ডেনমার্ক ও ইউক্রেনের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচে হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়েন ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডেনিশ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং বর্তমানে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল (৭ জুন) রাতে ৩৪ বছর বয়সি এরিকসেন ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বুকে হাত দিয়ে হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান। ডেনমার্কের ওডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি পরিচালনা করছিলেন নরওয়ের রেফারি সিগার্ড। ঘটনার পর খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় ৭৯ মিনিটে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
ডেনমার্ক জাতীয় দলের চিকিৎসক মর্টেন বোয়েসেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তিনি কিছু সময়ের জন্য অচেতন ছিলেন, তবে খুব দ্রুতই জ্ঞান ফিরে পান।’
এটি প্রথমবার নয়। ২০২১ সালের জুনে ২০২০ ইউরোতে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে কোপেনহেগেনে হৃদ্রোগজনিত জটিলতায় মাঠেই লুটিয়ে পড়েছিলেন এরিকসেন। তখন তার হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং মাঠেই জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়।
সেই ঘটনার পর তার শরীরে হৃদ্স্পন্দন নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ যন্ত্র, ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভার্টার-ডিফিব্রিলেটর (আইসিডি) স্থাপন করা হয়। পরে ইন্টার মিলান ছাড়তে বাধ্য হলেও মাত্র আট মাসের মধ্যে ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে মাঠে ফিরে নিজের ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু করেন।
সাম্প্রতিক ঘটনার সময় ডেনমার্ক ও ইউক্রেনের খেলোয়াড়রা এরিকসেনকে ঘিরে একটি বৃত্ত তৈরি করেন, যাতে তার চিকিৎসা নির্বিঘ্নে করা যায়। স্টেডিয়ামে তখন নেমে আসে নীরবতা। কিছুক্ষণ পর গ্যালারিজুড়ে ধ্বনিত হতে থাকে, ‘এরিকসেন, এরিকসেন।’
ডা. বোয়েসেন আরও বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ান ভালো আছে এবং নিজে হেঁটেই মাঠ ছেড়েছে। আমার পর্যবেক্ষণে, তার পেসমেকার ঠিক যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবেই কাজ করেছে।’ যোগ করেন, ‘তিনি অল্প সময়ের জন্য অচেতন ছিলেন, কিন্তু খুব দ্রুত জ্ঞান ফিরে পান। আমরা দ্রুতই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হই।’
‘এখন হাসপাতালে তার আরও কিছু পরীক্ষা করা হবে, যাতে বোঝা যায় ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা তার এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। ক্রিস্টিয়ান ভালো আছে। সে আমাকে বলেছে খেলোয়াড়দের কাছে তার শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে এবং জানাতে যে সে ঠিক আছে।’
এরিকসেনের বর্তমান ক্লাব ভিএফএল ভলসবুর্গ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, ‘আমরা তোমার কথা ভাবছি, ক্রিশ্চিয়ান।’ ক্লাবটি জানিয়েছে, তারা ডেনিশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। বার্তায় আরও বলা হয়, ‘তোমার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
সাবেক ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারও সমর্থন জানিয়ে লিখেছে, ‘ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন ও তার পরিবারের পাশে আমাদের চিন্তা রয়েছে। দ্রুত এবং পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি। আমরা সবাই তোমার সঙ্গে আছি।’
একইভাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, যেখান থেকে ২০২৫ সালে বিদায় নিয়েছিলেন এরিকসেন, এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ডেনমার্কের পক্ষ থেকে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন সম্পর্কে পাওয়া ইতিবাচক খবরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সবাই উৎসাহিত। পরবর্তী খবরের অপেক্ষায় আমরা ক্রিশ্চিয়ান এবং তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও শক্তি পাঠাচ্ছি।’
২০২১ সালে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে লুটিয়ে পড়ার সময়ও সতীর্থরা তাকে ঘিরে মানববেষ্টনী তৈরি করেছিলেন, যাতে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা পায়। প্রায় ১০ মিনিট চিকিৎসা দেওয়ার পর স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়।
পরে ম্যাচটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। জরুরি বৈঠকের পর খেলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় দল দুটি। সেই ম্যাচে ফিনল্যান্ড ১-০ গোলে জয় পায়। অবাক করার মতো বিষয়, সেদিন ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হয়েছিলেন এরিকসেন।
ডেনিশ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত এরিকসেন তার সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন আয়াক্সে। এরপর টটেনহ্যামের হয়ে ৩০৫ ম্যাচে ৬৯ গোল এবং ৮৮ অ্যাসিস্ট করেন।
২০২০ সালে তিনি ইন্টার মিলানে যোগ দেন। প্রথমবার মাঠে লুটিয়ে পড়ার ঘটনার পর আট মাস ক্লাববিহীন ছিলেন। পরে ব্রেন্টফোর্ডে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে তিন মৌসুম খেলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। এখন আছেন ভলসবুর্গে।
অনিক/