২৮ জানুয়ারি বুধবার। সময় সকাল সাড়ে ১০টা। কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলা সদরে নিজ বাসভবন থেকে বের হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ।
প্রথমে তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। এরপর নির্বাচনি গণসংযোগ করতে পেকুয়া থেকে চকরিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। চকরিয়া যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ধরেন। অনেকে তাকে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানান। আবার অনেকে টাকার মালা নিয়ে হাজির হন স্বাগত জানাতে। কিন্তু তিনি টাকার মালা না নিয়ে শুধু ফুলের মালা গ্রহণ করেন।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের নাপিতপাড়া ও আশপাশের এলাকায় একাধিক পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এসব সভায় স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও প্রবীণরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও চাহিদার কথা শোনেন।
দুপুরে সালাহউদ্দিন আহমদ আলেম ও ওলামাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, জাতীয় ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিকেলে তিনি পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিসপাড়া এলাকায় মাতামুহুরি নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। পরে আনিসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এ পথসভায় হাজারও নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করা হয়েছিল। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসার কারণে আমি আজ আবার আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চকরিয়ায় একটি নতুন মাতামুহুরি উপজেলা প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সাহারবিল ইউনিয়নের সঙ্গে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সংযোগে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করবে এবং দেশ ও জাতির জন্য নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।’
এরপর আরেকটি পথসভায় তিনি ভোটের নামে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সমালোচনা করে বলেন, ‘ভোটের জন্য জান্নাতের প্রলোভন দেখানো জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। কে জান্নাতে যাবেন তা একমাত্র আল্লাহর সিদ্ধান্ত। কোরআন ও হাদিসে কোথাও বলা নেই–কোন মার্কায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে, যেন আর কোনো মাকে জানালা খুলে সন্তানের ফেরার অপেক্ষা করতে না হয়। গণতন্ত্রের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের ত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে।’
দিনের শেষভাগে চকরিয়া উপজেলার চোয়ারপাড়ী এলাকায় উঠান বৈঠক ও পথসভায় বক্তব্য দেন। সেখানে হাজারও নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের বিজয় হবে।’
স্থানীয়রা জানান, ‘সালাহউদ্দিন আহমদ যখন এমপি ছিলেন, তখন কল্পনার বাইরে উন্নয়ন করেছিলেন।’
সাহারবিল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি আমাদের অনুন্নত এলাকাকে উন্নত করেছেন।’
পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘তিনি যখন গুম হয়েছিলেন, তখন আমরা তার জন্য দোয়া করেছি। আজ তাকে এক নজর দেখার জন্য এসেছি। তিনি বেতুয়াবাজার ব্রিজটি তৈরি না করলে আমাদের নৌকায় করে নদী পার হতে হতো। নদী পার হতে গিয়ে নৌকা ডুবে অনেক স্কুলছাত্র-ছাত্রী মারা গিয়েছিল। পরে তিনি এই ব্রিজ তৈরি করেন।’