ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
Nagad desktop

ছেলের হাত ধরে ফিরছে বাবার সেই খাল খনন কর্মসূচি

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ এএম
ছেলের হাত ধরে ফিরছে বাবার সেই খাল খনন কর্মসূচি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দীর্ঘ ৪৮ বছর পর বাংলাদেশে আবারও শুরু হচ্ছে ‘দেশব্যাপী খাল খনন’ কর্মসূচি। সত্তর ও আশির দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে উন্নয়ন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, এখন তার বড় ছেলে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতীতের সফল পরিকল্পনাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মূলত, এই উদ্বোধন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। একই দিনে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে এই খননকাজ শুরু হবে, সেখানে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যরা এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, একসময় জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। বাবার সেই ঐতিহাসিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী খাল খননের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ডাক দিয়েছেন বলে মনে করেন দলের নেতারা। 

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফল উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছেন তারেক রহমান। যার মধ্যে অন্যতম ছিল খাল খনন কর্মসূচি। দেশে পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আবারও সেই খাল খনন কর্মসূচির গোড়াপত্তন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ভোটের প্রচারে খাল খননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারেক রহমান। ঘোষণা দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে বাবা জিয়াউর রহমানের মতো খাল খনন কর্মসূচি আবারও চালু করতে চান। ভোটের কালি নখ থেকে মোচনের আগেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে তিনি। আজ উত্তরের জেলা দিনাজপুর থেকে খাল কাটা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী পাঁচ বছর দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের এমন উদ্যোগকে পরিবেশবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক চোখে দেখছেন। 

নদীর সংযোগ ঠিক করে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেছেন, শুধু দলীয় পরিচয়ে কেউ যাতে খাল দখল করতে না পারে, সেই বিষয়ে সরকারকে জোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি জীবনের সঙ্গে জীবিকার সংযোগের পথ খোঁজারও পরামর্শ তাদের।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, আজ সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এরপর যাবেন দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে। সেখানে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানেই আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর পৌরসভার উপশহরে শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন। ⁠বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার মৃতপ্রায় ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনর্খনন করা হবে, যাতে সেচব্যবস্থা উন্নত হয় এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো যায়। এ ছাড়া মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করা যায়। খাল পুনরুদ্ধার হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধায় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমবে এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘পরিকল্পনামাফিক এই কর্মসূচি করতে পারলে অবশ্যই তা ইতিবাচক। নদীর সঙ্গে সংযোগ ও প্রাধিকার ঠিক করে কাজ করতে হবে। এই কর্মযজ্ঞে স্থানীয় নদীকর্মী ও পরিবেশবিদকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমি মনে করি, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে পারে এমন এলাকা, বরেন্দ্র এলাকা এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় খনন কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হতে পারে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সুপরিকল্পিত খনন কর্মসূচিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নদী সংযোগ ঠিক রেখে উপকূলীয়, বরেন্দ্র এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। স্থানীয় নদীকর্মী ও পরিবেশবিদদের সম্পৃক্ত করে এই কর্মযজ্ঞ পরিচালনার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক না রাখলে পরিণতি কত ভয়ংকর হতে পারে, তা যশোরের ভবদহ দেখে অনুমান করা যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিক্ষেত্র বিল ডাকাতিয়া। এসব জায়গায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খননকাজ চলতে পারে, অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে খাল খনন করতে পারলে সুফল পাওয়া সম্ভব।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ও রিজিয়নাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, খাল খননের পাশাপাশি জীবন-জীবিকার সংযোগ, খাল দখলকারীদের শাস্তি ও দূষণ রোধ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু দলীয় পরিচয়ে কেউ যাতে খাল দখল করতে না পারে, সেই বিষয়ে সরকারকে জোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কেন খাল পুনরুদ্ধার
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতায় নদী ও খালের একটি প্রাকৃতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। নদী থেকে খাল, খাল থেকে বিল বা নিম্নাঞ্চল–এই ধারাবাহিক প্রবাহের মাধ্যমে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পানি চলাচল করে এসেছে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক দশকে দেশের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ জলাভূমি ও খাল বিলীন হয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকায় একসময় প্রবাহমান ৫৪টি খালের অনেকটিই এখন দখল ও ভরাটের শিকার। প্রায় ১২০ কিলোমিটার খাল রাস্তা বা ভবনের নিচে চাপা পড়ে গেছে। চট্টগ্রামেও একই চিত্র। একসময় সেখানে ১০৪টি খাল থাকলেও বর্তমানে মাত্র কয়েক ডজন খালের অস্তিত্ব টিকে আছে। এই বাস্তবতা কেবল পরিবেশগত বিপর্যয়ই সৃষ্টি করেনি; বরং সামান্য বৃষ্টিতেই শহরগুলোকে ডুবিয়ে দিচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে তা বাংলাদেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই পথ ধরেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছেন তার ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯৭৭ সালের গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গৃহীত খাল খনন কর্মসূচি ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সেই সময়ে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়, যা স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পরিচালিত ‘সবুজ বিপ্লব’-এর অংশ ছিল। জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট অবস্থায় রয়েছে। বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সে জন্য এসব সংকট নিরসনে বর্তমান সরকার ফের খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। 

এদিকে দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই মিছিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতা-কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রিফাত/

দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে অপহরণের অভিযোগকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির নেতারা।

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আয়োজনে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা আড়াল করতে গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই পৌর বিএনপি এ আয়োজন করেছে।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, শ্রমিক দলের সভাপতি জামাল হোসেন, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব কাওছার আলমসহ অন্যান্য নেতারা।

লিটন সরকার/রিফাত/

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আনন্দ মিছিলে জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদাত মানু, মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুর রহমান জামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান হোসেনসহ জেলা, উপজেলা, শহর ও বিভিন্ন ইউনিট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

নেতারা বলেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করবে এবং দলের আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আনন্দ মিছিলে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

সুমন/রিফাত/

জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। ছবি: খবরের কাগজ

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করব না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমন করা যাবে না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ‘সরকার ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে যে দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তা দেশের মানুষকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সরকার জনগণের কষ্ট উপলব্ধি না করে সমালোচনাকে উপহাসের চোখে দেখছে। বাস্তবতা হলো, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন আজ গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। নারীরা ঘরের বাইরে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় শক্তিশালী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের বিকল্প নেই।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

রিফাত/

ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে রাজবন্দীদের মুক্তি এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আপলোড হওয়ার পর শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। ভিডিওতে দলীয় পতাকা হাতে নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় তাদের ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাসান তূর্ণের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে।

ফয়সল/রিফাত/