বিয়ে এমন এক সম্পর্ক, যার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা যুবক-যুবতির মধ্যে সম্পর্ক করে দেন। এটা পৃথিবীতে আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটার মাধ্যমে আল্লাহ নারী-পুরুষের মধ্যে পবিত্র বন্ধন করে দেন। যদি বিয়ে ভালো পরিবেশে, পবিত্র অবস্থায়, বাবার উপস্থিতিতে, অন্যদের দোয়ার মাধ্যমে হয়, তাহলে বিয়ে টিকে থাকে এবং বিয়ের সম্পর্ক মজবুত থাকে। কিন্তু যদি এ সম্পর্ক অপবিত্রতার মিশেলে হয়, এমন কোনো সম্পর্কের ফলে হয়, যা মানুষের সামনে প্রকাশ করতে আমাদের লজ্জা হয়, তাহলে এমন বিয়ে খুব দ্রুতই ভেঙে যায়।
এক যুবক কোনো যুবতির সাথে পরিচিত হলো। যুবতিকে পছন্দ হলো তার। যুবক তার সব চেষ্টা দিয়ে যুবতির সামনে ভালো ও সুন্দর হওয়ার চেষ্টা করল। যুবক যখন জানতে পারল যে, যুবতি একজন শান্ত স্বভাবের স্বামীর স্বপ্ন দেখে, তখন যুবক গুরুগম্ভীর ও শান্ত হওয়ার ভান করে; কিন্তু সে ভেতর থেকে তার ঠিক উল্টো।
অনেক যুবক বিয়ের আগে নিজেকে দানশীল ও মিতব্যয়ী দেখায়; কিন্তু বিয়ের পরে দেখা যায় সে আসলে কৃপণ। একইভাবে অনেক যুবতি নিজেকে খুব ভালো স্বভাবে উপস্থাপন করে, জীবনযাপনে খুবই বাস্তবসম্মত মিতব্যয়ী হিসেবে দেখায়; কিন্তু বিয়ের পরে দেখা যায় সে আসলে খুবই খরুচে, পোশাকআশাক-সাজগোজের পেছনে প্রচুর খরচ করে।
যে যুবতি বিয়ের আগে সম্পর্ক করে, সে আসলে বিয়ের আগেই নিজের মর্যাদা-সম্মানকে ঝুঁকিতে ফেলে, একইসাথে তার পুরো জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে। কারণ যে যুবক বিয়ের আগে তার সাথে যোগাযোগ রাখে, যুবতিও পরিবারের আড়ালে তার সাথে যোগাযোগ করে, দেখা করে; এমন যুবক কখনো এমন যুবতিকে মন থেকে সম্মান করে না, সে যদিও সামনাসামনি অনেক সম্মান দেখায়, যতই বলে যে, আমি বর্তমান অবস্থা বুঝতে পারছি, পরিবারের আড়ালে আমার সাথে দেখা করার কারণ বুঝতে পারছি।
এমন সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ালেও স্বামী পুরো জীবন তার স্ত্রীর ধোঁকার আশঙ্কায় থাকে। সে মনে করে যেভাবে পরিবারের আড়ালে বিয়ের আগে তার সাথে সম্পর্ক করেছিল, বিয়ের পরেও এ নারী আড়ালে আড়ালে অন্য কারও সাথে সম্পর্ক করতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে শরিয়তবিরোধী এমন সম্পর্ক অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় না। কেননা, যুবক সে যুবতিকে বিশ্বাস করে না, যে বিয়ের আগেই নিজেকে তার কাছে সঁপে দিয়েছে, তার সম্ভ্রম তার হাতে তুলে দিয়েছে। ওপরে ওপরে অনেক কিছু দেখালেও মনের ভেতরে এ কথা রাখে যে, এ নারী অন্য কারও কাছে যেতে দ্বিধা করবে না।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক