রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হারাম খাবার গ্রহণকারী ব্যক্তির উদাহরণ দিয়েছেন, যে এমন অবস্থায় দোয়া করে যখন সে সফররত, দুর্দশাগ্রস্ত এবং যখন তার অবস্থা দোয়া কবুল হওয়ার উপযোগী। কিন্তু এ ব্যক্তির মাঝে দুই ধরনের কার্যকারণ বিদ্যমান। তার মধ্যে দোয়া কবুল হওয়ার কারণও বিদ্যমান। আবার দোয়া কবুল হওয়ার প্রতিবন্ধকতাও বিদ্যমান। দোয়া কবুল হওয়ার কারণগুলো হলো-
এক. হাত প্রসারিত করে দোয়া করা। লোকটি হাত প্রসারিত করে দোয়া করেছিল। আর হাত প্রসারিত করে দোয়া করা দোয়া কবুল হওয়ার একটা উপায়। লোকটি হাত আসমানের দিকে কেন প্রসারিত করেছিল? আসমানের দিকে হাত প্রসারিত করে সে আল্লাহতায়ালার আকাশের উচ্চতায় অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করেছে।
এ হাদিস দ্বারা দোয়ার মধ্যে হাত তোলা বৈধ হওয়ার বিধান প্রমাণিত হয়। আর দোয়ায় হাত তোলাই মূলত স্বাভাবিক বিধান। তবে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যদি হাত না তোলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তা হলে ভিন্ন কথা। সে ক্ষেত্রে হাত তুলবে না।
দুই. লোকটি ‘হে রব, হে রব!’ বলে দোয়া করেছিল। এর মাধ্যমে সে আল্লাহতায়ালার রব ও প্রতিপালক হওয়ার উসিলা গ্রহণ করেছিল। এ ধরনের উসিলা গ্রহণ শরিয়াহতে বৈধ। আল্লাহতায়ালার নাম, গুণাবলি ও প্রভুত্ব ইত্যাদির দোহাই দিয়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। এটিও দোয়া কবুল হওয়ার একটি কারণ।
তিন. লোকটি ছিল ধূলিমলিন, বিধ্বস্ত। অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত। অন্তরে অহংকার ছিল না তার। অহংকারী লোকদের দোয়া কবুল হয় না। দোয়া কবুল হওয়ার পথে অহংকার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তো লোকটির মাঝে দোয়া কবুল হওয়ার একটি কারণ এটাও বিদ্যমান ছিল যে, সে ছিল বিনয়াবনত।
এ ছাড়াও লোকটি দীর্ঘ সফরে ছিল। আর মুসাফিরের দোয়াও কবুল হয়। সফর দোয়া কবুলের অন্যতম সম্ভাবনাময় সময়। কারণ, তখন মানুষ প্রয়োজনগ্রস্ত থাকে।
অতএব, তার মাঝে দোয়া কবুল হওয়ার নানান কারণ বিদ্যমান ছিল। কিন্তু দোয়া কবুলের যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, তা এসব কার্যকারণকে বাতিল ও অকার্যকর করে দিয়েছে। ফলে তার দোয়া কোনো ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি। ‘এদিকে তার খাবার হারাম। পানীয় হারাম। পরিধেয় হারাম এবং সে লালিত-পালিত হয়েছে হারাম উপকরণের মাধ্যমে। তা হলে কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে!’ অর্থাৎ, তার দোয়া কবুল হওয়া বহুত দূর কি বাত! কারণ তার মাঝে দোয়া কবুলের উল্লিখিত প্রতিবন্ধকতাগুলো বিদ্যমান। বোঝা গেল, দোয়া কেবল তখনই কবুল হয়, যখন তা কবুল হওয়ার কারণ পাওয়া যায়, পাশাপাশি কোনো প্রতিবন্ধকতাও না থাকে।
হাদিসের এ অংশ হারাম থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক হওয়ার আরও একটি দলিল। ‘তোমরা হালাল বস্তু হতে খাও’-এ আয়াতাংশের দাবিও এটাই। সুতরাং হারাম খাওয়া যাবে না। অপবিত্র জিনিস বর্জন করতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের জন্য পবিত্র জিনিস হালাল করেছেন। অপবিত্র জিনিস করেছেন হারাম। আর দোয়া করার পাশাপাশি দোয়া কবুল হওয়ার উপযোগী কাজ করা এবং দোয়া কবুলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কাজ থেকে বিরত থাকাও কর্তব্য। তাই আমরা শুধু দোয়া করেই বসে থাকব তা নয়; বরং দোয়া করার পাশাপাশি আমাদেরকে দোয়া কবুলের কার্যকারণের দিকেও মনোযোগী হওয়া।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক