তিনি পুরোপুরি ফিট, আত্মবিশ্বাসী এবং রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে আছেন। বলা হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কথা, যিনি ফিটনেস প্রশ্নে নিজেই জানিয়েছে এমন কথা।
পর্তুগিজ যুবরাজ চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই খেলেছেন। যদিও কোনো গোল করতে পারেননি অধিনায়ক। তাই অনেকেই সন্দিহান তার ফিটনেস নিয়ে। এজন্যই প্রশ্নটা সামনে চলে আসে, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পর্তুগাল দলের যাত্রার আগ মুহূর্তে। তখন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো খানিকটা রসিকতার সুরেই বলেন, ‘শারীরিকভাবে? আমি ভালো আছি। আপনারা কি আমার ম্যাচগুলো দেখেননি?’
একই সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। তার কথায়, ‘প্রস্তুতি ভালো হয়েছে, যদিও বেশ ক্লান্তিকর ছিল, কারণ আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু আসল বিষয় শুরু হবে ১৭ তারিখে, প্রথম ম্যাচে। তখনই চাপ বাড়বে এবং তখনই বোঝা যাবে প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন কারা।’ আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। টেক্সাসের হাউস্টন স্টেডিয়ামে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (২২৭) ও সবচেয়ে বেশি গোলের (১৪৩) রেকর্ড এখনো রোনালদোর দখলে। ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা বিশ্বকাপ ট্রফি। সেই স্বপ্ন পূরণেই এবার মাঠে নামছেন তিনি। পর্তুগাল বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার কি না—এমন প্রশ্নে রোনালদো বলেন, ‘এর উত্তর আমরা টুর্নামেন্টের শেষে জানতে পারব। আমরা সবাই খুবই রোমাঞ্চিত। বিশ্বকাপ সব সময়ই বিশেষ একটি আসর, ঠিক ইউরোর মতো। তাই আমরা অনেক আশা নিয়ে সেখানে যাচ্ছি।’
পর্তুগাল কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তাদের সেরা সাফল্য ১৯৬৬ সালে তৃতীয় হওয়া। তবে এবার শক্তিশালী দল নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে ইউরোপের দেশটি। ব্রুনো ফার্নান্দেজ দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়ে এসেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তিনি এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২১ অ্যাসিস্ট করে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। পাশাপাশি মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন।
এছাড়া নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনহা এবং গনসালো রামোস—এই চারজন পিএসজির লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রোনালদো বলেন, ‘আমাদের দারুণ একটি প্রজন্ম রয়েছে। তবে কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ম্যাচে জয় বা পরাজয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই প্রজন্ম পর্তুগালের মানুষকে অনেক আনন্দ উপহার দেবে।’
এ মৌসুমে আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগ জয় করা রোনালদো বিশ্বকাপে ভালো শুরুর গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, ‘মূল বিষয় হলো ভালো শুরু করা এবং গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করা। এরপর এক ম্যাচ করে এগোতে হবে। ধাপে ধাপে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের ছন্দ খুঁজে নিতে হবে। অনেক কিছুর ওপর সবকিছু নির্ভর করবে, তবে আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে সবকিছু ভালোই হবে।’