ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ, যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক যাত্রা চালু রাখতে হবে: তারেক রহমান

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ, যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক যাত্রা চালু রাখতে হবে: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের সামনে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে, মতপার্থক্য আছে। আমরা আলোচনা করতে পারি। আমাদের যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক যাত্রা চালু রাখতে হবে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে জাতীয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে, মতপার্থক্য আছে। আমরা আলোচনা করতে পারি। আমাদের যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক যাত্রা চালু রাখতে হবে। জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে, যেকোনো মূল্যে আমাদের জবাবদিহি চালু রাখতে হবে। আমার বিশ্বাস, যদি জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘২২ জানুয়ারি থেকে সব রকম পরিকল্পনা নিয়ে আমরা জনগণের সামনে যাব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ১৫ বা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। হিংসা, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পরিণতি কী হতে পারে তা আমরা ৫ আগস্ট দেখেছি। তাই ৫ আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। দলমত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান বের করে আনতে হবে।’ 
গতকাল 

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি যদি আমার অবস্থান থেকে চিন্তা করি, আমার একপাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, আরেক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা এবং আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। এই উদাহরণগুলো শুধু আমার একার জন্য নয়, আমার দলের নেতা-কর্মী এবং গোটা জাতির জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা।’

তিনি বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন কখনো মতবিভেদে রূপ না নেয়। মতবিভেদ জাতিকে বিভক্ত করে ফেলে, তার ভয়াবহ পরিণতি আমরা আগেও দেখেছি। অনেকের মুখে আমরা হতাশার কথা শুনি। কিন্তু তার পরও আশার কথা হচ্ছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।’

 

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। মাহমুদুর রহমানের ওপর নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘উনার রক্তমাখা ছবিটি আজও আমার চোখের সামনে ভাসে।’ জেলে মৃত্যুবরণকারী রুহুল আমিন গাজীর কথাও স্মরণ করেন তিনি। 

তারেক রহমান বলেন, ৬০ লাখ নেতা-কর্মী এবং আমার মায়ের সঙ্গে কী হয়েছে, তা এক করলে দেশের বাস্তবতা বোঝা যায়।

পানিসংকট: ভয়াবহ ভবিষ্যতের সতর্কতা
পানিসংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে ঢাকা শহরে পানির মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে। বুড়িগঙ্গা শতভাগ দূষিত, শীতলক্ষ্যা ৫০ শতাংশ দূষিত। মেঘনা থেকে পানি আনার প্রকল্পও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। এটিও ১০-১৫ বছর পর আর থাকবে না। এই বিষয়গুলোর সমাধান ইস্যু নিয়ে সংসদে বা সেমিনারে আলোচনা হওয়া উচিত।
তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান ও গাইডেনসের প্রয়োজন

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী দিকনির্দেশনা চায়। শুধু নতুন প্রজন্মই নয়, সব প্রজন্মই এখন নেতৃত্বের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছে। সব প্রত্যাশা হয়তোবা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা যদি ১৯৭১, ১৯৯০, ২০০৪ ও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে দেশকে সঠিক পথে নেওয়া সম্ভব।’

তিনি বলেন, এ দেশে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ তরুণ। এই তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই কাজটি করতে না পারলে ৫ আগস্ট, ৯০-এর আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।

নারী নিরাপত্তা, সড়ক দুর্ঘটনা ও কৃষকদের কথা
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘নারী-পুরুষ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবছর প্রায় ৭ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন, যাদের বেশির ভাগই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অথবা লোকটি যদি পঙ্গু হয়ে যান, তাহলে তার পরিবারের অবস্থা নাজুক হয়ে যায়। এই বিষয়টি আমাদের নজরে আনা উচিত। আমার মনে হয়, এরকম আরও অনেক বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তাভাবনা করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘দেশে প্রায় দেড় কোটি কৃষক আছেন, যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের চিন্তা করতে হবে, কীভাবে এত বড় সমাজকে সাপোর্ট দেওয়া যায়।’ 

ফ্যামিলি কার্ড ও নারীর ক্ষমতায়ন
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি পরিবার আছে। পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে। পাঁচ থেকে সাত বছর সরাসরি সহায়তা দিলে পরিবার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগ লাভবান হবে।

কার্ডটি কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে ডিসি-এসপির স্ত্রীও পাবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের প্রয়োজন নেই, তারা নেবেন না– এটাই আমাদের বিশ্বাস। 

স্বাস্থ্যসেবা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জোর
স্বাস্থ্য খাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের খরচ কমে এবং মানুষ সুস্থ থাকেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সে জন্য এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০-৮৫ শতাংশ হবেন নারী। তারা পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন। 
কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, সবার জন্য চিকিৎসা সুবিধা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য ভোকেশনাল টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউশন-আধুনিকায়ন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ, আইটি সেক্টর, উদ্যোক্তা তৈরি, আইটি পার্কগুলোকে নতুনভাবে সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়াও কন্টেট তৈরির কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করে তা আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’ 

সভায় যা বললেন সম্পাদকরা
তারেক রহমানকে পরামর্শ দিয়ে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে এবং পাচার রোধে বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। সাধারণ মানুষের জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সরকার ও জনগণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পুলিশ বাহিনীকে নতুন নৈতিকতা ও মূল্যবোধে শিক্ষিত করতে হবে। সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র চাই, আমরা স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই এবং সুশাসন চাই।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে খুব বেশি কথা বলছে না। আমরা ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। আমার অনুরোধ হলো, জলবায়ু পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।’

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা লিখতে চাই, আমরা বলতে চাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণমাধ্যম অনেকটাই স্বাধীন, অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। কারণ মব ভায়োলেন্সে আমরা সাহসী হতে পারছি না। মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, তখন আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে আমরা জাহান্নামে আছি না বেহেশতে আছি।’

নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে অনেক মানুষ আত্মদান করেছেন। সেই আত্মদানের ভিত্তিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে উঠবার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি আমরা। তাই এই সময়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবকিছুকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দিকে এগোনোর আলোচনা হলে সময়ের প্রতি সুবিচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আর মিডিয়ার গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা- এই দুটি হাত ধরাধরি করে চলেছে। আমরা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই, তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে।’

কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ পেয়েছি। তার যদি সঠিক ব্যবহার করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করবে। যদি আমরা ব্যর্থ হই, তাহলে খলনায়কে পরিণত হব।’ তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দাশাসিত মিডিয়া আমরা চাই না। সত্যিকার অর্থে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই।’ 

সভায় সম্পাদকদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দিন, আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, যুগান্তরের আবদুল হাই শিকদার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তৌফিক ইমরোজ খালিদী, নয়াদিগন্তের সালাহউদ্দিন বাবর, ইটিভির সিইও আবদুস সালাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদুর রহমান প্রমুখ।

তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা। ছবি: সংগৃহীত

এ ছাড়া সম্পাদকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, খবরের কাগজের  সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর ইনাম আহমেদ, সংবাদের আলতামাশ কবির, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, দৈনিক সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি সানের রেজাউল করিম লোটাস, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান, মানবকণ্ঠের শহীদুল ইসলাম, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ শাহনাজ করিম, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক খুরশীদ আলম, বাংলাবাজার পত্রিকার  বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক, টাইমস অব বাংলাদেশ এর উপদেষ্টা সম্পাদক ইলিয়াস খান, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, নাগরিক প্রতিদিনের হাসনাইন খুরশীদ, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম, বিবিসির সম্পাদক সাবির মোস্তফা ও বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল-জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, জেনারেল ম্যানেজার নুরুল আজম পবন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেড এম জাহেদুর রহমান, বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানদের মধ্যে ছিলেন চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, সময় টিভির আহমেদ জোবায়ের, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন ও মুজতবা খন্দকার, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিবিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএনের হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্রীন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, মাছরাঙার রেজোয়ানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এম এ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন টিভির তুষার আবদুল্লাহ, ইন্ডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী প্রমুখ। সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, মাসুদ কামাল, নুরু উদ্দিন নুরু, এ কে এম মহসিন, দেশ রূপান্তরের সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিমন, হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপির সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শফিকুল ইসলাম/সুমন/

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রলীগের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী সদর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দিলেও একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের 'সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির' বিরুদ্ধে ওই মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে সহস্ত্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার ছাত্রলীগ যুবলীগের হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থকরা মিছিলটি বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশে বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা গা-ঢাকা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় এবং সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হব না এবং রাজপথ ছাড়ব না।

কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। পুলিশ প্রথমে আমাদেরকে বাধা দিলে আমাদের নেতাকর্মী ভয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। পরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমরা প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল করি এবং সমাবেশ করি। আমরা বিশ্বাস করি অতি দ্রুত আমাদের নেত্রী দেশে ফিরে দেশের দায়িত্ব নিবেন এবং আমাদের নেত্রী দেশে ফেরার সাথে সাথেই বর্তমান সময়ের সন্ত্রাস চাঁদাবাজরা দেশ ছেড়ে পালাবে। 

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের দল সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না । আমরা মিছিলে শুরুতে তাদের বাধা দিলেও পরবর্তীতে তাদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়েন।


ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। ছবি: খবরের কাগজ

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো হলে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওসমান হাদির সমাধিস্থলে আসে। সেখান থেকে হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে আলটিমেটাম দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। 

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকার হাদি হত্যার বিচারের কোনো রূপরেখা দেয়নি। সরকার কতদিনের মধ্যে আসামিকে ফিরিয়ে আনবে এবং এ হত্যার বিচার করবে, সে বিষয়ে জানতে চায় ইনকিলাব মঞ্চ। যদি আগামী শুক্রবারের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য, সময়সীমা না দিতে পারে; আমরা বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে শাহবাগে লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এই কর্মসূচি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, আমরা জানি না।’

গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। তিন দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র।

হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?
ছবি: খবরের কাগজ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। 

শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং কার অনুমতিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই হত্যা মামলার বাদী হলেন, তা অবিলম্বে পরিষ্কার করতে হবে।

পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে, যেসব বিষয়ে তিনি এখনো মুখ খোলেননি শুধু ভাইয়ের কথা ভেবে। তবে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে ‘নোংরামি’ চলছে, তার প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

মাসুমা হাদি উল্লেখ করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েই তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান এবং এক মুহূর্তের জন্যও ভাইয়ের পাশ থেকে সরেননি। তার প্রশ্ন ‘প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর (সাইন) নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের স্বাক্ষর দেবে কেন?’ এ বিষয়ে তাকে বোঝানো হয়েছিল যে, ওমর (ওসমান হাদির ভাই) এর কাছে পুলিশ গিয়েছিল এবং তিনি চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে পরে বিষয়টি দেখবেন বলেছিলেন। মাসুমা হাদি বলেন, ‘এ ধরনের ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়া নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই, এবং পুলিশ চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়েও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতো।’

তৎকালীন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, একই রিকশায় দুই ভাই থাকায় ওসমান গণির (হাদি) রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিলেন। বুলেট আরেকটু এদিকে লাগলে ওমরও সেদিন মারা যেতে পারতেন। ওসমান হাদিকে যেদিন সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়, সেদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে নিজের পোশাক ও হাতের ঘড়ি থেকে ভাইয়ের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন।

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাবের যদি আমাদের নলছিটির ছেলে না হতো, তাহলে কোনো প্রশ্নই থাকত না। কারণ ওসমান গণির সঙ্গে দীর্ঘদিন যারা চলাফেরা করেছেন, তারা জানেন তার জীবনে তার ছোট আপুর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ছোট আপুর সঙ্গে পরামর্শ না করে কার অনুমতিতে জাবের মামলার বাদী হলো এটি পরিষ্কার করতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমরের লাইফস্টাইল নিয়ে চলা ট্রলিংয়ের জবাবে মাসুমা হাদি জানান, ওমর যে ঘড়ি পরেন তা পাঁচ বছর আগে ১৭ হাজার টাকায় কেনা। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি ৩০ হাজার টাকার ব্লেজার এবং ৭০ হাজার টাকার মোবাইল ব্যবহার করতেন। কাউকে না জেনে অযথা ট্রল না করার অনুরোধ জানান তিনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে অনেকেই দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরিবার সায় দেয়নি। সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর দায়িত্ব নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে কাগজপত্র পাঠালে তা গ্রহণ করা হয়। এরপরই ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।’

রাজু/রিফাত/

রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য চারদিকে সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত চলছে।’

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এখনকার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করে সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত এবং এটি সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করেন। কিন্তু বিএনপির মূল চরিত্র হচ্ছে এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একটা বড় আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজ গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবকিছুকে ভেঙে ফেলা এবং মস্তহীন করার মধ্য দিয়ে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে একটি সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুততার সঙ্গে এই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে সঠিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

স্মরণ সভায় প্রয়াত নেতাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ভাইয়েরা এমন এক সময়ে রাজনীতি করেছেন যখন রাজনীতিতে এথিক্স, মোরালিটি ও মূল্যবোধ ছিল। তারা সবসময় জনগণের কল্যাণ, মানুষের সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন।’

রিফাত/

হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।

সম্প্রতি তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। আবদুল গাফফার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিমকে সেফ হোমে রেখে আমি বাঁচিয়েছি। তখন তাদের ভিডিওবার্তা থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করেছি। তার কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন আমি এতে বাধা দিই।’

গাফফার অভিযোগ করে বলেন, ‘হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর আমি রাশেদ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি হান্নান মাসউদকে জানাই। তিনি বলেন, ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শোনে না। তারা যা করার করুক।’

ছাত্রদল নেতা গাফফারের দাবি, ‘চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁসের পর হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে এবং প্রধান ফটকে হামলা চালায়। পরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভীতসন্ত্রস্ত। মা-বাবা বলছেন, আমি যেন আর কোনো বক্তব্য না দিই। আবারও তারা বাড়িতে হামলা করতে পারে।’

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির স্ট্যাটাস দেওয়ায় গত দুই দিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপির নেতা-কর্মীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। যারা হুমকি দিয়েছে, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে, এটা এনসিপির নেতা-কর্মীরা করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলোই সামাল দিতে পারি না, আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব কেন? পুরো বিষয়টি একটি সাজানো নাটক, যাতে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক তারা কী করতে পারে।’

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার। ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মেরেছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার একটি অংশ ভেঙে যায়। কে মারছে, কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মজনু/রিফাত/