ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ শাবনূরকে নিয়ে যা বললেন পূর্ণিমা হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় পানিতে ডুবে ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ ঘোষণা সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ভাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
Nagad desktop

যৌথ কোরবানির ক্ষেত্রে যে ৬টি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
যৌথ কোরবানির ক্ষেত্রে যে ৬টি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে
আমাদের অন্তরে ইব্রাহিমী ত্যাগের প্রকৃত মহিমা জাগ্রত করে দিন। ছবি: সংগৃহীত

আমাদের সমাজে অনেকেই যৌথভাবে বা শরিকানায় কোরবানি দিয়ে থাকেন। ইসলামি শরিয়তে বড় পশুর ক্ষেত্রে (যেমন: উট, গরু, মহিষ) সর্বোচ্চ সাত ভাগে কোরবানি দেওয়া বৈধ করা হয়েছে। তবে যৌথ কোরবানির ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে; কারণ এসব বিষয়ে সামান্য ত্রুটি বা অসচেতনতা পুরো কোরবানির বিশুদ্ধতা নষ্ট করে দিতে পারে।

১. অংশীদার বা শরিকের সংখ্যা: বড় পশুর ক্ষেত্রে অংশীদার সর্বোচ্চ সাতজন হতে পারবে। সাত বা তার কম যেকোনো সংখ্যা (যেমন: তিন, চার বা পাঁচ ভাগ) হতে পারে; তবে কোনো অবস্থাতেই সাতজনের বেশি শরিক হওয়া যাবে না। সাতের অধিক শরিক হলে কারো কোরবানিই সহিহ হবে না।

হযরত জাবির (রা.) বলেন, হুদাইবিয়ার বছর আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে একটি উটে সাতজন এবং একটি গরুতে সাতজন শরিক হয়ে কোরবানি করেছিলাম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮)

আরো পড়ুন: ঈদের নামাজের রাকাত ছুটে গেলে কি করবেন?

২. নিয়তের একনিষ্ঠতা (ইখলাস): কোরবানির মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। প্রত্যেক অংশীদারকেই খাঁটি নিয়তে ও একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি করতে হবে। শরিকদের মধ্যে যদি কোনো একজনেরও নিয়ত কেবল গোশত খাওয়া বা লোকদেখানো হয়, তবে শরিকদের কারো কোরবানিই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। (আল-বিনায়া: ১২/৪৮)

৩. হালাল উপার্জন নিশ্চিত করা: কোরবানির পশুর জন্য বিনিয়োগকৃত অর্থ সম্পূর্ণ হালাল হতে হবে। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।’ তাই প্রকাশ্য হারাম উপার্জনে লিপ্ত কোনো ব্যক্তিকে কোরবানির শরিকানাভুক্ত করা থেকে বিরত থাকা উচিত। যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, কোনো শরিকের টাকা সম্পূর্ণ হারাম, তবে তার কারণে অন্য সবার কোরবানিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

৪. শরিকানার সঠিক বণ্টন: বড় পশুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতটি ভাগ হতে পারে। এর চেয়ে বেশি ভাগে অংশ নেওয়া কিংবা কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাগে একাধিক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা শরিয়তসম্মত নয়। অর্থাৎ, একটি ভাগে কেবল একজন ব্যক্তিই অংশ নিতে পারবেন, একাধিক নয়। (রদ্দুল মুহতার)

৫. গোশত বণ্টনে সতর্কতা: কোরবানির গোশত বণ্টন করাও একটি ইবাদত। যৌথ কোরবানির ক্ষেত্রে গোশত অনুমান করে ভাগ করা যাবে না। পাল্লা দিয়ে মেপে সম্পূর্ণ নিখুঁত ও সমানভাবে বণ্টন করতে হবে। অনুমানের ভিত্তিতে বণ্টন করলে কম-বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা কোরবানির পুণ্য ও শুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া)

আরো পড়ুন: ৩ দিনের মধ্যে কোরবানি করতে না পারলে কী করবেন?

৬. কসাই বা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক: কোরবানির ক্ষেত্রে আরও একটি জরুরি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, তা হলো, কসাই বা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া বা অন্য কোনো অংশ দেওয়া যাবে না। পারিশ্রমিক দিতে হবে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে, নগদ অর্থে। অবশ্য পারিশ্রমিক পরিশোধের পর কসাইকে উপহার বা হাদিয়া হিসেবে গোশত দেওয়াতে কোনো বাধা নেই।

হযরত আলী (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন কসাইকে কোরবানির পশু থেকে পারিশ্রমিক হিসেবে কোনো কিছু না দিই। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

একাকী কিংবা যৌথকোরবানির প্রতিটি পদক্ষেপকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত মনে করতে হবে। শরিয়তের নির্দেশিত পদ্ধতি নিখুঁতভাবে অনুসরণ করলেই আমাদের এই ত্যাগ সার্থক হবে।

আরো পড়ুন: যে একটি ভুলেই ভেঙে যেতে পারে আপনার তাওয়াফ

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবার কোরবানিকে তাকওয়ার রঙে রাঙিয়ে কবুল করুন এবং আমাদের অন্তরে ইব্রাহিমী ত্যাগের প্রকৃত মহিমা জাগ্রত করে দিন। আমিন।

 লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা। 

 

মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা ইউরোপিয়ান লিগের আসর এলেই আমাদের চেনা জগৎটা এক লহমায় বদলে যায়। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নীল-সাদা বনাম হলুদ-সবুজের তুমুল লড়াই। ফুটবল মাঠের উত্তেজনা গ্যালারি পেরিয়ে আমাদের ড্রয়িংরুম, ছাদ আর পাড়ার মোড়ে এমন এক আবহ তৈরি করে, যা মাঝেমধ্যে উৎসবের আনন্দকে বিষাদে রূপ দেয়। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ভালোবাসার সীমানা ঠিক কোথায়? এটি কি কেবলই ক্ষণিকের বিনোদন, নাকি এক ধরনের অন্ধ আসক্তি যা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, সময় ও আদর্শকে গ্রাস করে নিচ্ছে?

ইসলাম মানবপ্রকৃতির সুস্থ বিনোদনকে সবসময় স্বাগত জানিয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে সাহাবিদের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন, তীরন্দাজিতে উৎসাহিত করেছেন। বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদল সাহাবিকে বলেছিলেন, হে বনী ইসমাঈল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কারণ তোমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন একজন দক্ষ তীরন্দাজ। অতএব, সুস্থ উপায়ে খেলাধুলা উপভোগ করায় কোনো বাধা নেই।

বিপত্তিটা বাঁধে তখনই, যখন বিনোদন মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্যকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। পবিত্র কুরআনের সুরা মুনাফিকূনের ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। আর যারা এমন করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আধুনিক ফুটবলের জোয়ারে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সময়ের অপচয়। মধ্যরাতের ম্যাচ দেখে অনেকেই ফজরের নামাজ অবহেলায় ঘুমিয়ে পার করছেন। খেলা শেষে সামাজিক মাধ্যমে চলে কাদা ছোড়াছুড়ি। অথচ কিয়ামতের দিন যে প্রধান প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে, তার অন্যতম হলো,মানুষ তার জীবন কোন কাজে ব্যয় করেছে (তিরমিজি)।

আবেগের পাশাপাশি হচ্ছে বিপুল অর্থের অপচয়। প্রিয় দলের বিশাল পতাকা বানানো, জার্সি কেনা বা আতশবাজির নামে যে অপব্যয় হয়, তা বিবেকবান কাউকে আনন্দ দিতে পারে না। কোরআনে বলা হয়েছে, অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সুরা ইসরা, ২৬-২৭)।
এই উন্মাদনা সমাজে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করছে। একই ছাদের নিচের দুই ভাই বা দুই বন্ধু স্রেফ খেলার কারণে শত্রুতে পরিণত হচ্ছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বুখারি)।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো তরুণদের অন্ধ অনুকরণ। প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখতে দেখতে তারা কখন যেন তার লাইফস্টাইল, অদ্ভুত চুলের ছাঁট বা ট্যাটু সংস্কৃতির অনুকরণ শুরু করে, তা নিজেরাও টের পায় না। যার আদর্শ হওয়ার কথা ছিল বিশ্বনবি (সা.)-এর সে আজ একজন বিদেশি ফুটবলারের জন্য হাজার শব্দের পোস্ট লেখে, অথচ সুন্নাহর প্রতি তার ভ্রুক্ষেপ নেই।

ইসলাম আনন্দের একটি সুন্দর নৈতিক সীমারেখা টেনে দেয়। খেলাধুলা যেন আমাদের ইবাদত ও আখেরাতের প্রস্তুতিকে গ্রাস না করে। বিনোদনকে বিনোদনের জায়গায় রেখে আসুন আমরা নিজে ও আমাদের সন্তানদের এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখি।

লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা।

৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুন ২০২৬, সোমবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?
ছবি: সংগৃহীত

নিঝুম রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর পর আমরা যে স্বপ্নের মুখোমুখি হই, তা কেবলই কি মনের কল্পনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো মহাজাগতিক ইশারা? ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা তাবির একটি গভীর ও স্বতন্ত্র জ্ঞান। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রামাণিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.)। তার কালজয়ী গ্রন্থ তাফসিরুল আহলাম-এ ঘুমের ঘোরে গান শোনা বা গান গাওয়ার এমন কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও প্রতীকী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা সমসাময়িক মানুষকে সম্পূর্ণ নতুন এক চিন্তার খোরাক জোগায়।

ঘুমের মধ্যে যদি আপনি কোনো পরিচ্ছন্ন, অশ্লীলতাহীন এবং গভীর অর্থবহ গান বা গজল শুনতে পান, তবে তা কিন্তু ভয়ের কিছু নয়। ইবনে সীরীন (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন সাধারণত স্বপ্নদ্রষ্টার বাস্তব জীবনে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের পূর্বাভাস। এটি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আকস্মিক উন্নতি এবং আর্থিক সমৃদ্ধি লাভের একটি শুভ ইঙ্গিত। এমনকি কোনো কোনো ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন স্বপ্নের গায়কের মাঝে ভবিষ্যতে একজন বড় আলেম, জ্ঞানীগুণী, দূরদর্শী বিচারপতি কিংবা সফল মন্ত্রী হওয়ার মতো সুপ্ত গুণাবলি লুকিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

কিন্তু সব সুর তো শুভ বার্তা বয়ে আনে না; যদি স্বপ্নে শোনা গানটি হয় সস্তা, অশ্লীল কিংবা মন্দ কথার, তবে তা ভবিষ্যতের এক বড় সতর্কবার্তা। ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন মূলত বাস্তব জীবনে লোকসান বা বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়। কোনো ধনাঢ্য বা সম্পদশালী ব্যক্তি যদি নিজেকে লোকালয় বা বাজারে বসে এমন গান শুনতে দেখে, তবে বুঝতে হবে তার জীবনে কোনো নৈতিক স্খলন বা মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, কোনো দরিদ্র ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখলে তা তার মানসিক চাপ বা জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

আপনি কি স্বপ্নে নিজেকেই গলা ছেড়ে গান গাইতে দেখছেন? ইসলামি স্বপ্নের বিজ্ঞানে এটিকে বেশ নেতিবাচক ও আশঙ্কাজনক চোখেই দেখা হয়েছে। এই তাবীর অনুযায়ী, স্বপ্নে নিজে গান গাইলে বাস্তব জীবনে তার শত্রু-মিত্র সবাই তাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার বা ত্যাগ করার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া, তাত্ত্বিকগণ মনে করেন গান মূলত মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ ও ফাসাদের উন্মেষ ঘটায়; কারণ বলা হয়ে থাকে, সৃষ্টির শুরুতে অভিশপ্ত ইবলিসই সর্বপ্রথম গান ও আর্তনাদ করেছিল। তাই স্বপ্নে নিজে গান গাওয়াকে পারিবারিক বা সামাজিক অশান্তির কারণ হিশেবে চিহ্নিত করা হয়।ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, স্বপ্ন মূলত তিন ধরনের, আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের কুমন্ত্রণা অথবা মানুষের নিজের মনের অবদমিত কল্পনা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি কল্পনা করুন, মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা নিজে এবং তাঁর অগণিত ফেরেশতা চব্বিশ ঘণ্টা একটি বিশেষ কাজে নিয়োজিত আছেন! কাজটি কী? সেটি হলো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাত পেশ করা। যে কাজের সাথে স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা যুক্ত, সেই কাজে শামিল হওয়া মুমিনদের জন্য কত বড় সৌভাগ্য! নবিজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা কেবল একটি সাধারণ আমল নয়, এটি সরাসরি আল্লাহর আদেশ এবং কিয়ামতের কঠিন দিনে নবিজির সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র রাজপথ।

পবিত্র কোরআনের সুরা আহযাবের একটি আয়াত মুমিনের হৃদয়ে নবিপ্রেমের জোয়ার তোলে। যেখানে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের প্রতি সরাসরি নির্দেশ জারি করে বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবির প্রতি সালাত (দরুদ) পেশ করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।(সুরা আহজাব, ৫৬)। আমরা যখন কারও জন্য দোয়া করি, তখন আমাদের নিজেদের কোনো লাভ হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পড়ার সমীকরণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং লাভজনক।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনুল আ’স (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বা দরুদ বর্ষণ করবেন। (মুসলিম, ৩৮৪; সুনানে নাসায়ী, ৬৭৮)। আপনি যখন দুনিয়ার কোনো মানুষের প্রশংসা বা উপকার করেন, তখন স্রষ্টা আপনাকে সরাসরি ১০ বার পুরস্কৃত করেন না। কিন্তু নবিজির প্রতি ১ বার দরুদ পাঠ করলে মহাবিশ্বের মালিক আপনার ওপর ১০ বার বিশেষ দয়া ও শান্তি বর্ষণ করেন। এটি এক অসামান্য আধ্যাত্মিক ইনভেস্টমেন্ট!

কিয়ামতের দিন যখন কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে চারদিকে হাহাকার থাকবে, তখন কার পাশে দাঁড়াতে চাইবেন আপনি? সেই চরম বিপদের মুহূর্তে নবিজির সবচেয়ে কাছে থাকার সূত্রটি অত্যন্ত সহজ। হযরত ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব মানুষের চেয়ে আমার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী (কাছাকাছি) হবে, যে তাদের মধ্যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পড়বে। (জামে আত-তিরমিজি, ৪৮৪)

দরুদ ও সালাম হলো নবিপ্রেমের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি সময় বের করে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা আমাদের জীবনের পাপমোচন করে এবং আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দেয়। বইয়ের পাতা কিংবা পত্রিকার কলামে নবিজির অবয়ব ও মর্যাদার এই অনন্য দিকটি আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনে দরুদ পড়ার এক নতুন প্রেরণা জোগাবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম হলো ‘মা’। একজন মানুষ পৃথিবীর আলো দেখার পর প্রথম আশ্রয়, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা খুঁজে পায় মায়ের কাছেই। ইসলাম এই সম্পর্কটিকে শুধু আবেগ বা পারিবারিক বন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং মায়ের মর্যাদাকে উন্নীত করেছে ইবাদতের পর্যায়ে, সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে। 

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবি করিম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জানতে চান, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের মধ্যে আমার কাছে সর্বোত্তম সেবা লাভের অধিকার কার?’ নবি করিম (সা.) বলেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবারও জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার বাবার।’ (বুখারি ও মুসলিম)। 

মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং তাদের ভর্ৎসনা করো না। তাদের সঙ্গে কথা বলো সম্মানসূচক ও নম্রভাবে’ (সুরা বনি ইসরাইল, ২৩)। 

এছাড়া হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়; এতে কোনো সন্দেহ নেই। এক, মা-বাবার দোয়া তার সন্তানের জন্য; দুই, মুসাফিরের দোয়া ও তিন, অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া অত্যাচারীর বিরুদ্ধে’ (সুনানে আবু দাউদ, ১৫৩৮)। প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়ের সেবা করা। ছোটবেলায় মা যেমন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আমাদের অসুস্থতায় পাশে থেকেছেন ও সেবা করেছেন, তেমনি তার প্রতি যত্ন নেওয়া ও সেবা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) সাহাবিদের মায়ের সেবা করার প্রতি নির্দেশ দিতেন। 

একদিন হজরত মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা আসসালামি (রা.) রাসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি জিহাদ করতে ইচ্ছুক। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?’ জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার মা আছেন?’ তিনি বললেন, ‘আছেন।’ রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকো, কেননা তার পায়ের নিচেই জান্নাত।’ 

হাদিসে এরশাদ হয়েছে, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, আল্লাহতায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। (বায়হাকি-মিশকাত, পৃ. ৪২১)। 
সর্বোপরি, মা হলেন পৃথিবীর বুকে আল্লাহতায়ালার সবচেয়ে বড় নেয়ামত। মায়ের এই অসামান্য ত্যাগকে ইসলামে বিশেষ স্বীকৃতিই শুধু দেয়নি, বরঞ্চ তার সেবাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর তাই দুনিয়া ও আখিরাতের পরম সফলতা লাভ করতে হলে মায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