বগুড়া শহরে মব সৃষ্টি করে পুলিশে দেওয়া এক কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আওয়ামী লীগের এই নেতার নাম শাহনূর আলম শান্ত (৬০)। তিনি বগুড়ার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী প্রামাণিকের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে তিনি গোপনে বগুড়া শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের কাছে বিউটি পার্লারে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় সারিয়াকান্দির বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে দেখতে পেয়ে আটক করে মারধর করেন। সদর থানা-পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই দিনই তাকে বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির করা নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ডান পা হারান। তার পায়ের মধ্যে রড ঢোকানো ছিল। কৃত্রিম পায়ে চলাফেরা করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবীন জানান, গত ১৭ জানুয়ারি হাজতি শাহনূর আলম শান্তকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শাহনূর আলম শান্তর ছোট ভাই ফারুক মিয়া জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সারিয়াকান্দির নিজবলাইল গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমিত হাসান মাহমুদ জানান, আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত গত ৪ জানুয়ারি নারুলী কষি ফার্মের সামনে বিউটি পার্লারে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। নিজ এলাকার লোকজন তাকে চিনতে পেরে আটক করেন। এরপর তাকে মারপিট করা হয়। ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হাজতে পাঠানো হয়।