আবুধাবির খালিদিয়া এলাকায় চট্টগ্রামের বাসিন্দা নিশাত আনোয়ারের শামস নামে রেস্টুরেন্টে যারা এসে নাস্তা করছেন তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। নাস্তা খাওয়ার ফাঁকে তারা আলোচনা করছেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। যে আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে ডাকসু নির্বাচন। কিন্তু সন্ধ্যায় যে হংকংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা, এ নিয়ে কারও মুখ থেকে একটি শব্দও বের হয়নি। নিজ থেকে ম্যাচের কথা একটু মনে করিয়ে দিলে, তাতেও তাদের ভাবাবেগের কোনো পরিবর্তন হতে দেখা যায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম আসা ২০১৮ সালে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্ট কাভার করতে। সেবার টুর্নামেন্ট ছিল ওয়ানডে ফরম্যাটে। এরপর ২০২১ সালে আবার আসা হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে। কিন্তু আগের দুইবারের সঙ্গে এবারের মরুর বুকে আসাটা মেলানোই যাচ্ছে না। আগের দুইবার যেখানে বাংলাদেশ দলের খেলা নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে, সেখানে এবার তা শেয়ারবাজারের দরপতনের মতো অস্বাভাবিকভাবে কমে এসেছে!
এবার এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুবাই আর আবুধাবিতে। ‘বি’ গ্রুপের সব খেলা আবুধাবিতে। ‘এ’ গ্রুপের খেলাগুলো হবে দুবাইতে। একটি ম্যাচ বাদে সুপার ফোর থেকে ফাইনাল পর্যন্ত আবার সব খেলা দুবাইতে। এই আবুধাবিতে খেলা হওয়ার কারণেই বাংলাদেশের ম্যাচে দর্শক কম হওয়ার কারণ বলে মনে করেন এখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর আগে বাংলাদেশ দল অনেক ম্যাচ খেলেছে আবুধাবিতে। তবে আবুধাবিতে খেলা হলেও বাংলাদেশ দল থেকেছে দুবাইয়ে। সেখানে অনুশীলন করে আবুধাবি এসে ম্যাচ খেলে গেছে। দর্শকের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। কিন্তু এবার বাংলাদেশের সবগুলো ম্যাচই হবে আবুধাবিতে। যে কারণে বাংলাদেশ দলও থাকছে আবুধাবিতে। সবগুলো ম্যাচ হওয়ার কারণে প্রবাসীরা ম্যাচ দেখার ব্যাপারেও কিছুটা কৌশলী, কিছুটা হালকাভাবে নিয়েছেন। যেকোনো একটা ম্যাচ দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেশিরভাগই।
আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন দুবাই ও শারজাহতে। সেখানে বাংলাদেশ যখনই যার বিপক্ষেই প্রতিপক্ষ যে দলই হোক না কেন খেলেছে, দর্শক উপস্থিতি থাকতো চোখে পড়ার মতো। সে তুলনায় আবুধাবিতে প্রবাসীদের বসবাস তুলনামূলক কম। একেতো কম, আবার সেখানে একাধিক ম্যাচ। সবগুলো ম্যাচ তাদের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। তাই তারা ম্যাচ দেখার ব্যাপারে নিজেদের পছন্দকে বেছে নিয়েছেন অনেকেই। এর মাঝে আবার প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল হংকং হওয়াতে দর্শক উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। ম্যাচের শুরুতে শ খানেক দর্শকও উপস্থিত ছিলেন না! সন্ধ্যার পর তা বেড়ে দুই/তিন শর মতো হয়েছে।
আবুধাবির খালিদিয়া এলাকায় বসবাস করেন প্রবীণ দাউদ ইব্রাহীম। জোহরের নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি যাব না। তাছাড়া মানুষের আগ্রহ কম। আবার ওয়ার্কিং ডে পড়েছে। বন্ধের দিন হলে হয়তো অনেকেই যেতেন।’ একই এলাকায় থাকেন সন্দ্বীপের দেলোয়ার হোসেন। তাও কোনো ইচ্ছা নেই মাঠে গিয়ে খেলার দেখার। আলফালাহ স্ট্রিটে থাকেন নারায়ণগঞ্জের ইয়াসিন সিকদার। ক্রিকেটের খোঁজখবর সব সময় রাখেন। কিন্তু মাঠে যাওয়ার আগ্রহ কম। কারণ সময়ের অভাব। তারপরও মাঠে অনেকেই এসেছিলেন। তাদেরই একজন মুসাফা শহরের বাসিন্দা সাদেক। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের প্রতি সব সময় আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করে। তাই মাঠে ছুটে এসেছি। তবে এত দর্শক কম যে হবে তা ভাবিনি।’ তিনি জানান আবুধাবিতে বাংলাদেশের কোনো ম্যাচে এত কম দর্শক এর আগে কখনো হয়নি। তার ধারণা হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ হওয়াতে হয়তো দর্শক কম হয়েছে। পরের ম্যাচগুলোতে দর্শক অনেক বেশি হবে। আল মুল্লাহ এলাকা থেকে হাসান, জাভেদসহ তিন-চারজনের একটি দল এসেছে। তারা জানান বাংলাদেশের খেলা হলে তারা সব সময় এসে থাকেন। পরের ম্যাচগুলোও তাদের দেখার ইচ্ছা আছে। কিন্তু নিশ্চিত নন।
পলাশ/নিলয়/