ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল
Nagad desktop

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার। ছবি: খবরের কাগজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছে গোলাম আকবর খোন্দকারকে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এই সংসদ সদস্য নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম। 

খবরের কাগজ: বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই। নির্বাচনের আগে এ ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি কি হয়েছে? কোথায় আরও কাজ করতে হবে?
গোলাম আকবর খোন্দকার: অতীতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তারা চাননি জনগণ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিক। মানুষ নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। যে কারণে মানুষ ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন। এখন আমরা দেখছি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, আমি মনে করি জনগণের মাঝে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। 

খবরের কাগজ: নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি? নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কি তৈরি হয়েছে? 
গোলাম আকবর খোন্দকার: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থানা থেকে যেসব অস্ত্র লুট হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। এ ছাড়া বাইরের অনেক অস্ত্র ঢুকেছে। যেমন আমি আমার রাউজানের কথা বলতে পারি। দলের বাইরের যেসব লোক বালি-মাটির ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করছে, তারা অস্ত্র সংগ্রহ করেছে। রাউজানের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের যারা মাটি-বালির ব্যবসা ও চাঁদাবাজিতে জড়িত, সবার কাছে অস্ত্র রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত জনগণের মধ্যে থেকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে ভীতি কাটবে না। 

খবরের কাগজ: নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। বিভিন্ন দল থেকে অনেক দিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলা হচ্ছে। সেই ‘ভালো’ নির্বাচনের পরিবেশ দেখছেন এখন?
গোলাম আকবর খোন্দকার: পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। আমি বলব না যে একদম খারাপ। তবে সরকার যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে পারে। দেশের আপামর জনগণের অনেক কাজ হয়েছে বলে আমরা মনে করতে পারব। একমাত্র আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে সরকারের ভালো কাজগুলো মানুষের চোখে ধরা পড়ছে না। তবে অতিসত্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত যাতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের আইনের হেফাজতে আনতে হবে। প্রশাসন জানে কে বা কারা এসব উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। প্রশাসন সঠিকভাবে জানে। বিভিন্ন কারণে তারা কাজ করতে পারছে না। কোনো ব্যক্তির স্বার্থ নয়, সমাজের কথা, দেশের কথা বিবেচনা করে কাজ করা উচিত।

খবরের কাগজ: নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেমন দেখছেন?
গোলাম আকবর খোন্দকার: বাস্তবতা হলো, গত ১৭ বছর একটি দলের প্রশাসন হিসেবে তারা কাজ করেছে। এখান থেকে হঠাৎ করে বের হয়ে কতটুকু করতে পারবে, তা সময় বলে দেবে। তবে আমরা দেখছি তারা ভালো করার চেষ্টা করছে।

খবরের কাগজ: নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?
গোলাম আকবর খোন্দকার: করার কিছুই নেই। একই দিন না করেও সম্ভব না। একটি নির্বাচনের জন্য সরকারের অনেক অর্থ ব্যয় হয়। দেশের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। যে কারণে মিতব্যয়িতার চিন্তা করা উচিত।

খবরের কাগজ: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে মনে করেন? 
গোলাম আকবর খোন্দকার: আমি মনে করি সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এখানে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে সেনাবাহিনীকে। দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী মাঠে আছে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য। তাদের অ্যাকটিভ রোল চোখে পড়ছে না। তাদের সহযোগিতা চাইলে তারা এগিয়ে আসে। কিন্তু সেনাবাহিনী যে মাঠে আছে, তাদের যে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সেটা তারা প্রয়োগ করছে না। তারা যদি ক্ষমতা প্রয়োগ করত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হতো। 

খবরের কাগজ: নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
গোলাম আকবর খোন্দকার: গত ১৭ বছর গণমাধ্যম সব বিষয়ে সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারেনি এটা সত্য। ইচ্ছা থাকলেও অনেকেই তা করতে পারেননি। বর্তমানে তারা সেই বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসেছেন। আমি মনে করি, সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসা উচিত। কোনো কোনো নির্বাচনি এলাকায় অনেক সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের ভয়ে সঠিক নিউজ এখনো করতে পারছেন না। তবে অনেকেই চেষ্টা করছেন। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। সমাজ থেকে অসৎ কর্মকাণ্ডে লিপ্তদের বিরুদ্ধে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। 

