গতকাল (৯ এপ্রিল) ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শুলশান ক্রিকেট ক্লাব ও শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচে বেশ কয়েকটি আউটের ধরন নিয়ে হচ্ছে সমালোচনা। জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতেই এক ব্যাটারের আউটের ধরন নিয়ে সন্দেহের জন্ম নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে শাইনপুকুরের ব্যাটার মিনহাজুল আবেদিন সাব্বির উইকেট থেকে বেরিয়ে আসেন বড় শট খেলার জন্য সেসময় গুলশান ক্লাবের নাইম ইসলাম বলটি ওয়াইড করেন। উইকেটকিপার বল হাতে নিয়ে প্রথম প্রচেষ্টায় উইকেট ভাঙতে ব্যর্থ হলেও পরে চেষ্টায় উইকেট ভাঙেন। ততক্ষণে ব্যাটার সাব্বির একবার লাইনে ব্যাট প্রবেশ করিয়েও তা আবার বের করে ফেলেন। তার এমন আউটের ধরন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস।
ইমরুল কায়েস তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘আসসালামুয়ালাইকুম, আজকে আমি হৃদয় থেকে ক্ষোভ নিয়ে কিছু কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি। মিডিয়া, ক্রিকেটার, সাংবাদিক, ধারাভাষ্যকার—সবাই আজ একটা ঘটনায় স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ। কারণটা খুব পরিষ্কার—ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আজ যে কাজটা হয়েছে, সেটা শুধু লজ্জাজনক না, এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করেছে।’
সাধারণ বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঘরোয়া লিগে ম্যাচ নিয়ে আগে থেকেই রয়েছে অনেক অভিযোগ। ম্যাচ পাতানো থেকে শুরু করে পক্ষপাতিত্বমূলক আম্পয়ারিংয়ের অভিযোগটা বেশ পুরোনো।
পরিকল্পিতভাবে অন্য একটি দলকে সুপার লিগে উঠতে না দেওয়ার জন্য দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে বলে অভিযোগ ইমরুলের। ‘একটা দলকে সুপার লিগে উঠতে না দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে আরেক মাঠে দুই দল নিজেদের মধ্যে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে! এটা কী ধরনের নাটক? আজকের সেই ম্যাচের ভিডিও প্রমাণসহ নিচে রয়েছে—আপনারা নিজেরাই দেখুন, বিচার করুন।’
ঘরোয়া লিগের ক্রিকেটাররাই উঠে আসেন জাতীয় দলে। একসময় তারাই জাতীয় দলের দায়িত্ব সামাল দেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই অবস্থা দেখে ভবিষ্যত নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কায়েস, ‘এই যদি হয় আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের অবস্থা, তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে কারা খেলবে? কাদের হাতে আমরা তুলে দিচ্ছি দেশের পতাকা? যারা মাঠে নামার আগেই ম্যাচের ফয়সালা করে নেয়, তাদের দিয়ে কী দেশের প্রতিনিধিত্ব হয়? লজ্জা! যাদের ব্যবহার করে এসব নোংরা খেলা খেলানো হচ্ছে, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, কারণ ওরা আজ নিজেরাই নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছে।’
গতকাল থেকে এখন শাইনপুকুরের ব্যাটারদের আউটের ধরন নিয়ে সমালোচনা চলমান। ইচ্ছাকৃতভাবে আউট হওয়ার অভিযোগ তুলছেন সবাই। অভিযুক্তদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের, ‘আমি জোরালোভাবে দাবি জানাই—এদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা এই কাজে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। আর যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত আজকের ম্যাচ বাতিল করে পুনরায় রিশিডিউল করা উচিত। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এভাবে শেষ হতে দেওয়া যায় না। আজকে চুপ থাকলে, কাল হয়তো আর কিছু বলার সুযোগ থাকবে না।’