বিশ্বকাপের আগে সোমালিয়ার ফুটবল রেফারি ওমর আরতানকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার’ কারণে তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
এর আগে, হোয়াইট হাউস ফিফা টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, ‘আরতানকে খুবই যুক্তিসঙ্গত কারণে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হয়েছে’। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এক বিবৃতিতে জানায়, গত শনিবার নিরাপত্তার কারণে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আরতানকে ফেরত পাঠানো হয়। তবে এই জটিলতার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। কেনিয়ায় অবস্থিত সোমালিয়া দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য ভিসা দেওয়া হয়েছিল।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরতান জানান, মায়ামি বিমানবন্দরে কর্মকর্তারা তাকে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কারণ জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া সোমালিয়ার রাজনীতি ও সেখানে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আল-শাবাব সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। আরতান জানান, তিনি তাদের (কর্মকর্তাদের) ফিফার অফিশিয়াল কাগজপত্র এবং তার রেফারিং ক্যারিয়ারের বিভিন্ন ছবিও দেখান।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে একটি ডিটেনশন সেলে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে ইস্তাম্বুলগামী একটি ফ্লাইটে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখান থেকে তিনি কানেক্টিং ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
আরতান ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের সমস্যা আমার দেশকে নিয়ে।’ তিনি দাবি করেন যে তার কাছে বৈধ ভিসা ও সব সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন প্রবেশ করতে দেওয়া হলো না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
২০২৫ সালে আফ্রিকার সেরা রেফারি (পুরুষ) নির্বাচিত হওয়া আরতান দুই মাস আগে ফিফার চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। এর মাধ্যমে সোমালিয়ার ইতিহাসের প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার গৌরব অর্জন করার কথা ছিল তার। এই বিষয়ে ফিফা জানিয়েছে, অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে তারা জড়িত নয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে আরতানের বর্তমান অবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আরতানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাদের ওয়াশিংটন দূতাবাস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিফা কর্তৃক মনোনীত একজন ম্যাচ অফিসিয়ালকে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার এই ঘটনা অত্যন্ত নজিরবিহীন। সূচি অনুযায়ী, মিয়ামিতে রেফারিদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অন্য সহকর্মীদের সাথে যোগ দেওয়ার কথা ছিল আরতানের।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় যে প্রায় ৪০টি দেশের ওপর নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সোমালিয়া তার মধ্যে অন্যতম।
পাপ্পু/অনিক/