বিএনপি নেতা ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনে দলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বরিশালের নিজস্ব প্রতিবেদক মঈনুল ইসলাম সবুজ
খবরের কাগজ: নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। বিভিন্ন দল থেকে অনেক দিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলা হচ্ছে। সেই ‘ভালো নির্বাচনের’ পরিবেশ দেখছেন এখন?
মজিবর রহমান সরোয়ার: আমরা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছি। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ফল হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যেহেতু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, তাই আমি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হোক।
এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ মোটামুটি ভালো। তবে কিছু কিছু মহল নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং কোথাও কোথাও পরিবেশ নষ্ট করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তবু আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল যদি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। আশা করি, ১৭ বছর পর দেশের ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এটি পুরো জাতিরই প্রত্যাশা।
খবরের কাগজ: নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি? লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কতটা তৈরি হয়েছে?
মজিবর রহমান সরোয়ার: নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দিতে হবে। প্রশাসনিক হয়রানি বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলতে পারবে না। ভোটের দিন নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রিসাইডিং অফিসার থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাইকে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে; তবে প্রচারের পরে বলা যাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কি না।
খবরের কাগজ: বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই। নির্বাচনের আগে এ ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি কি হয়েছে?
মজিবর রহমান সরোয়ার: বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক বলা যাবে না।
৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের সময় কিছু অস্ত্র বেহাত হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের ওপর জোর দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতাকে যারা গুলি করেছে, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ এবং সব দলের প্রার্থীদের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আরও কাজ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
খবরের কাগজ: নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেমন দেখছেন?
মজিবর রহমান সরোয়ার: নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দিকে তাকালে বলা যায়, কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের লোকজন অভিজ্ঞ। যেহেতু তাদের জনবল কম, তাই জনপ্রশাসনের নির্বাচন পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো এবং সেনাবাহিনীকে পূর্ণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া জরুরি। উপজেলা ও থানা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে ভোট নিয়ে কেউ এদিক-ওদিক করতে পারবে না।
খবরের কাগজ: নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?
মজিবর রহমান সরোয়ার: নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর। আমরা মনে করি, এই দুটি বড় আয়োজন একই দিনে করায় সবার ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। যেহেতু গণভোট করা জরুরি, তাই চাপ থাকলেও একই দিন করা ভালো। তবে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব সহজ ও স্বচ্ছ রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভোটাররা যেন সহজ ও স্বচ্ছভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
খবরের কাগজ: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে মনে করেন?
মজিবর রহমান সরোয়ার: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে যে অনাস্থা ও হতাশা তৈরি হয়েছে, তা দূর করা।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী যেন সমান সুযোগে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ভোটের দিন কোনো ধরনের কারচুপি, কেন্দ্র দখল বা ভয়ভীতি রোধ করাও বড় চ্যালেঞ্জ।