সৃষ্টিশীল, আধুনিক প্রযুক্তিমুখী ও বিজ্ঞাননির্ভর শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউসিটিসি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনে এটি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা দিয়ে আসছে। বর্তমানে ইউসিটিসিতে তিনটি অনুষদের অধীনে দশটি বিষয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সবচেয়ে জনপ্রিয় বিভাগ, যার প্রতিটিতে ১০০ করে আসন রয়েছে। পাশাপাশি এখানকার কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতি শিক্ষার্থীদের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। চট্টগ্রামের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এগিয়ে থাকা ইউসিটিসির নানা বিষয় নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জাহিদ হোসেন শরীফ।
খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে আলাদা? এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
জাহিদ হোসেন শরীফ: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও দক্ষতা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে একটি কর্মমুখী উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ব্যক্তিক উন্নয়ন, শিল্প-সংশ্লিষ্টতা এবং উদ্ভাবনী শিক্ষা কৌশল ইউসিটিসিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।
খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী কর্মমুখী প্রোগ্রাম চালু রয়েছে? এ সম্পর্কে বলুন।
জাহিদ হোসেন শরীফ: ইউসিটিসিতে আমাদের রয়েছে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যালাইন্ড কারিকুলাম, ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ এবং স্কিল বেজড সার্টিফিকেট কোর্স। যেমন: ল্যাবে বাস্তব অভিজ্ঞতা, সফট স্কিল প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পভিত্তিক লার্নিং মডিউল।
খবরের কাগজ: কর্মমুখী উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
জাহিদ হোসেন শরীফ: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কর্মমুখী উচ্চশিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। তারা দ্রুত কারিকুলাম আপডেট করতে পারে, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স ডিজাইন করে থাকে।
খবরের কাগজ: বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান পেতে আপনারা কী কী উদ্যোগ নিচ্ছেন? কোন কোন ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছেন?
জাহিদ হোসেন শরীফ: আমরা গবেষণা ও পাবলিকেশন, ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্কেজ, ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপ, গুণগত শিক্ষা এবং স্টুডেন্ট সার্ভিসে গুরুত্ব দিচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের একাধিক বিভাগ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও স্কলারশিপে অংশ নিয়েছে।
খবরের কাগজ: দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তির কী কী সুবিধা রয়েছে?
জাহিদ হোসেন শরীফ: আমরা দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ২৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তি দিয়ে থাকি। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়, চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা স্কলারশিপ রয়েছে।
খবরের কাগজ: শিক্ষার্থীদের চাকরি বা ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম আছে কি?
জাহিদ হোসেন শরীফ: ইউসিটিসিতে আমাদের ক্যারিয়ার সার্ভিস সেল আছে, যারা শিক্ষার্থীদের সিভি তৈরি, মক ইন্টারভিউ, ওয়ার্কশপ ও জব ফেয়ারের আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে ইন্টার্নশিপের চুক্তি রয়েছে।
খবরের কাগজ: ছাত্রছাত্রীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কী ধরনের উদ্যোগ রয়েছে? এ বিষয়ে কোনগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখছে?
জাহিদ হোসেন শরীফ: আমরা ইনোভেশন ক্লাব, রিসার্চ ফোরাম এবং স্টার্টআপ হাব চালু করার পরিকল্পনা করছি। শিক্ষার্থীদের প্রকল্পভিত্তিক কাজ, ডিজিটাল মেকিং এবং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে আমরা উদ্ভাবনী মনোভাব উৎসাহিত করি।
খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ কেমন? শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
জাহিদ হোসেন শরীফ: গবেষণা আমাদের শিক্ষায় একটি মূল স্তম্ভ। গবেষণার জন্য পৃথক বাজেট, গবেষণা প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক জার্নাল এক্সেস এবং গবেষণা পুরস্কার চালু আছে। শিক্ষকদের জন্য রিসার্চ ইনসেনটিভও চালু করা হয়েছে।
খবরের কাগজ: সাম্প্রতিক সময়ে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অর্জন কী?
জাহিদ হোসেন শরীফ: আমাদের শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে স্থান পেয়েছেন। সম্প্রতি কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থী বিদেশে বৃত্তি নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া আইটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় হ্যাকাথনে অংশগ্রহণ করেছেন।
খবরের কাগজ: সরকার সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিইউটি ভ্যাট দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ গ্রহণে
আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কেমন?
জাহিদ হোসেন শরীফ: আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং পিইউটি ভ্যাট নীতির যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর যেন বাড়তি চাপ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট।
খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণের জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা কি কার্যকর? করলে সেটা কী কী?
জাহিদ হোসেন শরীফ: হ্যাঁ, কার্যকর। যেমন বাস্তবমুখী কোর্স, ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা, অনলাইন কোর্সের সংযুক্তি, স্কিল ফেস্ট আয়োজন এবং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের ক্লাস নেওয়া নিশ্চিত করা।
খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রতিবছর জব ফেয়ার বা এ ধরনের আয়োজন করা হয় কি না।
জাহিদ হোসেন শরীফ: আমরা নিয়মিতভাবে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া ডায়ালগ’, ‘স্টেকহোল্ডার মিটিং’ ও ‘জব ফোরাম’-এর আয়োজন করে থাকি; যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চাকরি প্রদানকারীরা একত্রিত হন।
খবরের কাগজ: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা নিয়ে কিছু বলুন।
জাহিদ হোসেন শরীফ: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুণগত পরিবর্তন এনেছে। তারা আধুনিক প্রযুক্তি, দ্রুত শিক্ষাক্রম আপডেট এবং আন্তর্জাতিকীকরণে অগ্রণী। কর্মমুখী, দক্ষতানির্ভর এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অপরিসীম।