ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, এলাকাবাসীর তৎপরতায় রক্ষা বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ শরীয়তপুরে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা স্থানে গ্যাস নেই: বাপেক্স শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু! মানিকগঞ্জে বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্ত ছেলে ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০ ড. ইউনূসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ প্রতিদিন ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে : মির্জা ফখরুল মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায় ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস খাদে পড়ে নারী-শিশুসহ নিহত ৪ ধামরাইয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা আবারও ম্যাচ চলাকালে মাঠে লুটিয়ে পড়লেন এরিকসেন উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক রাজধানীর বনানীতে আরএফএল ‘বেস্ট বাই’ এর নতুন শোরুম চালু গজারিয়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার তুরিন আফরোজ ফুটপাথের দোকানীকে সাধারণ ভাববেন না! হতে পারে... ইরানের হামলায় চুক্তির কোনো পরিবর্তন হবে না: ট্রাম্প রামুতে জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার আবারও ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ কানাডার পিক্সেল স্টুডিও অ্যাপ বন্ধ করল গুগল রাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টারিং শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত
Nagad desktop

আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনে রোজার ভূমিকা

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৪, ০৮:৩০ এএম
আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৪, ১২:৪৩ পিএম
আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনে রোজার ভূমিকা
প্রতীকী ছবি

তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি অর্জনের উত্তম মাস রমজানুল মুবারক। আধ্যাত্মিক উৎকর্ষসাধনে এ মাসের ভূমিকা ব্যাপক। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ তার পাশবিকতাকে দমন করে আত্মার শক্তিকে বিকশিত করার অপার সুযোগ লাভ করে। রমজানে রোজাদারের মনুষ্যত্ব ও রুহানিয়াত সজীব ও সক্রিয় হয়। রিপুর তাড়নামুক্ত হয়ে মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত বিবেক ও প্রজ্ঞার সদ্ব্যবহার করে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী হতে পারে। 


আধ্যাত্মিক সাধনায় সফলতা অর্জনের নিমিত্তে রোজার ভূমিকা অপরিহার্য। রোজার মাধ্যমে যত দ্রুত মানুষের আত্মিক পরিবর্তন ঘটে, অন্য কোনো উপায়ে তা এত দ্রুত ঘটে না। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা খোদাভীরু হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)


রোজার অমূল্য পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি স্বয়ং আল্লাহতায়ালা দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা বলেন, বনি আদমের প্রত্যেক আমলের (নির্ধারিত সওয়াব) রয়েছে, কেবল রোজা ছাড়া। এটা আমার জন্য; আর আমিই এর প্রতিদান দেব।’ (বুখারি, ৫৯২৭) ভাবা যায়? রোজা এতটাই উঁচুমার্গের আমল, যার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহতায়ালা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব তরুণ বিবাহের নির্দিষ্ট সময়কাল অতিবাহিত করেও বিয়ে করে না, অবৈধ সম্পর্কে তারাই বেশি লিপ্ত হয়। শয়তানি অপশক্তি তাদের প্ররোচনার জিঞ্জিরে আবদ্ধ করে ফেলে। এমতাবস্থায় আধ্যাত্মিক উৎকর্ষসাধনের টনিক হিসেবে কাজ করে সিয়াম সাধনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য রয়েছে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা এটা দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। আর সামর্থ্য যার নেই, সে যেন রোজা রাখে। নিশ্চয় তার জন্য সেটিই হবে ঢালস্বরূপ।’ (বুখারি, ৫০৬৫)


মাটির বৈশিষ্ট্য যখন মানুষের মধ্যে প্রবল হয়, তখন সে মনুষ্যত্বটুকুও হারিয়ে ফেলে। বরং চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে আত্মার শক্তি যখন তার মধ্যে প্রবল হয়, তখন সে মারেফতে এলাহি অর্জনে সক্ষম হয়। এমনকি উৎকর্ষের বিচারে ফেরেশতাকুলকেও ছাড়িয়ে যায়। রমজানের কর্মসূচি মানুষকে জাগতিকতা থেকে আধ্যাত্মিকতা এবং দেহশক্তি থেকে আত্মার উৎকর্ষ অর্জনে সাহায্য করে। ফলে রোজার মাধ্যমে মানুষ সৎকর্মের প্রতি ধাবিত হওয়ার প্রণোদনা লাভ করে। এর কারণ হলো রমজানে ইবাদতের প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে যায়। রমজানে শয়তানকে কুদরতিভাবে বন্দি করে রাখা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।’ (বুখারি, ১৮৯৯)


সুফি-সাধকরা বলেন, চারটি পদ্ধতি অবলম্বন করে মানবমনকে পরিশোধিত করা যায় এবং আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়। আর সেগুলো হলো―

এক. ঘুম কম যাওয়া।

দুই. কম আহার করা।

তিন. কথা কম বলা।

চার. মানুষের সঙ্গে মেলামেশা কম করা। 

পবিত্র মাহে রমজানে এ চারটি প্রক্রিয়ারই উত্তম অনুশীলন করা সম্ভব হয়। যেমন দীর্ঘ রাত অবধি তারাবির নামাজ ও কিয়ামুল লাইলে থাকা হয়, আবার সাহরিতে ওঠার ফলে ঘুমের মাত্রা কম হয়। আবার রোজার কারণে সারা দিন পানাহার বর্জনের ফলে কম আহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে কম কথা বলার লক্ষ্যে বিশেষভাবে রমজানে মিথ্যা, অনর্থক কথা ও গিবত থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি থাকল মানুষের সঙ্গে মেলামেশা কম করার ব্যাপারটি। আর এর জন্য ইতেকাফের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে বান্দা মানুষের সংস্রবমুক্ত হয়ে একাগ্রচিত্তে স্বীয় প্রভুর প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে। এভাবেই রমজানজুড়ে মানবমনকে পরিশোধিত করার আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব। 

লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা ইউরোপিয়ান লিগের আসর এলেই আমাদের চেনা জগৎটা এক লহমায় বদলে যায়। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নীল-সাদা বনাম হলুদ-সবুজের তুমুল লড়াই। ফুটবল মাঠের উত্তেজনা গ্যালারি পেরিয়ে আমাদের ড্রয়িংরুম, ছাদ আর পাড়ার মোড়ে এমন এক আবহ তৈরি করে, যা মাঝেমধ্যে উৎসবের আনন্দকে বিষাদে রূপ দেয়। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ভালোবাসার সীমানা ঠিক কোথায়? এটি কি কেবলই ক্ষণিকের বিনোদন, নাকি এক ধরনের অন্ধ আসক্তি যা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, সময় ও আদর্শকে গ্রাস করে নিচ্ছে?

ইসলাম মানবপ্রকৃতির সুস্থ বিনোদনকে সবসময় স্বাগত জানিয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে সাহাবিদের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন, তীরন্দাজিতে উৎসাহিত করেছেন। বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদল সাহাবিকে বলেছিলেন, হে বনী ইসমাঈল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কারণ তোমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন একজন দক্ষ তীরন্দাজ। অতএব, সুস্থ উপায়ে খেলাধুলা উপভোগ করায় কোনো বাধা নেই।

বিপত্তিটা বাঁধে তখনই, যখন বিনোদন মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্যকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। পবিত্র কুরআনের সুরা মুনাফিকূনের ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। আর যারা এমন করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আধুনিক ফুটবলের জোয়ারে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সময়ের অপচয়। মধ্যরাতের ম্যাচ দেখে অনেকেই ফজরের নামাজ অবহেলায় ঘুমিয়ে পার করছেন। খেলা শেষে সামাজিক মাধ্যমে চলে কাদা ছোড়াছুড়ি। অথচ কিয়ামতের দিন যে প্রধান প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে, তার অন্যতম হলো,মানুষ তার জীবন কোন কাজে ব্যয় করেছে (তিরমিজি)।

আবেগের পাশাপাশি হচ্ছে বিপুল অর্থের অপচয়। প্রিয় দলের বিশাল পতাকা বানানো, জার্সি কেনা বা আতশবাজির নামে যে অপব্যয় হয়, তা বিবেকবান কাউকে আনন্দ দিতে পারে না। কোরআনে বলা হয়েছে, অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সুরা ইসরা, ২৬-২৭)।
এই উন্মাদনা সমাজে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করছে। একই ছাদের নিচের দুই ভাই বা দুই বন্ধু স্রেফ খেলার কারণে শত্রুতে পরিণত হচ্ছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বুখারি)।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো তরুণদের অন্ধ অনুকরণ। প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখতে দেখতে তারা কখন যেন তার লাইফস্টাইল, অদ্ভুত চুলের ছাঁট বা ট্যাটু সংস্কৃতির অনুকরণ শুরু করে, তা নিজেরাও টের পায় না। যার আদর্শ হওয়ার কথা ছিল বিশ্বনবি (সা.)-এর সে আজ একজন বিদেশি ফুটবলারের জন্য হাজার শব্দের পোস্ট লেখে, অথচ সুন্নাহর প্রতি তার ভ্রুক্ষেপ নেই।

ইসলাম আনন্দের একটি সুন্দর নৈতিক সীমারেখা টেনে দেয়। খেলাধুলা যেন আমাদের ইবাদত ও আখেরাতের প্রস্তুতিকে গ্রাস না করে। বিনোদনকে বিনোদনের জায়গায় রেখে আসুন আমরা নিজে ও আমাদের সন্তানদের এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখি।

লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল?

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি কখনো এমন কোনো হাতের স্পর্শের কথা শুনেছেন, যা একই সঙ্গে চরম শক্তিশালী অথচ রেশমের চেয়েও নরম? কিংবা এমন কোনো পায়ের অবয়ব দেখেছেন, যা শত মরুভূমির রুক্ষ পথ পাড়ি দেওয়ার পরও ছিল ক্লান্তিহীন ও মাংসল? ইসলামের ইতিহাসে বীরত্বের প্রতীক হযরত আলী (রা.)।

যখনই প্রিয় নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক সৌন্দর্যের স্মৃতিচারণ করতেন, তখন তিনি বিশেষভাবে তাঁর হাত ও পায়ের অলৌকিক গঠনশৈলীর কথা উল্লেখ করতেন। চলুন, আজ নবিজির হাত, পা এবং তাঁর চলনভঙ্গির এক অনন্য শারীরিক রহস্য সম্পর্কে জেনে নেয়।

হযরত আলী (রা.)-এর নিখুঁত বিবরণ থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর হস্তদ্বয় ও পদদ্বয়ের তালু এবং আঙুলসমূহ ছিল বেশ মাংসল (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মানব শরীরের গঠনশৈলী (Anatomy) অনুযায়ী, হাত ও পায়ের তালু এবং আঙুল মাংসল হওয়া উচ্চ কার্যক্ষমতা, সহনশীলতা এবং শারীরিক দৃঢ়তার লক্ষণ।

এর পাশাপাশি তাঁর হাত ও পায়ের হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বেশ মোটা ও শক্তিশালী (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)। তাঁর মাথা মোবারক ছিল সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা বড় (মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৪), যা এক রাজকীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার প্রতীক। তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ বা খাটো ছিলেন না, বরং এক সুষম দেহের অধিকারী ছিলেন (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

নবিজি (সা.)-এর দেহের আরেকটি অতি সুন্দর ও অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর বুকের পশমের বিন্যাস। তাঁর পুরো শরীর পশমে আবৃত ছিল না; বরং তাঁর বুক থেকে শুরু করে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি অত্যন্ত সরু ও সোজা রেখা প্রলম্বিত ছিল [মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৪], যা তাঁর শ্বেত-শুভ্র দেহে এক অপার্থিব নান্দনিকতা এনে দিয়েছিল।

যখনই রাসুলুল্লাহ (সা.) পথ চলতেন, তাঁর হাঁটার গতি ও ভঙ্গিতে এক অদ্ভুত শক্তি ও ক্ষিপ্রতা প্রকাশ পেত। তিনি অলসভাবে পা টেনে চলতেন না। সাহাবিদের ভাষায়, তাঁকে হাঁটতে দেখলে মনে হতো তিনি যেন কোনো উঁচু স্থান বা পাহাড় থেকে সগৌরবে নিচের দিকে অবতরণ করছেন (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩১১)।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষের অবয়ব?

এই গতিশীল চলনভঙ্গি প্রমাণ করে তিনি কতটা কর্মঠ এবং আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। আর এই কারণেই হযরত আলী (রা.) তাঁর চিরন্তন অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘তাঁর পূর্বে কিংবা পরে আমি তাঁর মতো অনুপম আকর্ষণীয় মানুষ আর কাউকেই দেখিনি’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬)।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুন ২০২৬, সোমবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?
ছবি: সংগৃহীত

নিঝুম রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর পর আমরা যে স্বপ্নের মুখোমুখি হই, তা কেবলই কি মনের কল্পনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো মহাজাগতিক ইশারা? ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা তাবির একটি গভীর ও স্বতন্ত্র জ্ঞান। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রামাণিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.)। তার কালজয়ী গ্রন্থ তাফসিরুল আহলাম-এ ঘুমের ঘোরে গান শোনা বা গান গাওয়ার এমন কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও প্রতীকী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা সমসাময়িক মানুষকে সম্পূর্ণ নতুন এক চিন্তার খোরাক জোগায়।

ঘুমের মধ্যে যদি আপনি কোনো পরিচ্ছন্ন, অশ্লীলতাহীন এবং গভীর অর্থবহ গান বা গজল শুনতে পান, তবে তা কিন্তু ভয়ের কিছু নয়। ইবনে সীরীন (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন সাধারণত স্বপ্নদ্রষ্টার বাস্তব জীবনে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের পূর্বাভাস। এটি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আকস্মিক উন্নতি এবং আর্থিক সমৃদ্ধি লাভের একটি শুভ ইঙ্গিত। এমনকি কোনো কোনো ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন স্বপ্নের গায়কের মাঝে ভবিষ্যতে একজন বড় আলেম, জ্ঞানীগুণী, দূরদর্শী বিচারপতি কিংবা সফল মন্ত্রী হওয়ার মতো সুপ্ত গুণাবলি লুকিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

কিন্তু সব সুর তো শুভ বার্তা বয়ে আনে না; যদি স্বপ্নে শোনা গানটি হয় সস্তা, অশ্লীল কিংবা মন্দ কথার, তবে তা ভবিষ্যতের এক বড় সতর্কবার্তা। ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন মূলত বাস্তব জীবনে লোকসান বা বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়। কোনো ধনাঢ্য বা সম্পদশালী ব্যক্তি যদি নিজেকে লোকালয় বা বাজারে বসে এমন গান শুনতে দেখে, তবে বুঝতে হবে তার জীবনে কোনো নৈতিক স্খলন বা মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, কোনো দরিদ্র ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখলে তা তার মানসিক চাপ বা জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

আপনি কি স্বপ্নে নিজেকেই গলা ছেড়ে গান গাইতে দেখছেন? ইসলামি স্বপ্নের বিজ্ঞানে এটিকে বেশ নেতিবাচক ও আশঙ্কাজনক চোখেই দেখা হয়েছে। এই তাবীর অনুযায়ী, স্বপ্নে নিজে গান গাইলে বাস্তব জীবনে তার শত্রু-মিত্র সবাই তাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার বা ত্যাগ করার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া, তাত্ত্বিকগণ মনে করেন গান মূলত মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ ও ফাসাদের উন্মেষ ঘটায়; কারণ বলা হয়ে থাকে, সৃষ্টির শুরুতে অভিশপ্ত ইবলিসই সর্বপ্রথম গান ও আর্তনাদ করেছিল। তাই স্বপ্নে নিজে গান গাওয়াকে পারিবারিক বা সামাজিক অশান্তির কারণ হিশেবে চিহ্নিত করা হয়।ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, স্বপ্ন মূলত তিন ধরনের, আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের কুমন্ত্রণা অথবা মানুষের নিজের মনের অবদমিত কল্পনা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি কল্পনা করুন, মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা নিজে এবং তাঁর অগণিত ফেরেশতা চব্বিশ ঘণ্টা একটি বিশেষ কাজে নিয়োজিত আছেন! কাজটি কী? সেটি হলো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাত পেশ করা। যে কাজের সাথে স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা যুক্ত, সেই কাজে শামিল হওয়া মুমিনদের জন্য কত বড় সৌভাগ্য! নবিজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা কেবল একটি সাধারণ আমল নয়, এটি সরাসরি আল্লাহর আদেশ এবং কিয়ামতের কঠিন দিনে নবিজির সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র রাজপথ।

পবিত্র কোরআনের সুরা আহযাবের একটি আয়াত মুমিনের হৃদয়ে নবিপ্রেমের জোয়ার তোলে। যেখানে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের প্রতি সরাসরি নির্দেশ জারি করে বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবির প্রতি সালাত (দরুদ) পেশ করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।(সুরা আহজাব, ৫৬)। আমরা যখন কারও জন্য দোয়া করি, তখন আমাদের নিজেদের কোনো লাভ হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পড়ার সমীকরণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং লাভজনক।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনুল আ’স (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বা দরুদ বর্ষণ করবেন। (মুসলিম, ৩৮৪; সুনানে নাসায়ী, ৬৭৮)। আপনি যখন দুনিয়ার কোনো মানুষের প্রশংসা বা উপকার করেন, তখন স্রষ্টা আপনাকে সরাসরি ১০ বার পুরস্কৃত করেন না। কিন্তু নবিজির প্রতি ১ বার দরুদ পাঠ করলে মহাবিশ্বের মালিক আপনার ওপর ১০ বার বিশেষ দয়া ও শান্তি বর্ষণ করেন। এটি এক অসামান্য আধ্যাত্মিক ইনভেস্টমেন্ট!

কিয়ামতের দিন যখন কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে চারদিকে হাহাকার থাকবে, তখন কার পাশে দাঁড়াতে চাইবেন আপনি? সেই চরম বিপদের মুহূর্তে নবিজির সবচেয়ে কাছে থাকার সূত্রটি অত্যন্ত সহজ। হযরত ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব মানুষের চেয়ে আমার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী (কাছাকাছি) হবে, যে তাদের মধ্যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পড়বে। (জামে আত-তিরমিজি, ৪৮৪)

দরুদ ও সালাম হলো নবিপ্রেমের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি সময় বের করে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা আমাদের জীবনের পাপমোচন করে এবং আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দেয়। বইয়ের পাতা কিংবা পত্রিকার কলামে নবিজির অবয়ব ও মর্যাদার এই অনন্য দিকটি আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনে দরুদ পড়ার এক নতুন প্রেরণা জোগাবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক