আগামী ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচন হবে। তবে এই নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে আনাকে প্রার্থীরা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। আর সে কারণেই প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্র নিতে তাদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আসনটিকে শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ২৪ এপ্রিল তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে আসনটিতে আগামী ৯ এপ্রিল উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী তারেক রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবু নোমান মো. মামুনুর রশিদ ও বাংলাদেশ সমাজন্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নুরী। জানা গেছে, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। ১৫০টি কেন্দ্রে ভোট পড়ে ৭১ দশমিক ০৩ শতাংশ।
তবে এবারের উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মনোনীত প্রার্থী আল আমিন তালুকদার। এই নির্বাচনে প্রার্থী তিনজন হলেও বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ও জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমানের পক্ষে তাদের নেতা-কর্মীদের মাঠে বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। শহরের সাতমাথায় এ দুজন প্রার্থীর পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন থাকলেও বিডিপির প্রার্থী আল আমিন তালুকদারের কোনো প্রচার দেখা যাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০২১ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ৮২ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বগুড়া পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে কত ভোট প্রত্যাশা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান যে পরিমাণ ভোট পেয়েছিলেন সে পরিমাণ অর্থাৎ ২ লাখ ১৫ হাজার বা আরও কিছু বেশি প্রত্যাশা আমার। কারণ এগুলো সবই বিএনপির ভোট।’
এই নির্বাচনে প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই ভোট কবে, কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে– এসব বিষয়ে অনেক ভোটারের কাছে সঠিক তথ্য নেই। এ কারণেই উপনির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা প্রার্থীর প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করছেন।’ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরো পরিবেশ নির্বাচনের অনুকূলে আছে। পরিস্থতি এ রকম থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’
অন্যদিকে জামায়াত প্রাথী আবিদুর রহমানও দিন-রাত এক করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটের মাঠের প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি জয়ী হব। সংসদের সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য বগুড়ার মানুষ আমাকে নির্বাচিত করবে– এটা আমার বিশ্বাস।’
বিএনপি প্রার্থীর মতো তিনিও ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। বলেন, ‘আমাদের দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রার্থীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দলীয় প্রতীকের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তাদের কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’
ইব্রাহিম খলিল সিয়াম বগুড়া আজিজুল হক কলেজের ব্যবসা শাখা থেকে এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষায় আছেন। ভোট কবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোট এপ্রিল মাসে হবে। তবে কত তারিখে তা জানি না।’
আগামী ৯ এপ্রিলের নির্বাচনে বগুড়ায় ১৫০টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এখানেও পোস্টাল ভোট দেওয়ারও সুযোগ থাকছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যে বলা হয়েছে, বগুড়ায় পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৩৫ জন বেশি। এ নির্বাচনে পুরুষ ভোটার আছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৯ জন, আর নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের আছেন ১০ জন। উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। কোনো বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। উপনির্বাচন উপলক্ষে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।