হজ মূলত তিন প্রকার–ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু। আমাদের দেশ থেকে অধিকাংশ হাজি তামাত্তু হজ পালন করে থাকেন। কিন্তু ইহরাম বাঁধার সময় অনেকে একটি ভুল করে বসেন। তারা একই সঙ্গে হজ ও উমরার নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ শুরু করেন। বিশেষ করে যারা দলবদ্ধভাবে বা গাইড ছাড়া হজ করতে যান, তারা অন্যদের দেখাদেখি এই ভুলটি বেশি করেন।
আসলে তামাত্তু হজকারীর জন্য শরিয়তের সঠিক নিয়মটি কী? নিচে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
তামাত্তু হজের নিয়ম হলো–মিকাত থেকে যখন প্রথমবার ইহরাম বাঁধবেন, তখন কেবল উমরার নিয়ত করবেন। মক্কায় পৌঁছে উমরার কাজ (তাওয়াফ ও সাঈ) শেষ করে মাথা হলক বা চুল ছেঁটে ইহরাম খুলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন। এর পর ৮ জিলহজ হজের মূল কাজ শুরু করার আগে মক্কা থেকেই দ্বিতীয়বার কেবল হজের নিয়তে নতুন করে ইহরাম বাঁধবেন।
আরো পড়ুন: ঈদের নামাজের রাকাত ছুটে গেলে কি করবেন?
যদি কেউ তামাত্তু হজের ইচ্ছা পোষণ করেও শুরুতে একত্রে হজ ও উমরার নিয়ত করে ফেলেন, তবে তার পদ্ধতিটি তামাত্তু থাকে না। যারা একত্রে হজ ও উমরার নিয়ত করেন এবং মাঝখানে ইহরাম খোলেন না, তাদের হজকে বলা হয় ‘হজে ক্বিরান’। তামাত্তু হজের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো উমরা শেষ করে হালাল হওয়া এবং পরে আবার হজের ইহরাম বাঁধা।
আরো পড়ুন: ঈদুল আজহার নামাজ
মিকাত অতিক্রম করার আগে যখন ইহরাম বাঁধবেন, তখন স্পষ্টভাবে কেবল উমরার নিয়ত করুন এবং তালবিয়া পড়ুন। সাথিদের বা লোকমুখে শোনা কথার ওপর নির্ভর না করে হজের নির্ভরযোগ্য কিতাব দেখে নিয়ত নিশ্চিত করুন। হজের প্রতিটি ধাপ আলাদা এবং এর নিয়তও সুনির্দিষ্ট। হজের প্রতিটি কাজ অত্যন্ত সূক্ষ্ম। সঠিক পদ্ধতিতে নিয়ত না করলে হজের ধরন বদলে যেতে পারে। তাই আবেগ আর শ্রমের পাশাপাশি সঠিক মাসআলা জানা অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ সব হাজিকে সহিহভাবে এবং সুন্নাহ অনুযায়ী হজে তামাত্তু পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক