গণমাধ্যম বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামের সাক্ষী হয়ে সেসব ঘটনাকে ত্বরান্বিত করেছে, ঠিক একইভাবে গণমাধ্যম নিজের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বের জন্যও মাঝেমাঝেই আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। যতদিন সংবাদপত্র আছে ততদিন মানবসমাজের যোগাযোগের অন্যতম ধারা চলমান আছে। আমরা নীরব দর্শক নই, আমরা এই সমাজের গতিময় নাগরিক।…
বর্তমানের সংবাদপত্র এবং সংবাদপত্রের পাঠক গুণগত দিক থেকে বিশেষভাবে পালটে গেছে। কেউ কেউ অবশ্য ধরে নিয়েছিলেন মুদ্রিত সংবাদপত্র একেবারে অদৃশ্য হয়ে যাবে। কোনো কোনো দেশে অবশ্য তাই হয়েছে। কিন্তু অনেক দেশেই আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে টিকে আছে। এই টিকে থাকা আমাদের মতো দেশে বরাবরের মতো এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। বরাবরের মতো বলছি এই জন্য যে, এই উপমহাদেশে সংবাদপত্রকে তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অর্থাৎ ১৭৮০ সালে জেমস অগাস্টাস হিকির ‘বেঙ্গল গেজেট’-এর উদ্বোধনের দিন থেকেই এক ধরনের চ্যালেঞ্জ মেনে নিয়েই চলতে হতো।
আমাদের কাছে প্রচলিত জীবনের অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিদিন সকালে শুভাগত অতিথির মতো খবরের কাগজ এসে উপস্থিত হয় নাশতার টেবিলে। পত্রিকা কোনো কারণে সকালে হাতে না পেলে মন অস্থির হয়ে ওঠে, মনে হয় দিনটাই শুরু হলো না। যদিও আজকাল এই জীবনযাত্রায় যারা নিজেদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন তাদের জন্য সম্প্রতি এ অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোনের পর্দায় ই-পেপার কিংবা নিউজ অ্যালার্ট। বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে আমাদের জীবনাচরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ নতুনত্ব মানুষের জীবনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। অপরদিকে সৃষ্টি হয়েছে গণমাধ্যমে তথ্য ও সংবাদ পরিবেশনের নতুন চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বে এ পরিবর্তনের গতিময়তায় ঘটে যাচ্ছে নানা ধরনের পরিবর্তিত জীবনাচার এবং পাল্লা দিয়ে নতুন আবিষ্কার।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের সংগ্রাম যুগে যুগে আন্দোলনে রূপ নিয়েছে এবং অসংখ্য প্রশ্নের অবতারণা করেছে। গণমাধ্যম বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামের সাক্ষী হয়ে সেসব ঘটনাকে ত্বরান্বিত করেছে, ঠিক একইভাবে গণমাধ্যম নিজের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বের জন্যও মাঝেমাঝেই আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে।
সাধারণতঃ ঘটে যাওয়া বিষয়-আশয় সংবাদ হিসেবে তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে পত্রপত্রিকা ও অন্যান্য গণমাধ্যম পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিকে আলোকিত করে। সে জন্য সংবাদপত্রের চাহিদা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং মানবসভ্যতার অন্যতম বাহন হিসেবে সংবাদপত্রের জয়জয়কার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। জনগণের নিজস্ব ধ্যান-ধারণাকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রভাবিতকরণের প্রক্রিয়া হিসেবে সংবাদপত্রের ভূমিকা বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। কখনো তা আবার প্রশাসন বা শাসকগোষ্ঠী কিংবা কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের চক্ষুশূলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসবই আমাদের জানা।
আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সময়ে কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনার নতুন ইস্যু বা নতুন এজেন্ডা পাঠক সাধারণের কাছে তুলে ধরতে সংবাদপত্রের মতো মোক্ষম আর কোনো মাধ্যম নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যখন দেশে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ করা হলো তখন জনগণ এই কর আরোপ খুব সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। সে সময় পত্রপত্রিকার আলোচনা জনগণকে ব্যাপকভাবে এই করের প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তেমন প্রয়োগ দেখা যায়, বিশেষ করে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে। অনেক নির্বাচনই জনগণকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে উৎসাহিত করতে পারেনি, সেসব ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, সেই নির্বাচনগুলো আসলে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ছিল না। তাই, সেগুলো জনমনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। সংবাদপত্রের ভূমিকাও সেসব ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। অর্থাৎ সংবাদপত্রের তেমন উৎসাহ না থাকলে জনগণও সেসব বিষয়ে তেমন উৎসাহ দেখায় না, বরং সেই সব বিষয় জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রাজনৈতিক বিষয়ে সংবাদপত্র সাধারণতঃ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের কাজটি বিশেষভাবে করে থাকে, কিন্তু বিষয়ের ওপর জনসমর্থন না থাকলে গণমাধ্যম শুধু নিজস্ব চেষ্টায় তা কার্যকর করতে পারে না। সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যমের কথা আলোচনায় এলেই দেখা যায়, বস্তুনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ আসবেই। বিষয়টি মানুষের কাছে যতটা না বোধগম্য তার চেয়ে তার আলোচনার গুরুত্ব অনেক বেশি বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়। অনেক ক্ষেত্রেই বস্তুনিষ্ঠতা সোনার হরিণ, বুঝে না বুঝে বিষয়টির প্রতি এক ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ করে থাকি আমরা। অনেক ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থকে আমরা বস্তুনিষ্ঠতার আক্ষরিক অর্থে পালন করতে গিয়ে ছোট করে দেখি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ করে দিই। ‘রাইজিং নেপাল’-এর এক সময়ের সম্পাদক মনোরঞ্জন যোশি বলেছিলেন যে, তিনি যখন আঞ্চলিক সংবাদ নিয়ে আলোচনা করেন তখন রাষ্ট্রীয় সংবাদ সমিতির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির সংবাদের ওপর বেশি নির্ভর করতে চান। কারণ, প্রথমতঃ প্রকৃত অর্থে স্থানীয় সংবাদ সংস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তা ছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার যে মান তাতে এএফপির ওপর নির্ভর করা শ্রেয়। বাংলাদেশ-ভারতের গঙ্গা পানি বণ্টন নিয়ে তিনি প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে মন্তব্য করেছিলেন। এর আগেও ভারত পাকিস্তানের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে তিনি একইভাবে কথা বলেছেন। গঙ্গার পানি বণ্টন অনেকক্ষেত্রেই একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। গঙ্গার পানির হিস্যায় বাংলাদেশের ন্যায্যতা অর্জন যেভাবে আলোচিত হয়েছে, তা ঐতিহাসিক সত্য এবং পারস্পরিক সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, বিষয়টি শুধু বস্তুনিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে না। স্থানীয় বা ভারতীয় সংবাদ সংস্থার ওপর নির্ভর করা যোশির মতে ছিল ন্যায্যতার প্রশ্নে এক পক্ষীয় বা পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাবের প্রকাশ। মনোরঞ্জন যোশি সেই আলোকে কথাটি স্পষ্ট করেছিলেন। এককভাবে বস্তুনিষ্ঠতা ক্ষেত্রবিশেষে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থিও হতে পারে।
আজকাল সংবাদপত্র ও মুদ্রিত ম্যাগাজিনের স্থায়িত্ব এবং একে ধরে নাড়াচাড়া করে, এদিক সেদিক ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পড়ার যে সুযোগ এবং সুবিধা তা হয়তো অন্য কোনো মাধ্যমে পাব না। মুদ্রিত মাধ্যমের স্থায়িত্বের বিষয়টিও লক্ষণীয়, কারণ এটিকে সকাল থেকে রাত অবধি পড়া যায়, এমনকি প্রয়োজনে হেঁশেল থেকে পুরোনো সংখ্যা বের করেও নাড়াচাড়া করে পড়া যায়। মুদ্রিত কাগজের ওপর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নির্ভরতা এখনো আমাদের সমাজে ব্যাপক। এই কারণে যারা মুদ্রিত পত্রিকা পাঠ করে অভ্যস্ত হয়েছেন তাদের জন্য অভ্যাস পরিবর্তন করা খুব সহজ নয়। আমাদের দেশে ছাপা পত্রিকার স্থায়িত্ব তাই এখনো বিদ্যমান এবং আর কিছুকাল এটা চলতে থাকবে। আমার ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে যারা পত্রিকা পড়েন এই জনগোষ্ঠীর বয়স পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠক প্রোফাইল পরিবর্তন হতে থাকবে। নতুন পাঠকগোষ্ঠীও তৈরি হবে, এখন লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে কত দ্রুত বা কত সময় নিয়ে এই পাঠকগোষ্ঠীর মৌলিক রূপান্তর ঘটে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠবে- এই নতুন পাঠকগোষ্ঠীর জন্য পরিবেশিত বিষয়বস্তু কতখানি তাদের মনমতো হচ্ছে কিংবা আদৌ হচ্ছে কিনা? এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া শুধু বক্তৃতা দিয়ে হবে না।
আজকাল দেশি এবং বিদেশি গণমাধ্যমের কভারেজ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সংবাদপত্রের নিজস্ব ঘরানা ও শৈলীর একটা প্রভাব হয়তো আছে। কিন্তু কভারেজের ধরনধারণ এবং সংবাদের মৌলিক দিকগুলো প্রায় একই। যে কারণে বড় কোনো সংবাদ বাদ পড়ছে না বা বড় কোনো ঘটনা বিভিন্ন চ্যানেল ও মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে চলে আসছে। ইন্টারনেটের ব্যাপকতা এসব কার্যক্রমকে অনেক বেশি গতিশীল করে তুলেছে। ইন্টারনেটের গতির সঙ্গে এর ব্যবহারের ব্যাপকতার যে পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম নির্ভরশীল মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেট টিকে থাকবে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ এই দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। শুধু গত বছরেই প্রায় ৭০ লাখ লোক ইন্টারনেট ব্যবহারে যুক্ত হয়েছে। বিটিআরসি সূত্রমতে, প্রায় ১১ কোটি ৮৫ লাখ লোক মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে (ঢাকা ট্রিবিউন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। প্রায় একই সময়ে ৫ কোটি ২৯ লাখ মানুষ সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার করে চলেছে, যা নাকি আমাদের দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ ভাগ।
কেপিওস-এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০২৩-এর শুরু থেকে থেকে ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯৭ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর জানুয়ারিতে দেশের শতকরা ৬৮.৪ ভাগ মানুষ অন্ততপক্ষে একটি সামাজিক মাধ্যম প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বলে একই সূত্র তথ্য প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে পুরুষ ব্যবহারকারী ৬৫.৮ ভাগ এবং নারী ব্যবহারকারী হচ্ছে শতকরা ৩৪.২। এক ব্যক্তি একাধিক সিম ব্যবহারের কারণে মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা এত অধিক বলে অনুমিত হয়।
তাবৎ গণমাধ্যমের মধ্যে সংবাদপত্র পাঠ করার যে সংস্কৃতি আমাদের সমাজে গড়ে উঠেছে, তা শুধু খবর জানা কিংবা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংবাদপত্র পাঠের সঙ্গে মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, সামাজিকতা এসব চর্চার সম্পর্ক, সেই সঙ্গে জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়। সংবাদপত্রের ভাষার সঙ্গে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পরিচয় হয় এবং তাদের ভাষা শেখার সুযোগ হয়। সংবাদপত্র পাঠ করা এক ধরনের দ্রুতপঠন রপ্ত করা। বিভিন্ন ধরনের মতাশ্রয়ী লেখা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার কারণে সেগুলো পাঠ করারও সুযোগ বটে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংবাদ ও আলোচনা পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় এবং পাঠকদের মধ্যে উদারনৈতিক মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। তুলনামুলকভাবে কিশোর বয়স থেকে তাদের জন্য দ্রুত পাঠ করার প্রবণতা গড়ে ওঠে। তরুণদের মধ্যে আজকাল পড়াশোনার অভ্যাস কমে যাওয়ার যে প্রবণতা এবং ইন্টারনেটের কারণে বিবিধ বিষয়, প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে অতি উৎসাহ দেখা যায়! এই অতি উৎসাহকে সঠিক ধারায় ধরে রাখা জরুরি। যথার্থ কারণেই তাই সংবাদপত্র পাঠে তরুণশ্রেণিকে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদপত্র পাঠের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের লেখালেখি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দৈনিক পত্রিকায় শিশু ও তরুণদের জন্য বিশেষ পাতা বরাদ্দ থাকে এবং সেই সব পাতায় লিখে অনেকেই জীবনে তাদের পেশার অথবা গবেষণা লেখার হাতেখড়ি করতে পারেন। এই সব লেখায় সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জ্ঞান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। স্মরণশক্তি বৃদ্ধি ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের চর্চায় এই পাঠাভ্যাস ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংবাদপত্র ও বিভিন্ন ধরনের বইপুস্তক পাঠের জন্য সরবরাহ করে তরুণ সমাজকে পাঠে মনোযোগী করার প্রয়োজন রয়েছে। তরুণ সমাজকে এ বিষয়ে পাঠক ক্লাব গড়ে তুলে বিভিন্ন কার্যক্রমে উৎসাহী করা যেতে পারে। সংবাদপত্রের তরুণ পাঠকপাঠিকারা এ বিষয়ে যথেষ্ট অবদান রাখতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। লক্ষণীয় যে, পাড়ামহল্লায় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ পেশাগত সম্প্রদায়ের সঙ্গে এই সব লেখকের সঙ্গে এক প্রকার যোগাযোগ সৃষ্টি হতে পারে এবং তারা সমাজে এগিয়ে যেতে পারে। প্রতিনিয়ত সব বয়সের মানুষের মধ্যেই প্রযুক্তিসচেনতা এবং আধুনিক ও বিজ্ঞানমুখী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এই ক্ষেত্রে শিশু ও তরুণদের বিশেষ অবস্থান নিশ্চিত করা দরকার। তাদের উৎসাহিত করা দরকার। এই মুহূর্তে দেশ থেকে মুদ্রিত সংবাদপত্র উধাও হয়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ রয়েছে বলে মনে হয় না।
সময়ের বহমানতা এবং যুগের চাহিদা মেনে চলতে হবে সবাইকে, সংবাদপত্র এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। আধুনিক সংবাদপত্রের গতিময়তা ও চেতনা আমাদের জীবনে অপরিহার্য। এই ধারাবাহিকতায় নিজেকে উপযুক্ত করেই জীবনপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। যতদিন সংবাদপত্র আছে ততদিন মানবসমাজের যোগাযোগের অন্যতম ধারা চলমান আছে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা নীরব দর্শক নই, আমরা এই সমাজের গতিময় নাগরিক। বিশ্বতথ্যপ্রবাহে আমাদের অংশগ্রহণ আধুনিক সম্ভাবনার দ্বার অবারিত করে। উন্মুক্ত করে মানবপ্রত্যাশা এবং নিজেকে প্রস্তুত করার সম্ভাবনা। আধুনিক সংবাদপত্র তাই মানুষের কথা উন্মোচিত করে আঙ্গিকগত পরিবর্তনে টিকে থাকবে বলে বিশ্বাস করি অন্তত আরও এক প্রজন্ম। পাশাপাশি সংবাদপত্রের ইন্টারনেট ভার্সন আরও ব্যাপকতা লাভ করবে। মানুষের আধুনিক জীবন প্রবাহের সঙ্গে বিনোদন ও তথ্যের এক নাটকীয় বন্ধন তৈরি হবে, যা হবে অবিছেদ্য।
লেখক: সম্পাদক, আজকের পত্রিকা
[email protected]