বছরে তো ৩৬৫ দিন। কিন্তু আপনি কি জানেন, এর মধ্যে কোন দিনটিকে মহান আল্লাহ দুনিয়ার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন বলেছেন? যে একটি দিনের রোজা আপনার পেছনের এবং সামনের—পুরো দুই বছরের গুনাহ মাফ করে দিতে পারে? হ্যাঁ, আমরা কথা বলছি মহিমান্বিত ‘আরাফার দিন’ নিয়ে।
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ হলো পবিত্র আরাফার দিন। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটির গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘সর্বোত্তম দিন হলো আরাফার দিন।’
হাদিস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গৌরব করেন। তিনি বলেন, ‘দেখো, আমার বান্দারা দূর-দূরান্ত থেকে ধূলিময় অবস্থায় আমার রহমতের আশায় ছুটে এসেছে।’
আসুন জেনে নিই এই দিনের প্রধান কিছু ফজিলত:
১. হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘আরাফাই হলো হজ।’ অর্থাৎ, এই দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান কাজ।
২. বছরের অন্য কোনো দিন এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন না, যা আরাফার দিনে দিয়ে থাকেন।
৩. মানবজাতির জন্য দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করার ঐতিহাসিক ঘোষণাটি কিন্তু এই আরাফার দিনেই নাজিল হয়েছিল।
এত বরকতময় একটি দিন শুধু হাজিদের জন্যই নয়, বরং সারা বিশ্বের সাধারণ মুসলমানদের জন্যও রয়েছে দারুণ সুযোগ। এই দিনে আমাদের করণীয় আমলগুলো হলো—
১. যারা হজে যাননি তাদের জন্য এই দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। নবিজি (সা.) বলেছেন, এই একটি রোজার বিনিময়ে আল্লাহ বান্দার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী—দুই বছরের গুনাহ খাতা মাফ করে দেন।
২. রাসুল (সা.)-এর বর্ণনা মতে, ‘আরাফার দিনের দোয়াই হলো শ্রেষ্ঠ দোয়া।’ তাই এই দিনে নিজের এবং উম্মাহর কল্যাণে বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা উচিত।
৩. জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।
তাই আসুন, এই মহামূল্যবান দিনে আমরা যেন কোনো গুনাহের কাজে লিপ্ত না হই। সাধ্যমতো জিকির, ইবাদত আর দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আরাফার দিনের বরকত নসিব করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক