের ফুফু মোছা. চায়না বেগম বলেন, মৃত্যুর প্রায় ১০ দিন আগে তার সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন শাকিল জামিন ও আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সৌদিতে আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তাসলিমা আক্তার মিতু/এসএন
জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় এবার মোহাম্মদ সোহেল নামে পুলিশের এক সোর্সকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশের একজন উপকমিশনারকে (ডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশের সোর্স মোহাম্মদ সোহেল নগরীর গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বসবাস করেন।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আটক সোহেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে এ ঘটনায় খুলশী থানা-র উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘দুই পুলিশ সদস্যকে একই ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছি। কোনো ছাড় নয়।’
জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় ফ্লাইওভারের মুখে নাঈমের সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে পুলিশ। সেখানে পোশাকধারী তিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সোর্স হিসেবে ছিলেন পাঞ্জাবি পরা ওই সোহেল। পুলিশের হাতে থাকা পাইপের পাশাপাশি সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন এবং নিজেকে ডিবির সদস্য পরিচয় দেন। তখন সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন তার কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে খুলশী থানায় নিয়ে যায়।
নাঈমের বাবা মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন রাতে সোহেলকে থানায় নিয়ে গেলে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে নিজের পাশে বসিয়ে রাখেন। থানার ভেতরে বসে সোহেল যখন এসির বাতাস খাচ্ছিলেন, তখন গভীর রাতে নাঈমের বাবাকে ওসির কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাকে থানার বাইরে ১৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং পরে ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়।’
নাঈমের বড় ভাই কামরুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় নাঈমের অপর ভাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই মামলায় সোর্স সোহেলকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।’
রিফাত/
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মরদেহ মর্গে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।
রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে ছেলে রিফাত রমেক হাসাপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকে অক্সিজেন দিতে অনুরোধ করা হয়। তবে চিকিৎসক আগে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এ সময় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তার মৃত্যু হয়।
এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্বজনরা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। এই ঘটনার পর থেকে মরদেহ মর্গে রাখা হয় এবং জরুরি বিভাগের কার্যক্রম দুই ঘণ্টা (১০টা থেকে ১২টা) বন্ধ রাখে।
এরপর দুপুর দেড়টা থেকে মৃতের স্বজনরা মরদেহের দাবিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে মেডিকেল মোড় এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
মৃতের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, ‘আমার বউ আমাকে ফোন দিয়েছে। পরে মাকে দেখতে আসছি। এসে দেখি গণ্ডগোল। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার মায়ের লাশ আটকে রাখছে। অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলেও সেখান থেকে কেড়ে নিয়েছে আমার মায়ের লাশ।’
পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার আশিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। রোগীটিকে শেষ সময় নিয়ে আসে, আসার পর মারা যায়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি, সেখানে ডাক্তারের কোনো ফল্ট ছিল না।’
মরদেহ আটকে রাখা ও জরুরি বিভাগ ২ ঘণ্টা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে হাসাপাতালের পরিচালক বলেন, ‘লাশ আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক না। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সেখানে অনেক লোকজন, লাশ গাড়িতে উঠানো কষ্টসাধ্য হয়েছিল। আমরা নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু সময় লাশটি মর্গে রাখি। পরবর্তীতে লাশটি আমরা হস্তান্তর করেছি।’
সেলিম সরকার/খাদিজা রুমি/
জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের ২১টি পরিবারের মাঝে ট্রাস্ট ফান্ডের মোট ৭৭ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হতাহতের পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান ও বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক রামকৃষ্ণ পোদ্দারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন আইনের ট্রাস্ট ফান্ড থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ৫ লাখ, গুরুতর আহতরা ৩ লাখ ও আহতরা ১ লাখ টাকার চেক পেয়েছেন।
অতিথিরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতি টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের এই উদ্যোগ বিপদে পড়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। এ সময় ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে চালক ও পথচারীসহ সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে সরকারি এই মানবিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা।
সাগর কুমার/তামান্না রুপা/