খবরের কাগজ: আপনার রাউজানের পরিস্থিতি কী?
গোলাম আকবর খোন্দকার: দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা কেউ সেখানে রাজনীতি করতে পারিনি। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সভা-সমাবেশ করতে পারেনি। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর স্বাভাবিকভাবে মানুষ আশা করেছিল তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে। শান্তপ্রিয় জনগণ যারা শহরে এসে বসবাস করছে, নিজেদের পরিবার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য তারা এলাকায় ফিরে যাবে আশা করেছিল। বাস্তবে আমরা কী দেখতে পাই, গত ১৭ বছর মানুষ যে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল তার চেয়ে খারাপ অবস্থায় আমরা ফিরে গেছি। বিগত দেড় বছরে রাউজানে ১৮ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যেটা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এটা কেন হয়েছে? এটা কী রাজনৈতিক কারণে নাকি দ্বন্দ্বের কারণে?–একজনও তো ওখানে মাঠে সভা-সমাবেশ করতে গিয়ে কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি। কেউ কাউকে মারেনি। তাহলে কেন হত্যাকাণ্ডগুলো হলো? এটা আমাদের সবার দেখা উচিত, চিন্তা করা উচিত। রাউজানের জনগণ মনে করে বালুমহাল, মাটি কাটা, দখল নেওয়া ও চাঁদাবাজির কারণে সেটা হচ্ছে। আর প্রবাসী যারা আছেন, তাদের চাঁদা দিতে হচ্ছে এখন। এগুলো আমাদের দেখা উচিত। আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের উচিত সঠিক চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরা। জনগণ কিন্তু বর্তমানে মিডিয়ার কল্যাণে আমি কী কাজ করি, আমার সঙ্গে যেসব নেতা-কর্মী আছেন, সমাজের মধ্যে তাদের কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে সেটা ভালো জানে। যদিও ভয়ের কারণে তারা মুখ খোলে না। তবে এ রকম ভয় দেখিয়ে বেশি দিন তাদের মুখ বন্ধ রাখতে পারবে না। যেমন–শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আমি কুকর্ম করে যদি বলি আমি মহামানব–জনগণ কিন্তু সঠিক জানে কার মাধ্যমে কী হয়েছে। এ ধরনের রাজনীতি আমাদের না করা উচিত। জনগণের পাশে থাকা উচিত।

ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে রাজবন্দীদের মুক্তি এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আপলোড হওয়ার পর শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। ভিডিওতে দলীয় পতাকা হাতে নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় তাদের ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাসান তূর্ণের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে।

ফয়সল/রিফাত/

বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার
ছবি: খবরের কাগজ

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট একটি উচ্চ বিলাসী ও বিদেশি ঋণনির্ভর ও দলীয় কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তন আর লুটপাটের বাজেট, যা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভোলা জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবির শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় বাজেট ঘোষণার পূর্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি বিকল্প ‘ছায়া বাজেট’ উপস্থাপন করেছিল। সেখানে রাষ্ট্রীয় আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, কর কাঠামোর সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার এসব প্রস্তাব বিবেচনায় না নিয়ে বিদেশি ঋণনির্ভর একটি উচ্চ ব্যয়ের বাজেট উপস্থাপন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ছাড়া এ বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না’। একই সঙ্গে তিনি আগামী ৩০ জুন বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানান।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বড় আকারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। 

তার মতে, জামায়াতের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেট অধিক জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী ছিল। বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, দেশের অন্যান্য ব্যাংকেও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অস্থিরতা বিদ্যমান। ইসলামী ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান নয়। ইসলামী ব্যাংক জামায়াতে ইসলামীর ব্যাংক নয়।  এটি দেশের সাধারণ মানুষের ব্যাংক। বাংলাদেশের মানুষের ব্যাংক। বিএনপি মনে করেছে আওয়ামী লীগ যে ভাবে ব্যাংকটি লুটেপুটে খেয়েছে, তারাও সেভাবে লুটে পুটে খাবে। এটা কখনো বাংলাদেশের মানুষ হতে দিবে না। এই ব্যাংকের অবস্থা অবনতি হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মাটির সাথে মিশে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে যারাই ক্ষমতা গ্রহণ করবে তারাই শেখ হাসিনা হয়ে জন্ম হবে। এখনো সময় আছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।  জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা হলে জাতির সাথে প্রতারণা করা হবে। অতীতেও কোন প্রতারণা এই বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেয় নাই এখনো মেনে নিবে না। মেনে না নিলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।’

ভোলা জেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভোলা জেলা নিয়ে মাননীয় স্পিকার যে ভূমিকা রাখছেন তা অবশ্য প্রশংসনীয়। তবে ভোলা সদর আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন। ভোলার মানুষকে নিয়ে ভাবছেন না। তিনি জামায়াতে ইসলামীর  বিরুদ্ধে খুব ভালো বলতে পারেন। এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভোলায় নিজস্ব গ্যাস দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি তৈরি, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ভোলা-বরিশাল সেতু, নদী ভাঙন রোধ প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ কোনো কথা বলছেন না। আমি ভোলার মানুষের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’

ভোলা জেলা আমির মাস্টার জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাওলানা হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায়, সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোয়াযযেম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরার সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাজি।

সম্মেলনে জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, প্রচার ও মিডিয়া পরিচালক অধ্যাপক আমির হোসেন, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আব্বাস উদ্দিন, সুরা সদস্য উৎপাধ্যক্ষ এ এইচ এম ওয়ালীউল্লাহ-সহ জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইমতিয়াজুর রহমান/অমিয়/

রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন  আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) ভোরে রাজবাড়ী শহরতলীর শ্রীপুর বাস টার্মিনালসংলগ্ন মহাসড়কে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে বাস টার্মিনালের সামনে মহাসড়কে কয়েকজন কর্মী ঝটিকা মিছিল বের করেন। স্বল্প সময়ের জন্য মিছিলটি সড়কে অবস্থান করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দেখা যায়। ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবির পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা টিপুর ছবিও ছিল।

এ-সংক্রান্ত প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলের প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি আসলেই রাজবাড়ী শহরতলীর শ্রীপুর এলাকার কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

সুমন/রিফাত/

সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির
ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটকে জনকল্যাণ, প্রযুক্তিনির্ভর, আত্মনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের রূপরেখা আখ্যায়িত করে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপির জার্মানি শাখা। জার্মানির বিএনপি নেতারা বলেছেন, সরকার প্রধান হিসেবে প্রস্তাবিত এই বাজেট প্রমাণ করেছে, তারেক রহমান বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের অকৃত্রিম দেশবন্ধু।

শুক্রবার (১২ জুন) জার্মানির মানহাইমে সরকারের প্রথম বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির জার্মানি শাখার সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশবন্ধু তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নতুন বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি আধুনিক, উন্নত, আত্মনির্ভরশীল এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা। এই বাজেটে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে দেশের মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণরা নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য এই বাজেটে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপকে তিনি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় উন্নয়নের এই যাত্রায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে অংশীদার হতে হবে। ঐক্য, উদ্ভাবন, সুশাসন এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, যা হবে জনকল্যাণমূলক, প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাশীল।

অন্তরা/

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:২১ এএম
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল
নেতাকর্মীদের ঢল। ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ব্যাপক ভিড়।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর এলাকায় এসে জড়ো হন। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই তারা প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় অবস্থান নেন। 

বিমানবন্দর সড়ক, আশপাশের এলাকা এবং প্রবেশপথজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হাতে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা নিয়ে নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছেন। এটি কক্সবাজারবাসীর ভালোবাসা ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে জেলার উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন, ‘কক্সবাজারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই সফরের অপেক্ষায় ছিলেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা কতটা গভীর। তার সফরে জেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন হবে, যা কক্সবাজারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সফরের অন্যতম আকর্ষণ পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু হওয়া এই খালের পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার অন্তত দুই লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

এছাড়া ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দেশের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, পেকুয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত, নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা-থানার উদ্বোধন, চকরিয়ায় বিশাল রাজনৈতিক জনসভা এবং কক্সবাজারের সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সফরকে সফল ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

তারেকুর রহমান/অন্তরা