ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ পরবাসীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ১২:৩৬ পিএম
পরবাসীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্র সবার কাছে স্বপ্নের জায়গা। দেশটিতে একবার পা রাখতে পারলে সবাই হয়ে ওঠেন আনন্দে আত্মহারা। সবচেয়ে উন্নত দেশটির নিয়ন্ত্রণে আছে বিশ্বের ভূ-রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি থেকে শুরু করে অনেক কিছু। সব জায়গায় উন্নতিতে অন্যদের রোল মডেল যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটে এখনো হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে চলছে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ার সুবাদে প্রথমবার তাদের দেখা মিলবে ক্রিকেটের বিশ্ব মঞ্চে। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের ১৯ নম্বরে থেকে ২০ দলের বিশ্বকাপে দেখা মিলবে মার্কিনিদের। এর আগে ক্রিকেটের আর কোনো বৈশ্বিক আসরে তাদের দেখা মেলেনি।

ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সেভাবে নেই ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা। যুক্তরাষ্ট্রও তার ব্যতিক্রম নয়। দেশটির তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে বাস্কেটবল, বেসবল, আমেরিকান ফুটবল কিংবা গলফের মতো খেলা। কারও কারও হয়তো পছন্দ ফুটবল। মার্কিন মুলুকে যেটি পরিচিত আবার সকার নামে। এত সব খেলার ভিড়ে ক্রিকেট এখনো দেশটিতে পায়নি কোনো স্থান। এমন অপরিচিত খেলাকে জনপ্রিয় করে তুলতে তাই মার্কিনিদের ভরসা  অভিবাসী ক্রিকেটাররা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রিকেটারদের এনে দল সাজিয়েছে তারা।

বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব পাওয়ার আগে ক্রিকেট নিয়ে এতটা মনোযোগ ছিল না তাদের। স্বাগতিক হওয়ার দায়িত্ব পাওয়ার পরই  মূলত ক্রিকেটে নজর দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তৈরি করে পরিকল্পনা। সেই অনুযায়ী প্রথমে চালু করে নিজেদের দ্বিতীয় সারির  মাইনর ক্রিকেট লিগ। এক বছরের ব্যবধানে গত বছর থেকে শুরু হয় মেজর লিগ। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগ হওয়ায় ছিল বিদেশি ক্রিকেটাদের সঙ্গে খেলার সুযোগ। সে সুযোগেই মূলত বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটাররা।

দেশটিতে ক্রিকেটের সূচনা সেই ১৮ শতকের মাঝখানে। ইউরোপ থেকে আগত অভিবাসীদের হাত ধরে ক্রিকেট খেলার শুরু যুক্তরাষ্ট্রে। সেই সময় মার্কিন মুলুকে হারিয়ে যাওয়া ক্রিকেট ফের প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। সেটাও অভিবাসী ক্রিকেটারদের হাত ধরে। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত খেলেছে ২৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর মধ্যে ১৪ টি জয়ের বিপরীতে হার ৯ ম্যাচে।

স্বাগতিক দলের সবচেয়ে বড় তারকা নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা কোরি অ্যান্ডারসন। বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা ক্রিকেটার যুক্তরাষ্ট্র দলে বড় পার্থক্য তৈরি করবেন বলেই আশা করছেন স্বাগকিদের ক্রিকেট প্রেমিরা। এ ছাড়া দলের মূল কাণ্ডারি হবেন পেসার আলী খান, অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল, অ্যারন জোন্সের মতো ক্রিকেটাররাও। তাদের আছে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার নিয়মিত অভিজ্ঞতা।

স্বাগতিকরা গ্রুপ পর্বে লড়াই করবে ভারত-পাকিস্তানের মতো ক্রিকেট পরাশক্তির সঙ্গে। পাশাপাশি তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে আয়ারল্যান্ড ও প্রতিবেশী কানাডা। দলটি তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে।  প্রতিপক্ষ কানাডা। পরের দুই ম্যাচ ৬ ও ১২ জুন যথাক্রমে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। ১৪ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নামবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

দেশ ছেড়ে নতুন শেকড়ের টানে অ্যান্ডারসন

৩৩ বছর বয়সী কোরি অ্যান্ডারসন নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেন ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল। পড়তি ফর্মের কারণে ব্রাত্য হয়ে পড়েন তাসমান পাড়ের দেশটিতে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যেতে তাই হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এবার বিশ্বকাপে মাঠ মাতাবেন যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে। ওয়ানডেতে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান বড় পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। শুধু ব্যাটিং নয়, কার্যকরী বোলিংয়েও রাখবেন বড় ভূমিকা।

নিউজিল্যান্ডে ব্রাত্য হওয়া অ্যান্ডারসনের যুক্তরাষ্ট্র দলে অভিষেক  হয়েছে কানাডার বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে। দুই দেশের হয়ে ৩৩ টি-টোয়েন্টি খেলা অ্যান্ডারসনের ব্যাটে এসেছে ৫৬৮ রান ও ১৪ উইকেট। কানাডার বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে তার ব্যাটে এসেছে ৪১.৫০ গড়ে ৮৩ রান। তার এই ব্যাটিং পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে নায়ক হতে পারেন অ্যান্ডারসন।

অভিবাসী নির্ভর যুক্তরাষ্ট্র

অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল খেলেছেন গুজরাট অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। ভারতীয় ক্রিকেটে জায়গা করে নিতে না পারায় পাড়ি জমান মার্কিন মুলুকে। এ ছাড়া একই তালিকায় আছেন কোরি অ্যান্ডারসন, অ্যান্দ্রিস গৌর, হারমিত সিং, মিলিন্দ কুমার, সৌরভ নেত্রাভালকার, স্টিভেন টেইলর, শায়ান জাহাঙ্গীরের মতো দলের বেশির ভাগ সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রে দলে সুযোগ পাওয়া বেশির ভাগ ক্রিকেটার ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তাদের আবার বেশির ভাগই অভিজ্ঞতা আছে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার। এ ছাড়া পাকিস্তান থেকে এসেছেন শায়ান জাহাঙ্গীর। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শেফলি ফন স্ক্যালয়াক ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে এসেছেন অ্যারন জোন্স ও স্টিভেন টেইলর। ফলে দলটির জয় যে অভিবাসীদের জয় হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

টি-টোয়েন্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিষেক ১৫ মার্চ ২০১৯

ম্যাচ: ২৫

জয়: ১৪

হার: ৯

পরিত্যক্ত: ১

টাই: ১

স্টুয়ার্ট ল, প্রধান কোচ

আমি মাত্রই যুক্তরাষ্ট্র দলের দায়িত্ব নিয়েছি। বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ সিরিজ আমার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। এই দল নিয়ে আমি যথেষ্ট আশাবাদী। আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট সমর্থকদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারব। দলে সামর্থ্যবান ক্রিকেটার আছে। তাদের নিয়ে সর্বোচ্চ ফল করা কঠিন হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র দল: মোনাঙ্ক প্যাটেল (অধিনায়ক), অ্যারন জোন্স (সহ-অধিনায়ক), অ্যান্দ্রিস গৌস, কোরি অ্যান্ডারসন, আলি খান, হারমিত সিং, জেসি সিং, মিলিন্দ কুমার, নিসর্গ প্যাটেল, সৌরভ নেত্রাভালকার, শেদলি ফন স্ক্যালয়াক, স্টিভেন টেইলর, শায়ান জাহাঙ্গীর।

রিজার্ভ- গজানন্দ সিং, জুয়ানয় ড্রাইসডেল, ইয়াসির মোহাম্মদ।

পিসিবির দাবি সহ-অধিনায়কের প্রস্তাব কাউকে দেওয়া হয়নি

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৬:১৪ পিএম
সহ-অধিনায়কের প্রস্তাব কাউকে দেওয়া হয়নি
ছবি : সংগৃহীত

