রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজকে কত গুরুত্ব দিতেন বা নামাজের সময় হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কী অবস্থা হতো- এ কথা বোঝাতে কাউকে কাউকে নিচের কিসসাটি বলতে শোনা যায়। একবার নামাজের সময় হলে নবিজি অজু করছিলেন। এমন সময় আয়েশা (রা.) তার কাছে গেলে তিনি তাকে চিনলেন না। জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে?
আয়েশা (রা.) বললেন, আমি আয়েশা। নবিজি বললেন, আয়েশা কে? তিনি বললেন, আবু বকরের মেয়ে। নবিজি বললেন, আবু বকর কে? আয়েশা (রা.) বললেন, ইবনে কুহাফা। অর্থাৎ নামাজের সময় ঘনিয়ে আসার কারণে নবিজি নামাজ নিয়ে এতটাই নিমগ্ন যে, প্রিয় সহধর্মিণী আয়েশা (রা.)-কেও চিনতে পারছেন না। প্রিয় সাহাবি আবু বকর (রা.)-কেও চিনতে পারছেন না।
নামাজ বা জামাতের নামাজ নবিজির কাছে কী পরিমাণ গুরুত্বের বিষয় ছিল- তা তো বলাই বাহুল্য। কিন্তু সে কারণে আয়েশা (রা.)-কেও চিনতে পারছেন না- এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা পাওয়া যায় না। হ্যাঁ, একটি জয়িফ বর্ণনায় এর কাছাকাছি কথা পাওয়া যায়। বর্ণনাটি হলো- যখন আজান হতো তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা এমন হতো, যেন তিনি কাউকে চেনেন না। [দ্রষ্টব্য: তারিখে দিমাশক, ইবনে আসাকির, খ. ৭২, পৃ. ৩৬৭; তারিখু আবি জুরআহ আদদিমাশকি, খ. ১, পৃ. ৬৬০; সিয়ারু আলামিন নুবালা, খ. ৫, পৃ. ২৯ (সুওয়াইদ ইবনে গাফালা (রাহ.)-এর জীবনী); তাখরিযু আহাদিসিল ইহইয়া, ইরাকি, বর্ণনা ৩৮৭]
আজান শুনলে বা নামাজের সময় হলে নবিজি কী পরিমাণ গুরুত্বের সঙ্গে নামাজের জন্য মসজিদে চলে যেতেন- আয়েশা (রা.) থেকেই বর্ণিত এ সংক্রান্ত সহিহ হাদিস রয়েছে। আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ (রাহ.) বলেন, আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবিজি পরিবারে থাকা অবস্থায় কী করতেন। উত্তরে আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি পরিবারের খেদমতে নিয়োজিত থাকতেন (পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করতেন); যখন আজান শুনতেন সঙ্গে সঙ্গে (নামাজের জন্য মসজিদে) বের হয়ে যেতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৩৬৩)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক