ফুটবলপ্রেমীদের উৎসবমুখর অংশগ্রহণে কক্সবাজারের টেকনাফে অনুষ্ঠিত হয়েছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাইক শোডাউন। অন্যদিকে শরীয়তপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল ও ট্রাকে চড়ে প্রিয় দলের পতাকা হাতে আনন্দ মিছিল করতে দেখা যায়।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ২টায় টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা শুরু হয়। দেশটির জাতীয় পতাকা, দলের জার্সি ও বিভিন্ন ব্যানারে সমর্থকদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে শেষ হয়।
পুরো শোভাযাত্রাজুড়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, স্লোগান ও প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ স্থানীয় মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ বহর এবং নীল-সাদা পতাকার সমারোহে টেকনাফজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে অনেকেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করেন।
বাইক শোডাউন শেষে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট। এতে কক্সবাজারের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইফতি ও সংগতি সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক, ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় হেলাল উদ্দিন জানান, ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ফুটবল বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। সেই চেতনা ধারণ করেই আমরা এই আয়োজন করেছি।’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ক্রীড়াপ্রেমী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও তরুণরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা এমন আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে শুক্রবার বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে ব্রাজিল সমর্থকরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেন। শতাধিক মোটরসাইকেল ও ট্রাকে চড়ে প্রিয় দলের পতাকা হাতে আনন্দ মিছিলে অংশ নেন তারা। সেখানে বাবাদের সঙ্গে তাদের ছোট্ট বাচ্চারাও ছিল। কেউ সন্তানকে কাঁধে তুলে, কেউ আবার মোটরসাইকেলের সামনে বসিয়ে শামিল হয়েছেন ব্রাজিলপ্রেমের এ উৎসবে। হলুদ-সবুজ রঙে মোড়া পুরো আয়োজনটি যেন ফুটবলকে ঘিরে পারিবারিক বন্ধন ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শোভাযাত্রা দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। ব্রাজিল সমর্থকদের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি করে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বয়সী সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ব্রাজিল সমর্থক পিতা-পুত্র ও কন্যাদের একসঙ্গে অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে অনেকেই ব্রাজিলের জার্সি পরে এবং দেশটির পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, ব্রাজিল ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। শোভাযাত্রাটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
ব্রাজিলের আনন্দ শোভাযাত্রায় শিশুপুত্র আজানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নিয়েছেন এস এম শাকিল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বলেন, ছোটবেলায় আমি ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ নিতে দেখেছি। সেই থেকে ব্রাজিলের সাপোর্টার। আজ ব্রাজিলের মহড়ায় আমার ছেলেকে নিয়ে এসেছি। জানিনা ও বড় হয়ে ব্রাজিলের সাপোর্টার হবে কি না? তবে এখন পর্যন্ত ও আমার দলেই আছে।
মহড়ায় বিএম ইস্রাফিল এসেছেন তার কন্যা ফাতেমা শখ ও ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী ও বড় ছেলে আর্জেন্টাইন সাপোর্টার। আমি, আমার ছোট ছেলে এবং ছোট মেয়ে ব্রাজিলের সমর্থক। আমি ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলের সমর্থক। আমার ছেলে-মেয়ে দুজনেরই ব্রাজিলের খেলা ভালো লাগে বলেই তারা ভীষণ ভক্ত। আমার ফুটবলের প্রতি যে অগাধ ভালোবাসা, সেটা আমার ছেলেমেয়েরা মূল্যায়ন করে। আজ ওদের সঙ্গে নিয়ে মহড়ায় এসে দারুণ সময় উপভোগ করলাম।
ব্রাজিল ফ্রেন্ডস ক্লাবের সমর্থক ও মহড়ার আয়োজক সালাউদ্দিন মুন্না বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও আমরা ব্রাজিল সমর্থকদের সমন্বয়ে একটি শোভাযাত্রা বের করেছি। আমাদের এই জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার ব্রাজিল ভক্তরা কয়েক শ মোটরসাইকেল ও ট্রাক নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে। আমরা খুবই আনন্দিত। এবার যেহেতু ব্রাজিল দলে নেইমার ফিরেছে, তাই আমরা আশা করছি বিশ্বকাপ জিতে নেব।