সবকিছু আগের মতো থাকলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের নেতৃত্বে থাকার কথা ছিল শাহিন শাহ আফ্রিদি। ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় নিয়ে বাবর আজম অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর সক্ষিপ্ত ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব পান আফ্রিদি। কিন্তু প্রথম সিরিজেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভরাডুবির পর তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সাদা বলে পুনরায় অধিনায়ক করা হয় বাবর আজমকে।

বাবরের নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপ খেলবে পাকিস্তান। এর মাঝেই কথা ছড়িয়েছে বিশ্বকাপে সহ-অধিনায়ক হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পরও তা নিতে অস্বীকৃতি জানান শাহিন।

ক্রিকেটবিষয়ক নির্ভরযোগ্য বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এই খবর জানিয়েছিল। যদিও আজ এক বিবৃতিতে শাহিনকে সহ-অধিনায়ক করার প্রস্তাবের খবরটি নাকচ করেছে পিসিবি।

বিবৃতিতে পিসিবি বলেছে, ‘নির্বাচকদের আলোচনার সময় সহ-অধিনায়কত্ব নিয়ে কথা হয়েছে। তবে কাউকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে সবাই একমত ছিলেন। কাউকে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। দল পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যুক্তরাজ্যে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তান বর্তমানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। 

ওয়ালটন-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ মজিবুর রানার আপ চঞ্চল

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৩:৫৯ পিএম
বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ মজিবুর রানার আপ চঞ্চল
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) বার্ষিক আন্তঃক্রীড়া উৎসব ‘ওয়ালটন-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল-২০২৪’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান রবিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনের ডাচ বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবার ৭টি ডিসিপ্লিনের ১৩টি ইভেন্টে শতাধিক বিএসপিএ সদস্য অংশ নেন। প্রতিবারের মতো এবারও সেরা খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে বিএসপিএ স্পোর্টস ম্যান অব দ্য ইয়ার ২০২৪। এই পুরস্কার জিতেছেন দৈনিক স্পষ্টবাদীর মজিবুর রহমান। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় আব্দুল মান্নান লাডু ট্রফি ও অর্থ পুরস্কার। প্রথম রানারআপ হয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের মাহমুদুন্নবী চঞ্চল এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের রুমেল খান।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার ডন ও সিনিয়র ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিল্টন।

এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুটবলার আব্দুল গাফফার ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু উপস্থিত ছিলেন। বিএসপিএ সাধারণ সম্পাদক মো. সামন হোসেনের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব।

৭০০ উইকেট ও ১৪০০০ রানের রেকর্ড একমাত্র সাকিবের

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১১:৩৪ এএম
৭০০ উইকেট ও ১৪০০০ রানের রেকর্ড একমাত্র সাকিবের
ছবি : সংগৃহীত

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটয়াশ এড়িয়েছে বাংলাদেশ দল। সে ম্যাচে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন সাকিব আল হাসান। কাল যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনার আন্দ্রেস গাউসের উইকেট নিয়ে ৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। সেই উইকেট লাভের মাধ্যমে একটি কীর্তিও গড়েছেন তিনি। সেই উইকেট লাভের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শিকার করেছেন ৭০০তম উইকেট।

৭০০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের আছে সব সংস্করণ মিলিয়ে ১৪ হাজারেরও বেশি রান। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এই ডাবল মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

তিন সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেট নেওয়া সাকিব ক্রিকেটবিশ্বে ১৭তম বোলার হিসেবে এই ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। স্পিনারদের মধ্যে সপ্তম, তবে বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে সাকিব দ্বিতীয়। বাঁহাতি স্পিনারদে মধ্যে তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন শুধুই ড্যানিয়েল ভেট্টরি। তার ঝুলিতে থাকা ৭০৫টি উইকেট টপকে যাওয়া সহজ ব্যাপার এখন সাকিবের জন্য। 

ওয়ানডেতে সাকিবের শিকার ৩১৭ উইকেট, টেস্টে ২৩৭ ও টি-টোয়েন্টিতে ১৪৬। ওয়ানডেতে সাকিবের রান ৭৫৭০, টেস্টে ৪৫০৫ ও টি-টোয়েন্টিতে রান করেছেন ২৪৪০।

বার্নাব্যুতে ক্রুসের আবেগঘন বিদায়

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১১:০৩ এএম
বার্নাব্যুতে ক্রুসের আবেগঘন বিদায়
ছবি : সংগৃহীত

গত সপ্তাহে টনি ক্রস ঘোষণা দিয়েছিলেন এই মৌসুম শেষে ইতি টানতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায়ের আর ইউরো শেষে নিজের গোট ফুটবল ক্যারিয়ারের।। এমন ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে মাদ্রিদের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না সমর্থকদের মাঝে। কেননা এটিই হতে যাচ্ছে রিয়ালের জার্সিতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ক্রুসের শেষ ম্যাচ।

ঘরের মাঠে ক্রুসের বিদায়টা অনেক আবেগপ্রবণ হওয়ার পাশাপাশি তা স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে ক্লাব ও ক্লাবের খেলোয়াড়রা এটা ছিল অনুমেয়।

গার্ড অব অনার থেকে শুরু করে শূন্যে ছুড়ে অভিবাদন জানানো সবই পালন করে স্মরণ করে রাখা হয়েছে ক্রুসের বিদায়। গেল এক দশক ধরে রিয়ালের মাঝমাঠের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলে নিয়েছিলেন এই জার্মান ফুটবলার। ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি এই বিদায় নিয়ে বলেন, ‘বার্নাব্যু টনি ক্রুসকে সেভাবে বিদায় দিয়েছে, যা তার প্রাপ্য।’

রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে গ্যালারিতে সমর্থকরা তার নাম ধরে বারবার চিৎকার করেছে। মাঠে নামার সময় গার্ড অব অনার দিয়েছেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। এ সময় রিয়ালের সব খেলোয়াড়দের গায়ে ছিল ক্রুস লেখা ৮ নম্বর জার্সি। মাঠের দক্ষিণ পাশে লাগানো ছিল ক্রুসের ছবি আঁকা বিশাল এক ব্যানার। যেখানে উল্লেখ করা ছিল রিয়ালের হয়ে ক্রুসের ২২টি ট্রফি জেতার কথাও। তার ঠিক পাশেই আরেকটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ তোমাকে, কিংবদন্তি।’

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে তাকে তুলে নেওয়ার সময় আবারও দেখা যায় একই দৃশ্যের। মাঠে ও ডাগআউটে থাকা দুই দলের খেলোয়াড়রা তাকে হাততালি দিয়ে বিদায় জানান। সেই বিদায়ের জবাব ক্রুসও দেন হাততালি দিয়ে। মাঠে ছেড়ে সন্তানদের কাছে যাওয়ার পর সবচেয়ে আবেগপ্রবণ দৃশ্যটি দেখা যায়।  অঝোরে কাঁদতে থাকা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে নিজেও কেঁদে দেন ক্রুস। পরে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানদের প্রতিক্রিয়া আমাকে ভেঙেচুরে দিয়েছে। আমি শুধু বলতে পারি, রিয়াল মাদ্রিদ।’

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ক্রুস আরও বলেছেন, ‘বিদায় বলাটা সহজ নয়। আমি রিয়াল মাদ্রিদকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি এখানে আমার ১০ বছর উপভোগ করেছি। রিয়াল মাদ্রিদ আমার ঘর।’ 

বার্নাব্যুর যাত্রা শেষ হলেও রিয়ালের জার্সিতে পথচলা শেষ হয়নি ক্রুসের। ওয়েম্বলিতে আগামী ১ জুন রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হবে রিয়াল। সেই ম্যাচ খেলে তুলে রাখবেন তিনি রিয়ালের জার্সি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড় ‘সেমিফাইনাল’

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১০:৩৬ এএম
দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড় ‘সেমিফাইনাল’
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাসন থেকে ফিরে ১৯৯২ বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু। দোর্দণ্ড দাপট দেখিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এলেও ফাইনালের মঞ্চ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বরাবরই যেন অস্পর্শ। আর সেটি হোক ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক আসরে একাধিকবার সেমিফাইনালে উঠলেও প্রোটিয়াদের চিরকালীন দুঃখ যেন ফাইনালে না উঠতে পারা। সর্বশেষ গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে হট ফেভারিটের চালকের আসনে থেকেও শেষ চারে তাদের থমকে যেতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে। সব মিলিয়ে যেকোনো বৈশ্বিক আসরে চোকার্স তকমাটা আপন করে এগিয়ে চলছে আফ্রিকার দেশটি।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক। এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে পাঁচবার সেমিফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু প্রতিবারই সঙ্গী হয়েছে হারের জ্বালা। এর মধ্যে তিনবারই প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া। একবার করে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। ২০০৭ থেকে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রতি আসরেই খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুইবার সেমিফাইনালে উঠলেও ফাইনাল খেলা হয়নি। ২০০৯ সালে প্রথম সেমিফাইনাল। হারতে হয় সে আসরের চ্যাম্পিয়ন দল পাকিস্তানের কাছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে আবার সেমিতে পা রাখলেও দক্ষিণ আফ্রিকার পথচলা শেষ হয় ভারতের কাছে হেরে।

এরপর টানা তিন বিশ্বকাপে সেমিতেই উঠতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভ পর্বে ৫ ম্যাচে দুটি করে জয় ও হারে (এক ম্যাচ পরিত্যক্ত) ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকায় সেমির টিকিট পাওয়া হয়নি। গ্রুপ টু থেকে প্রোটিয়াদের পেছনে ফেলে সেমিতে জায়গা করে নেয় ভারত ও পাকিস্তান। 

একটি জায়গায় দক্ষিণ আফ্রিকার বলার মতো কিছু রয়েছে। সেটি হলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ১৯৯৮ সাল থেকে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির যাত্রা শুরু। প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু পরের চার আসরে সেমিতে উঠলেও ফাইনালে ওঠা হয়নি। বৈশ্বিক সব আসরের হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র শিরোপা এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। বাকিগুলোতে শুধুই হতাশার গল্প।

নতুন নেতৃত্বে বিশ্বকাপ

আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ অবস্থানে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও উইন্ডিজ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলে রয়েছে এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটার। সঙ্গে কিছু উদীয়মান। সব মিলিয়ে আশার পারদ বেশ তুঙ্গে। টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছিল দ. আফ্রিকা। তবে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বদলেছে নেতা। যেখানে দলকে নেতৃত্ব দেবেন এইডেন মার্করাম। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম বিশ্বকাপ। 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে রয়েছে তরুণ দুই ক্রিকেটার। যাদের এখনো টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকই হয়নি। তারা হলেন রায়ান রিকেলটন এবং ওটনিয়েল বার্টম্যান। রায়ান রিকেলটন দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয় এস২০-এর দ্বিতীয় আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। এমআই কেপটাউনের হয়ে ৫৮.৮৮ গড়ে ৫৩০ রান করেছিলেন তিনি। অন্য দিকে বার্টম্যান সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের হয়ে ৮ ম্যাচে শিকার করেন ১৮ উইকেট। 

এই দুজন ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতার দাম দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অভিজ্ঞ ওপেনার কুইন্টন ডি কক, রিজা হেনড্রিকস, হেনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার আছেন অনুমিতভাবে। আইপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ত্রিস্টান স্টাবস অবধারিতভাবেই জায়গা ধরে রেখেছেন দলে। রয়েছেন চার পেসার কাগিসো রাবাদা, মার্কো জানসেন, জেরাল্ড কোয়েটজি এবং আনরিখ নরকিয়া। স্পিনার হিসেবে কেশব মহারাজ এবং তাবরিজ শামসির সঙ্গী বোরন ফরটুইন। রিজার্ভ বেঞ্চে আছেন নান্দ্রে বার্গার এবং লুঙ্গি এনগিডি। 
দল নির্বাচনে বর্ণবাদ ইস্যু 

১৫ সদস্যের দলে একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান পেসার কাগিসো রাবাদা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশ সাজানোর নিয়ম অনুসারে, অন্তত দুজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার রাখতে হবে। তবে এবারের বিশ্বকাপে নিয়মটি মানার সুযোগ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী ফিকিলে এমবালুলা দল নিয়ে তাই প্রশ্ন তুলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির সাবেক প্রেসিডেন্ট রে মালি এই দলকে বলেছেন ‘অগ্রহণযোগ্য’।

একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ ও মিশ্রবর্ণের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য অলিখিত একটি নিয়ম মানতেন দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচকরা। ২০১৬ সাল থেকে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) বিষয়টিকে লিখিত নিয়মের আওতায় নিয়ে আসে। 

সেই নিয়ম অনুসারে দলে ছয়জন মিশ্রবর্ণের ক্রিকেটার থাকবেন, যার মধ্যে দুজনকে হতে হবে কৃষ্ণাঙ্গ। বাকি পাঁচ ক্রিকেটার হবেন শ্বেতাঙ্গ। দক্ষিণ আফ্রিকার এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে মিশ্রবর্ণের ক্রিকেটার আছেন ৬ জন- কাগিসো রাবাদা, রিজা হেনড্রিকস, বোরন ফরটুইন, কেশব মহারাজ, তাবারিজ শামসি, ওটনিল বার্টম্যান। এর মধ্যে রাবাদাই শুধু কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান। রিজার্ভ হিসেবে আছেন আরেক কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান লুঙ্গি এনগিডি। অর্থাৎ একাদশে দুই কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান খেলার কোনো সুযোগ নেই।

৩ জুন মিশন শুরু

আসন্ন বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান ডি গ্রুপে। যেখানে বাকি প্রতিপক্ষ হলো শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল ও নেদারল্যান্ডস। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল যাবে সুপার এইটে। সে ক্ষেত্রে গ্রুপ পর্ব পার হতে প্রোটিয়াদের তেমন বেগ পেতে হবে না। চ্যালেঞ্জ জমা থাকবে সুপার এইটের জন্য। ডি গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচেই ৩ জুন নিউইয়র্কে দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। এরপর ৮ জুন নেদারল্যান্ডস, ১০ জুন বাংলাদেশ ও ১৪ জুন নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে মার্করাম শিবির।  

প্রথম টি-টোয়েন্টি: ২১ অক্টোবর ২০০৫, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড

ম্যাচ: ১৭৪

জয়: ৯৬

হার: ৭৪

টাই: ১

পরিত্যক্ত: ৩

র্যাঙ্কিং: ৪

এইডেন মার্করাম: অধিনায়ক 

তরুণ-অভিজ্ঞ মিলে আমাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। বিশ্বকাপে আমাদের লক্ষ্য বড়। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই। গ্রুপ পর্বটা দাপটের সঙ্গে পার হতে পারলে আত্মবিশ্বাসটা বাড়বে। দারুণ একটা মিশনের অপেক্ষায় আছি।  


বিশ্বকাপ স্কোয়াড : এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ওটনিয়েল বার্টমেন, জেরাল্ড কোয়েটজে, কুইন্টন ডি কক, বোরন ফরটুইন, রেজা হেনড্রিকস, মার্কো জানসেন, হেইনরিখ ক্লাসেন, কেশভ মহারাজ, ডেভিড মিলার, এনরিখ নরকিয়া, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন, তাবারিজ শামসি, ত্রিস্টান স্টাবস।
ট্রাভেলিং রিজার্ভ: নান্দ্রে বার্গার, লুঙ্গি এনগিডি।