লোকটার হাত-পা সব ঠিক আছে। দেখে মনেই হয় না, সে অসুস্থ। কাজ করার সক্ষমতা তার নাই। হরহামেশা দেখা যায় এমন লোক ভিক্ষাবৃত্তি করছে। ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তি ঘৃণিত কাজ। তবুও কর্মক্ষম মানুষও ভিক্ষা করছে। দুটো কারণ; এক, ভিক্ষাবৃত্তি বিনা পুঁজির কাজ। দুই, স্বাধীন পেশা। কাজ করলেও কারও অধীনে করতে হয়। জবাবদিহিতা থাকে। নির্দিষ্ট সময় কাজ করতে হয়। ভিক্ষাবৃত্তিতে এসব বাধ্যবাধকতা নেই। নিয়ম মানার কিছু নেই। দুই দিন ভিক্ষা করে, তিন দিন ঘুমানো যায়। পুরুষ কম। বেশির ভাগ মধ্যবয়স্ক নারীদের দেখা যায়। যারা অনায়াসে বাসাবাড়িতে কাজ করতে পারে। অথচ সেটা তারা করবে না। ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তিকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।
আল্লাহ বলেন, তোমরা জোর করে কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ো না। (সুরা বাকারা, ২৭৩)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা মাল অপচয় ও ভিক্ষাবৃত্তি অপছন্দ করেন।’ (বোখারি, ১৪৫৫) রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তিতে নিজেকে অভ্যস্ত বানায়, সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এমন অবস্থায় যে, তার মুখমণ্ডলে এক টুকরো গোশতও থাকবে না।’ (বোখারি, ১৪০৫)।
রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘ভিক্ষাবৃত্তি ক্ষতস্বরূপ; এর দ্বারা ভিক্ষুক মুখমণ্ডলকে ক্ষত-বিক্ষত করে।’ (নাসায়ি, ৯৮)। ভিক্ষাবৃত্তি আল্লাহর কাছে চরম অপছন্দনীয় কাজ। নিজ হাতের উপার্জনকারী বান্দাকে আল্লাহ পছন্দ করেন। সব ভিক্ষুকই ভিক্ষুক নয়। কিছু শৌখিন ভিক্ষুক আছেন। বয়স হয়ে গেছে। সারা দিন ঘরে বসে কি করবেন। তাই দূর গ্রামে সারা দিন ভিক্ষা করে বিকেলে বাসায় ফেরেন। এরা হলো শৌখিন ভিক্ষুক।
কিছু কর্মক্ষম মানুষ; তারাও ভিক্ষা করেন। এদেরকে কাজ দিলেও করবে না। আরামের ভিক্ষাবৃত্তিতে এরা অভ্যস্ত হয়ে গেছে। রাষ্ট্র এদের পুনর্বাসন করতে পারে। ভিক্ষুকরা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাটসহ ট্রানজিট পয়েন্ট, অভিজাত এলাকায় এরা ভিক্ষা করে। ভিক্ষার জন্য বিদেশিদের হাতে-পায়ে ধরে। যা বিদেশিদের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ নয়। মধ্য আয়ের উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে দেশ। তাই ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক: প্রাবন্ধিক